fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

একেই বলে ভাগ্য! কোটিপতি হলেন এক মৎস্যজীবী

বাবলু প্রামানিক, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কথায় আছে কপালের নাম গোপাল। তবে তা বাস্তবে পরিণত হল সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামের এক মৎস্যজীবীর পরিবারের । ভাঙাচোরা ঘরের চাঁদের আলোতে কোনও মতে সংসার চলে নদীতে নদীতে কাঁকড়া ধরে বাজারে কাঁকড়া ধরে। সেই টাকা থেকে কিছু টাকা সংরক্ষণ করে একটু লটারি টিকিট কাটার নেশা ছিল মৎস্যজীবী। আর সেই লটারির টিকিটে আজ সে কোটিপতি। এমনই ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী থানার চড়াবিদ্যা অঞ্চলের ৭ নম্বর কুমড়োখালি গ্রামে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাত নম্বর কুমড়োখালি গ্রামের বাসিন্দা মৎস্যজীবী সুভাষ দোলুই। তাঁর স্ত্রী চার সন্তান এবং বৃদ্ধ বাবা ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে তার সংসার। প্রতিদিন সুন্দরবনের নদীতে নদীতে কাঁকড়া ধরে। সেই কাঁকড়া বাজারে বিক্রি করে যে টাকাটা সে পায় তাই দিয়ে তার কোনও মতে সংসার চলে দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে। আর এই আয় থেকে মৎস্যজীবী কিছু টাকা সংরক্ষণ করে রাখতো। সেই সংরক্ষণের টাকা থেকে মৎস্যজীবী লটারি কাটতো প্রায় দিন। ঠিক ১ ডিসেম্বর সরবেড়িয়া বাজারে ভীম সরদারের লটারির দোকান থেকে ডি আর সিকিম কোম্পানির একটি লটারি কাটে মৎস্যজীবী সুভাষ দোলুই। সেই লটারির টিকিট নম্বর ছিল ৫০ বি ৪০১৩৩। যার প্রথম পুরস্কার ছিল এক কোটি টাকা। বুধবার লটারি খেলা হলে সেই লটারিতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে নম্বর মিলে যায় মৎস্যজীবী সুভাষ দোলুই টিকিট নম্বর। বৃহস্পতিবার লটারি কোম্পানি এক কোটি টাকা তুলে দেন মৎস্যজীবী সুভাষ দোলুইকে। আর এই টাকা পেয়ে রাতারাতি ভাগ্য খুলে গেল মৎস্যজীবী সুভাষ দোলুইয়ের। আর এই টাকা পেয়ে সে এখন কোটিপতি। ফলে খুশি মৎস্যজীবীর পরিবারের সদস্যরা।

 

তবে এ বিষয়ে মৎস্যজীবী সুভাষ দোলুই বলেন নদীতে নদীতে,খালে বিলে কাঁকড়া ধরে বাজারে বিক্রি যে টাকা পায় তা দিয়ে কোন মতে সংসার চলে।তবে আমার লটারির টিকিট কাটার একটু নেশা ছিল। গত ১ ডিসেম্বর একটি লটারির টিকিট কাটি ডি সিকিম কোম্পানির।যার প্রথম পুরস্কার ছিল এক কোটি টাকা।সেই লটারি খেলা হলে আমার টিকিট নম্বর মিলে যায়।যার নম্বর ৫০ বি ৪০১৩৩। আমি লটারি কোম্পানি থেকে টাকা পেয়েছি। আমার তিন মেয়ে এক ছেলে স্ত্রী বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা বাবা মাকে নিয়ে সংসার। এই টাকা দিয়ে আমি চার মেয়েকে লেখা পড়া শিখিয়ে মানুষের মতন মানুষ করে তুলবো। আর ভাঙচুরা ঘরটি মেরামতি করবো। এদিকে এই লটারি টিকিটে যাতে টাকা পায় তার জন্য এগিয়ে আসে প্রতিবেশী শিবনাথ মন্ডল। যেহেতু মৎস্যজীবী সুভাষ দোলুই লেখা পড়া জানে না।তাই সম্পূর্ণ ভাবে এগিয়ে এসে সব ধরনের সহযোগিতা করে মৎস্যজীবী কে সমাজসেবক শিবনাথ মন্ডল।

 

Related Articles

Back to top button
Close