fbpx
অন্যান্যঅফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ডেবরায় দুই মমতাময়ীর মানবিকতায় প্রতিবন্ধী ছেলেকে খুঁজে পেল সারেঙ্গার আরেক মা, সৌজন্যে ফেসবুক!

 তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: ডেবরা থেকে সারেঙ্গার দূরত্ব ১০০ কি.মি বটে! তবে মনের মানবিকতায় সেই দূরত্বকে জয় করে এক মায়ের ছেলেকে বুকে জড়িয়ে তৃপ্ত হাসির ঝলকের সাক্ষী রইল ডেবরাবাসি, এবং অবশ্যই এর কৃতিত্ব সেই যুবক যিনি ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়েছিলেন।

বিগত সাতদিন আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানার অন্তর্গত হাওড়া-মুম্বই ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে হরিমতী উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের মাঠের এক বটগাছের তলায় মুক ও বধির মহীতোষ দুলেকে দেখতে পান মমতা মিশ্র। পায়ে  তার দগদগে আঘাতের চিহ্ন। মায়ের মতো পরম মমতায় তিনি তাকে খাইয়ে যত্ন করে লালন করছিলেন। স্থানীয় কিছু যুবক এই বিষয়টি দেখে ফেসবুকে পোষ্ট করেন। সেই পোষ্ট দেখেই ছুটে আসেন ডেবরা রাধামোহনপুরের আরেক বাসিন্দা শ্রাবন্তী দাস। তিনি পেশায় একজন আশাকর্মী।

  আরও পড়ুন: এবার নয়ডায় হবে দেশের বৃহত্তম ফিল্ম সিটি, ঘোষণা যোগী আদিত্যনাথের

এরপর  ইশারায় ওই  কিশোরের সঙ্গে কথাবার্তা বলে শ্রাবন্তী বুঝতে পারেন ছেলেটি কোনও গৃহস্থ পরিবারের, যে পথ হারিয়ে চলে এসেছে।  জাতীয় সড়ক ধরে আসার পথে গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়েছে কিশোর। এরপর তিনি তার ক্ষতস্থান ধুইয়ে ওষুধ লাগিয়ে যত্ন করে ব্যান্ডেজ বেঁধে দেন। দুই মায়ের যত্নে কিশোর অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। এরপর শ্রাবন্তী বৃহস্পতিবার ছেলেটির ছবি সহ নিজের ফোন নম্বর দিয়ে সন্ধ্যায় আবার ফেসবুকে পোষ্ট করেন এবং পোষ্ট করার পর প্রচুর শেয়ারও হয়। ২ ঘন্টা পরেই ফোন পান, এক ব্যাক্তি জানান ছেলেটি তাঁদের গ্রামের।

রাত ১২টা নাগাদ ওই ব্যক্তি এবং কিশোরের মা বাবার সঙ্গে কথা হয় শ্রাবন্তীর। উনি তাঁদের ঠিকানা জানিয়ে দিলে মধ্যরাতেই গাড়ি ভাড়া করে রওনা দেয় ছেলেটির পরিবার। তারপর সকালে পৌঁছে যান হরিমতী স্কুলের মাঠে। এরপর দুই মায়ের কাছ থেকে নিজের মায়ের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়া শুক্রবার সকালে, ১০দিন পরে বাঁকুড়ার সুমন্ত দুলে নিজের মাকে পেয়ে যখন তাঁর কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ল তখন ডেবরার দুই মা মমতা মিশ্র আর শ্রাবন্তী দাসের চোখে আনন্দের জল।

মা আর নিজের পরিবারকে দেখে কিশোর যে ভাবে আনন্দে উদ্বেল হয়ে পড়েছিল, আর ওঁদের আনা গাড়িতে বসে ইশারায় বলেছিল আমাকে এখুনি বাড়ি নিয়ে চলো, তার চেয়ে আর বড় কিছু পরিচয় হয় না।” সন্তানকে ফিরে পেয়ে খুশির কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মহীতোষের মা লক্ষী দেবী । মমতা ও শ্রাবন্তীর পাশাপাশি সমগ্র ডেবরাবাসীকেই নিজের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গেছেন, বলেছেন “আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দিয়ে আমাকে কৃতজ্ঞতার পাশে বেঁধে রাখল ডেবরা। এই ঋণ আমি কোনও দিনও ভুলতে পারব না।”

এই কৃতিত্ব মমতা মিশ্র আর ডেবরাবাসীরই। মমতা যে ভাবে গত কয়েকদিন ধরে কিশোরকে সারাক্ষন আগলে রেখেছেন, যত্ন করেছেন, আর ডেবরাবাসী এত পরিমানে ওই পোষ্ট শেয়ার করেছে তাই এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে। দুই মমতাময়ী মায়ের প্ৰচেষ্টা আর জুকারবার্গের ফেসবুক! এই দুইয়ের হাত ধরে পরিবারের নিখোঁজ হওয়া মুক ও বধির সন্তানকে ফিরে পেল বাঁকুড়া জেলার সারেঙ্গা থানার আমঝোল গ্রামের মা।

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close