fbpx
অফবিটদেশহেডলাইন

সম্প্রীতির নজির, অযোধ্যার ভূমিপুজোয় যোগ দিতে ৮০০ কিলোমিটার হাঁটলেন মুসলিম যুবক

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণকে ঘিরে দেশবাসীর মনে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। আর এই মন্দির নির্মাণ হিন্দু ও মুসলিম এই দুই ধর্মের মানুষের বিভেদ ঘুঁচিয়ে দিয়েছে। দেশে এমনই এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটল। ছত্তিশগঢ়ের ফৈয়াজ খান ভগবান শ্রীরামের আশ্রয় নিয়েছেন। রামভক্ত এই মুসলিম যুবক ৮০০ কিলোমিটার পথ হেঁটে পেরচ্ছেন, ৫ আগস্ট অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমি পুজোয় হাজির থাকবেন বলে।

জানা গিয়েছে, ছত্তিশগঢ়ের চন্দখুড়ি গ্রামের বাসিন্দা ফৈয়াজ। বলা হয়, এই চন্দখুড়ি গ্রাম নাকি রানি কৌশল্যার জন্মস্থান। তার মাটিও পবিত্র। সেই পবিত্র স্থান থেকে মাটি সংগ্রহ করে ফৈয়াজ রওনা দিয়েছেন অযোধ্যার উদ্দেশে। দূরত্বের হিসেব ছত্তিশগঢ়ের চন্দখুড়ি থেকে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা ৮০০ কিলোমিটারের একটু কমবেশি। এ বিষয়ে ফৈয়াজ বলছেন, ”নাম এবং ধর্ম অনুযায়ী আমি মুসলিম। কিন্তু বরাবর রামচন্দ্রের ভক্ত। আমার পূর্বপুরুষরা হিন্দু ছিলেন। আমি জানি, ভারতের আসল দেবতা রামই। বংশগতভাবে আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী।”

         আরও পড়ুন: হাসপাতাল থেকে পলাতক করোনা রোগীর দেহ উদ্ধার হল ঝোপ থেকে

স্বাভাবিকভাবেই এখন প্রশ্ন উঠছে এমন অস্থির সময়ে রামের প্রতি ভক্তিপ্রকাশের জন্য কোনও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়নি কখনও? এই প্রশ্নের উত্তরে ফৈয়াজ হেসেই দিয়েছেন, ”পাকিস্তানের কেউ কেউ ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়ে হিন্দু অথবা মুসলিম নাম নিয়ে ভারতে ঢুকে পড়ছে। আর তাদের লক্ষ্য, ভারতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা। পাকিস্তান তো রাম মন্দির তৈরি নিয়েও এদেশের মধ্যে সাম্প্রদায়িক অশান্তি করার চেষ্টা করছে।”

তবে এই প্রথম নয়, দেশের বিভিন্ন হিন্দু মন্দিরে পুজো দেওয়ার জন্য তিনি অন্তত ১৫ হাজার কিলোমিটার পথ হেঁটেছেন বলে জানালেন ছত্তিশগঢ়ের যুবক। রাত কাটিয়েছেন বিভিন্ন মঠ, মন্দিরে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়ে ফৈয়াজ বলছেন, ”আমাকে কেউ কখনও কোনও কথা শোনায়নি।” ফৈয়াজরাই আসলে ভারতের মুখ। প্রকৃত ধার্মিক। ফৈয়াজদের জন্য বারবার উড়তে পারে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার জয়পতাকা।

Related Articles

Back to top button
Close