fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

দীর্ঘ ছ’বছর জেলে কাটিয়ে জামিনে মুক্ত হলেন ওড়িশার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ ছ’বছর জেলে থাকার পর জামিনে জেলের বাইরে বেরোতে চলেছেন ওড়িশার কুখ্যাত এক মাওবাদী নেতা। জানা গিয়েছে, বুধবার ওড়িশা হাইকোর্ট ওই মাওবাদী নেতার জামিন মঞ্জুর করে। ওই মাওবাদী নেতার নাম হল নচিকা লিঙ্গা।

সম্প্রতি ওই মাওবাদী নেতার আইনজীবী শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলে, সুপ্রিম কোর্ট জামিনের আবেদনের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলে গত সপ্তাহেই হাইকোর্টে নির্দেশ দেয়। আর তার পরেই বুধবার ওড়িশা হাইকোর্টের এই রায়। বুধবার হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি একে মিশ্রা ৪৭ বছর বয়সি মাওবাদী নেতা নচিকা লিঙ্গার জামিন মঞ্জুর করেন। এ বিষয়ে নচিকার আইনজীবী প্রশান্ত জেনা জানিয়েছেন, হাইকোর্ট জামিনের জন্য কোনও শর্ত আরোপ করেনি। কোরাপুট ট্রায়াল কোর্টের উপর বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছে। কোরাপুট কোর্ট হাইকোর্টের আদেশ কার্যকর করার পরেই জেলের বাইরে পা রাখবেন নচিকা ।

        আরও পড়ুন: মন্দিরের পুরোহিতকে ব্যাট দিয়ে মারধর, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও

প্রসঙ্গত, জেলে যাওয়ার আগে ওড়িশার কোরাপুট জেলায় ‘চাষি মুলিয়া আদিবাসী সংঘ’র নেতৃত্ব দিতেন লিঙ্গা। সিপিআই-মাওবাদীদের এটি একটি সংগঠন। ওড়িশার নারায়ণপটনা ও বন্ধুগাঁও ব্লকে সংক্রিয় ছিল মাওবাদীদের এই সংগঠনটি। ২০১৪ সালে নিজের গ্রাম পোড়াপড়ার কাছে ওডিশা পুলিশের হাতে ধরা দেন এই মাওবাদী নেতা। লিঙ্গার আত্মসমর্পণে মাওবাদীরা তাঁর উপর ক্ষুব্ধ হন। নারায়ণপটনার মজদুর লিঙ্গা ২০০৬ সালে গড়ে তোলেন ‘চাষি মুলিয়া আদিবাসী সংঘ’। কোরাপুটের নারায়ণপটনা ব্লকে পড়াপড়র গ্রাম পঞ্চায়েতে আদিবাসীদের জমি নয় এমন ৫০ একর জমির দখল নেন। এর পরেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

২০০৮ সালে তাঁকে যাবতীয় অভিযোগ থেকে খালাস করা হয়। এর পর চাষি মুলিয়া আদিবাসী সংঘের কয়েক জনকে সঙ্গে তৈরি করেন আর একটি সংগঠন। যার নাম দেন ঘেনুয়া বাহিনী। লাল জামা পরে তির-ধনুক নিয়ে ঘুরত এই বাহিনী। ঘেনুয়া বাহিনীর কাজ ছিল আদিবাসী নয় এমন লোকেদের জমিজমা, সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া। এই ঘেনুয়া বাহিনীর অত্যাচারে অনেকেই নিরাশ্রয় হয়ে পড়েন। পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা হতে থাকে।

২০০৯ সালে নারায়ণপটনা থানায় সশস্ত্র হামলা চালায় লিঙ্গার বাহিনী বলে অভিযোগ। এরপরই বাধ্য হয়ে পুলিশকে গুলি চালাতে হয়। ঘটনার জেরে নিহত হন দুই আদিবাসী। পুলিশের এক ইনস্পেক্টর গুরুতর জখম হন। এই ঘটনার পরেই পুলিশের খাতায় মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি হয়ে ওঠেন এই মাওবাদী নেতা।

Related Articles

Back to top button
Close