fbpx
কলকাতাহেডলাইন

করোনার ভয়ে অবহেলা সকলের, বাড়িতে ৬ ঘণ্টা সংজ্ঞাহীন পড়ে থেকে মৃত্যু বৃদ্ধার

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: করোনা আতঙ্ক যেন চূড়ান্ত অমানবিক করে তুলেছে মানুষকে। আচমকা অসুস্থ হয়ে নিজের বাড়ির দরজায় সংজ্ঞাহীন হয়ে প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে পড়ে রইলেন ৭০ বছরের এক বৃদ্ধা। কিন্তু চোখের সামনে থেকে পড়ে থাকতে দেখলেও করোনাতঙ্কে তাঁকে ছোঁয়ারও কারোর সাহস হল না।

 

যদিও করোনা আক্রান্তই ছিলেন না ওই বৃদ্ধা। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে ছায়া চট্টোপাধ্যায় নামে ওই বৃদ্ধার। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর থানা এলাকার বৃন্দাবন পাল লেনে।

আত্মীয়স্বজন থেকে পাড়ার প্রতিবেশীরা সকলেই স্বীকার করেছেন, চোখের সামনে ওই বৃদ্ধাকে পড়ে থাকতে দেখলেও করোনার ভয়েই তারা ছুঁতে সাহস পাননি। ফলে কার্যত বিনা চিকিৎসায় ঘরের মেঝেতে পড়ে মৃত্যু হয় ওই ৭০ বছরের বৃদ্ধার। জানা গিয়েছে, ওই এলাকার একটি বাড়ির একতলায় একা ভাড়া থাকতেন বৃদ্ধা ছায়া চট্টোপাধ্যায়। স্বামী অনুপ চট্টোপাধ্যায় অনেক বছর আগে মারা গিয়েছেন। ছায়াদেবীর দেওর অমিত চট্টোপাধ্যায় থাকেন বাড়ির অন্যদিকে।
পাড়ার বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, বৃদ্ধার পায়ে একটা সংক্রমণে গত কয়েকদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। এ দিন সকালে সাড়ে ৯টা নাগাদ অমিত বাবুই ছায়া চট্টোপাধ্যায়কে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। কিন্তু তাকে দেখে কেউ এগোতে সাহস পাননি। প্রতিবেশীদের একাংশের দাবি, তাঁরা স্থানীয় এক চিকিৎসককে খবর দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই চিকিৎসক আসতে অস্বীকার করেন। এর পর পাড়ার বাসিন্দারা থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে বৃদ্ধাকে নিয়ে যায়।
অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সকাল সাড়ে ৯ টা ঘটনা হলেও দুপুর পৌনে ৩টে নাগাদ তাঁরা খবর পেয়ে ৩টে নাগাদ তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বৃদ্ধাকে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা জানান, ২-৩ ঘন্টা আগেই মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধার। পুলিশের দাবি, সময় মতো চিকিৎসা করা গেলে হয়তো প্রাণ বাঁচানো যেত বৃদ্ধার। কিন্তু করোনা ভয়ে আতঙ্কিত এলাকার মানুষের জন্য কার্যত বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হল বৃদ্ধার। এমনকি তাদেরও অনেক দেরি করে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা আগে এসে পৌঁছলেও বৃদ্ধাকে বাঁচানোর চেষ্টা করা যেত।

Related Articles

Back to top button
Close