fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

উচ্চমাধ্যমিকে ৪৭১ নম্বর পেলেন দুঃস্থ আদিবাসী ঘরের সন্তান হোপনা বাস্কে

হিতৈষী দেবনাথ,আলিপুরদুয়ারঃ আলিপুরদুয়ার ২ নং ব্লকের শামুকতলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বানিয়া গাঁও গ্রামের দরিদ্র আদিবাসী ঘরের সন্তান হোপনা বাস্কে এবছর উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৭১ নম্বর পেয়ে তাক লাগালেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হোপনা উচ্চমাধ্যমিকে এই ফল করে ভবিষ্যতে, ডব্লিউবিসিএস অফিসার অথবা প্রফেসর হতে চান।

 

কিন্তু তার এই স্বপ্ন সফল করতে যে অর্থের প্রয়োজন সেই টাকা কোথা থেকে আসবে সেই চিন্তাতেই রয়েছে হোপনা সহ তার গোটা পরিবার। দিনমজুরের কাজ করা হোপনার বাবা লবা বাস্কে বলেন, ছেলের সাফল্যে খুবই আনন্দিত এবং গর্বিত বোধ করছি। কিন্তু ওর স্বপ্ন পূরণের ক্ষেত্রে যে অর্থের প্রয়োজন তা কোথা থেকে আসবে ভেবে পাচ্ছিনা। সরকারি সাহায্য অথবা যদি কোনও সহৃদয় ব্যক্তি আমার ছেলেকে সাহায্য করে, ওর লক্ষ্যে পৌঁছে দেয় তবে আমি খুব উপকৃত হব। সেই সঙ্গে আমিও আমার সাধ্যমত ওর লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাবো।

 

কিন্তু স্বল্প আয়ের মধ্য দিয়ে কতটা কি করতে পারবো জানিনা। তবে আমার ছেলে বড় হয়ে ভালো মানুষ হলে আমি ওকে বলবো ওর দুরাবস্থায় যেমন মানুষ পাশে দাঁড়াচ্ছে সেভাবে যেন হোপনাও আমাদের মত দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ায়। উচ্চমাধ্যমিকে অত্যন্ত ভালো ফল করা হোপনা বাস্কেও বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পর্যন্ত আমাকে আমার পড়াশোনার ক্ষেত্রে আমার স্কুল সান্তালপুর মিশন হাইস্কুলের স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষিকারা প্রচন্ড পরিমানে সাহায্য করেছেন, মানসিকভাবে এবং আর্থিকভাবে। আমি ওনাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ হয়ে থাকব সারা জীবন। সেইমতো আমার লক্ষ্যে আমি পৌঁছতে পারলে আমিও আমার মত দরিদ্র পরিবারের মানুষদের পাশে থেকে সারা জীবন চলবো।

 

হোপনা বাস্কের উচ্চমাধ্যমিকের অত্যন্ত ভালো ফলাফলের খবর পেয়ে বাড়িতে সম্বর্ধনা দিতে যান শামুকতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পবন কুমার রাই। শামুকতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পবন কুমার রাই বলেন, আমাদের এলাকায় এবছর তিনজন উচ্চমাধ্যমিকে অত্যন্ত ভালো ফল করেছে। কুত্তে কি আমাদের এলাকার নাম উজ্জ্বল করেছে। তাদের প্রত্যেককেই আমি সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করেছি। শামুকতলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এই কৃতি ছাত্রদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি আমি। হোপনা বাস্কে নামে আদিবাসী একজন দুঃস্থ ঘরের সন্তান এবছর ৪৭১ নম্বর পেয়ে পাশ করেছে। আমি ওকে সব রকম ভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করব। স্বাভাবিকভাবেই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের এই ঘোষণা শোনার পর হোপনা এবং তার পরিবারের পাশাপাশি অত্যন্ত আনন্দিত এলাকার বাসিন্দারাও। প্রত্যেকেই চাইছেন হোপনা তার জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছে এলাকার নাম উজ্জ্বল করুক।

Related Articles

Back to top button
Close