fbpx
অসমপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

যুগশঙ্খের একটা প্রতিবেদনই পাল্টে দিল ব্রেন টিউমার আক্রান্ত মহিলার জীবন !

ইমাদ উদ্দিন মজুমদার ,কাটিগড়া:  জীবনটাই যেন পাল্টে গেছে। পাল্টে দিয়েছে দৈনিক যুগশঙ্খের একটা প্রতিবেদন। এই তো তিন মাস আগে যে মানুষটার এক একটা দিন কেটেছে ভীষণ যন্ত্রণায়। মৃত্যুর প্রহর গোনা ছাড়া যার কিছুই করার ছিল না। আজ সেই মানুষটার জীবন যন্ত্রণাহীন। রোগ মুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে সব কিছু। আজ আর মাতৃ স্নেহের অভাবে অবুঝ দু’টি শিশুর কান্নার শব্দ বাতাসে ভাসছে না। কাছাড় জেলার কাটিগড়া বিধানসভা কেন্দ্রের গোবিন্দপুর গ্রামের রঞ্জনা দাস। এক্কেবারে হতদরিদ্র পরিবারের গৃহবধূ রঞ্জনা দাস দীর্ঘদিন থেকে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে কাতরাচ্ছিলেন। রঞ্জনার স্বামী চম্পক দাস একজন দিনমজুর। মানুষের বাড়ি বাড়ি শ্রমিকের কাজ করে কোন মতে স্ত্রী আর দুই সন্তানের মুখে অন্ন জোগান তিনি। কিন্তু লকডাউনের ফলে যেটুকু রুজিরোজগার ছিল তাতেও টান পড়ে যায়। ফলে চার জনের দু’বেলা দু’মুটো অন্ন জোগাড় করাটাই ভীষণ মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। তার উপর স্ত্রী রঞ্জনার ব্রেন টিউমার। যে ঘরে নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সেই ঘরে ব্রেন টিউমারের মতো জঠিল রোগের ব্যয়বহুল চিকিৎসা কল্পনা করাও যেন পাপ। ফলে বিনা চিকিৎসায় বাড়িতেই কাতরাচ্ছিলেন আক্রান্ত মহিলা। রঞ্জনা, চম্পকের বড় মেয়ের চামেলির জন্মের পর রঞ্জনার মাথায় এই মস্তবড় রোগটা ধরা পড়ে। এরপর একে একে চারটা বছর কেটে যায়। সাধ্যমতো চিকিৎসা করিয়েছেন মহিলার স্বামী। নিয়ে গেছেন শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে,শিলংয়ের নিগ্রিমস হাসপাতালে। কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারেননি।

আরও পড়ুন- আদবানীর জন্মদিনে কাঁকসার আদিবাসী গ্রামে পড়ুয়াদের খাতা, পেন্সিল বিতরন বিজেপিকর্মীদের

এরইমধ্যে তাঁদের ঘরে আসে নতুন আরও এক অতিথি। জন্ম নেয় তুসি। এই ছোট্ট সোনার জন্মের পর রঞ্জনার রোগটা আরও বেড়ে যায়। মাথার যন্ত্রণায় একরত্তি মেয়েটার লালনপালন করাটাই মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। দুই সন্তানের জননী হতদরিদ্র এক  মহিলা চিকিৎসার অভাবে কাতরাচ্ছেন শুনে মহিলার বাড়িতে পৌঁছায় উত্তমকুমার ফ্যান্স ক্লাব নামের একটা সংগঠন। মহিলার সাহায্যে এগিয়ে আসে ক্লাব। এই ক্লাবের কর্মকর্তাদের কাছ থেকেই বিষয়টা শুনে দৈনিক যুগশঙ্খের সাংবাদিক ইমাদ উদ্দিন মজুমদার পৌঁছান মহিলার বাড়ি। ব্রেন টিউমার আক্রান্ত এই মহিলার দুঃখ গাঁথা নিয়ে কলম ধরেন তিনি।

সাতাশ আগস্ট এনিয়ে প্রথম এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন প্রকাশ হয় যুগশঙ্খে। আর এই প্রতিবেদন প্রকাশ হতেই বরাক উপত্যকার বহু মানুষ মহিলার চিকিৎসার জন্য সাহায্য করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। মানুষের এই আগ্রহ দেখে দ্বিতীয় প্রতিবেদনে মহিলার স্বামী চম্পক দাসের ব্যাংক ডিটেল প্রকাশ করা হয়। ব্যাস,এরপর থেকে মহিলার চিকিৎসার জন্য একে একে লক্ষাধিক টাকা জমা পড়ে যায়। এই টাকায় ঠাকুর ভরসা করে শুরু হয় মহিলার চিকিৎসা। রঞ্জনাকে নিয়ে যাওয়া হয় গৌহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। সেখানে মহিলার মাথায় পর পর দু’টি অস্ত্রোপচার সফল ভাবে সম্পন্ন হয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে রঞ্জনা এখন বাড়ি ফিরে এসেছেন। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। নিজের বাড়িতে বসে রঞ্জনা জানালেন, অস্ত্রোপচারের পর মাথায় আর আগের মতো যন্ত্রণা নেই। ক্রমেই ছন্দে ফিরছেন তিনি।

চিকিৎসা চলাকালীন দু’টি অবুঝ শিশুকে বাড়িতেই রেখে গিয়ে ছিলেন তিনি। টানা দেড়মাস পর বাড়ি ফিরে প্রাণের টুকরো সোনামণিদের বুকে জড়িয়ে আদর করতে পারছেন। রঞ্জনা জানালেন, এক সময় তো বেঁচে থাকার আশাটাই হারিয়ে বসেছিলেন তিনি। এযেন এক নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। আর এমনটা হয়েছে জনগণের সহায়তায়। দৈনিক যুগশঙ্খ পত্রিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার পাশাপাশি তাঁর চিকিৎসার জন্য যারা সাহায্য করেছেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন- জমি বাড়ি লিখে না দেওয়ায় মিষ্টির সঙ্গে বিষ খাইয়ে মাকে খুনের অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

রঞ্জনার স্বামী চম্পক দাস জানালেন, বিষয়টা যুগশঙ্খে প্রকাশ হওয়ার পর অনেকেই চিকিৎসার জন্য সাহায্য করেছেন। প্রায় দেড় লক্ষ টাকা সাহায্য এসেছে। এরমধ্যে কাটিগড়ার বিধায়ক অমরচাঁন্দ জৈন ত্রিশ হাজার টাকা প্রদান করেছেন। প্রথমে তিনি বিশ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। পরে আরও দশ হাজার টাকা প্রদান করেন। উত্তমকুমার ফ্যান্স ক্লাব দিয়েছে পনেরো হাজার টাকা। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শপ্তশি পাল, গুয়াহাটির কৌশিক মালাকারও যথেষ্ট সহায়তা করেছেন।এছাড়াও বহু লোক সাহায্য করেছেন। সবার নাম তাঁর জানা নেই। সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন চম্পক,রঞ্জনা। তাঁদের কথায়,বিষয়টা প্রচারের আলোয় না আসলে এই চিকিৎসা কোন ভাবেই সম্ভব ছিল না। চম্পক জানালেন,এক মাস পর চেকআপের জনে রঞ্জনাকে নিয়ে ফের গুয়াহাটি যেতে হবে। সে যাই হোক, ঠাকুর কৃপায় রঞ্জনা এখন সুস্থ।দুই অবুঝ শিশু,স্বামীকে নিয়ে নিয়ে ভাল থাকো রঞ্জনা।

 

Related Articles

Back to top button
Close