fbpx
পশ্চিমবঙ্গব্লগহেডলাইন

কেষ্টর ঘাসফুলের জমিতে ফাটল ধরিয়ে বীরভূমে গেরুয়া নিশান ওড়াতে মরিয়া শ্যামাপদ

শংকর দত্ত, বোলপুর : ‘বোলপুর তথা বীরভূমের মাটিতে কেষ্টর সেই ঝাঁজ আর নেই। গুড়-বাতাসা, নাকুল দানা কিংবা চরাম চরাম ঢাক আর বাজছে না । ও গুলো যে কেষ্ট মন্ডলের ফাঁকা আওয়াজ ছিলো সেটা মানুষ বুঝে গেছেন। আর বুঝে গেছেন বলেই এখন কেষ্ট বীরভূম বাসীর কাছে ক্ষমা চাইছেন। ‘ কথা গুলো বললেন বীরভূম জেলার বিজেপি সভাপতি ব্যতিক্রমী নায়ক শ্যামাপদ মণ্ডল।

 

যিনি এই মুহূর্তে বীরভূমের শাসক দলকে ভয় পান না। আর ভয় পান না বলেই খোদ কেষ্টর গড় বোলপুরে বসেই সংগঠন শক্তিশালী করতে মহা ব্যস্ত। কিন্তু আগামী বিধানসভায় কী সমীকরণ হতে চলেছে? এই মুহূর্তে বীরভূমে বিজেপির অবস্থানটাই বা কোথায়? ‘শুনুন বীরভূম লোকসভার এগারোটা আসনের মধ্যে দশটা তেই আমরা এগিয়ে আছি এখন। আর বোলপুর লোকসভার দশে দশ ধরে নিতেই পারেন। আর সাংগঠনিক ভাবে আমার এখন অনেক শক্তিশালী। আমাদের কোনো কর্মী কার্যকর্তার গায়ে হাত পরলে আমরা বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা রাখি। এখন এখানে তৃনমূল কোনও ফ্যাক্টর নয়।বলতে পারেন প্রশাসনের একটা অংশ শাসক দলের হয়ে কাজ করছে। তারাই আমাদের কর্মীদের বেছে বেছে খুঁজে খুঁজে নানান কেস দিচ্ছেন। তবে সেক্ষেত্রে আমরাও কর্মীদের পাশে আছি। সমস্ত রকম সাহায্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’ এক নাগাড়ে বলছিলেন ষাট এর যুবক দাপুটে নেতা শ্যাম-বাবু।

 

স্কুল জীবন থেকেই যিনি সংঘ কর্মী হিসেবে পরিচিত। বড় হয়ে তিনি যে বিজেপি টা করবেনই সেটা নিশ্চিত ছিলো। তিনি বললেন, ‘আমি পারিবারিক ভাবে রাজনীতিতে আসিনি। আসলে সংঘের ট্রেনিং এ বড় হয়েছি। ছোটবেলা থেকেই জাতীয়তাবাদী মন নিয়ে এগিয়েছি। দেশকে ভালোবেসেছি তাই বিজেপি ছাড়া কোনকিছু ভাবার সময়ই পাইনি। রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে কখনো মুর্শিদাবাদ,কখনো জঙ্গলমহলের দায়িত্ব সামলেছি।এক সময় রাজ্য দপ্তরের কতকাল পরে থেকেছি। এখন দল আমার নিজের জেলায় দায়িত্ব দিয়েছে। এটাকে ঠিক ভাবে আগেই নিয়ে যাওয়াই আমার কাজ।’ কিন্তু যতই বলুন বীরভূমে আপনার দলেই প্রচুর গোষ্ঠী দ্বন্ধ। এমনকী আপনার বিরুদ্ধেও দলের একাংশের ক্ষোভ আছে। কি বলবেন?

‘দল বড় হলে,দলে নতুন লোকজন এলে পুরনোদের সঙ্গে একটু মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়। এটাকে গোষ্ঠী দ্বন্ধ না বলাই ভালো। তবে আমাদের দলে এসে যাঁরা শুরুতেই কিছু পাবার জন্য হাত-পা ছুঁড়ছে। যাদের এখানে স্থান নেই। আমার বিরুদ্ধেও কেউ কেউ থাকতেই পারেন। তবে তাদের বলবো যা সমস্যা যা অভিযোগ সব কিছু নিয়ে আসুন। আমি সবাইকে নিয়েই চলতে চাই। যোগ্য ব্যক্তিদের সম্মান দিতে চাই।’ আপনার জেলায় বিজেপির কোনও মহিলা মুখ এখনো তেমন ভাবে উঠে আসছে না কেন? একটু থমকালেন বটে তবে তাঁর যুক্তিতে ভরপুর উত্তর, ‘ হ্যাঁ হয়তো সামনের সারিতে রোজ ঝাঁপিয়ে পড়বার মতো মুখ আপনারা দেখছেন না ঠিকই। তবে ভিতরে ভিতরে প্রচুর মহিলা দলে যোগ দিয়ে দলকে সমৃদ্ধ করছে। আসলে মহিলাদের বাড়িতে সব কিছু সামলে দলটা করতে হয়। তাই সবাই ইচ্ছে থাকলেও সামনে আসতে পারছেন না। এর ওপর শাসক দলের নানা চাপ আছে। তবে ভোটের আগেই অনেক মুখ দেখতে পাবেন নিশ্চিত থাকুন।’

 

একদিকে অনুব্রত মণ্ডল, অন্যদিকে রানা সিং এবং জেলার হেভিওয়েট মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। আছেন তৃণমূলের দুই বারের সাংসদ শতাব্দী রায়ের মতো সেলিব্রিটি।শাসক দলের এতোজন ক্ষমতাবান ব্যক্তির সঙ্গে লড়াই করে বিজেপি কী সত্যিই জায়গা করতে পারবে আগামী বিধানসভায়? মনে হলো এই প্রথম সত্যের মুখোমুখি হলেন বীরভূম জেলার এই প্রতিবাদী মানুষটি। চোয়াল শক্ত করেই বললেন, ‘ভুল বলছেন,এরা কেউ কিছুই নয়। আমরা ভরসা করি সাধারণ মানুষের ওপর। এদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে মানুষ আজ দলে দলে বিজেপিতে আসছে। কেউ এদের তোয়াক্কা করছেন না। সবাই প্রস্তুত আছে। শুধু নির্বাচনটা নির্বিগ্নে হতে দিন। এদের সবার মুখোস খুলে যাবে। ইতিমধ্যেই গতো লোকসভায় মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছেন। কয়েকটা জায়গায় এরা কারচুপি করেছে,মানুষকে ঘর থেকে বেরোতে দেয়নি আপনারা সেটা জানেন। তাই আগামী বিধানসভায় সেই সুযোগ ওরা আর পাবে না। আমরা হিসেব ঠিক বুঝে নেব।’

 

কিন্তু প্রশ্ন হলো এই জেলায় সংখ্যালঘু ভোট একটা ফ্যাক্টর ! তাঁদের কতোটা টানতে পারছেন দলে? শ্যাম বাবুর স্পষ্ট জবাব, ‘ঠিক বলেছেন। কয়কটা বিধানসভায় এটা একটা বড় ফ্যাক্টর ছিলো। কিন্তু এখন আর সেই ভয় নেই। আমাদের সংখ্যালঘু মোর্চা খুব শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে এখন। বহু সংখ্যালঘু ভাইবোন এখন স্বেচ্ছায় বিজেপিতে আসছেন। তাঁরা বুঝে গেছেন শাসকের ভয়ে আর চুপ করে বসে থাকলে হবে না। তাই বীরভূম বিজেপির ধ্বজা ওড়াতে তাঁরাও আজ প্রস্তুত।’যদিও ২০২১- ই বলবে বীরভূমে আসলে শেষ কথা কে বলে !

Related Articles

Back to top button
Close