fbpx
বিজ্ঞান-প্রযুক্তিব্লগহেডলাইন

টিকটকের পর এবার পাখির চোখ ‘পাবজি’তে 

সুজয় অধিকারী: টিকটক, ইউসি ব্রাউজারের মতো ৫৯ টি জনপ্রিয় চাইনিজ এড বন্ধ করার পর এবার পাখির চোখ পাবজি মোবাইল। তথ্য চুরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় বন্ধ করতে হলো ৫৯ টি চাইনিজ অ্যাপ। তাহলে কি বাকি চাইনিজ অ্যাপ কি সেফ? তারা তথ্য চুরি করবে না?

 

এবার প্রশ্ন আসছে চায়নার বিনিয়োগ করা অ্যাপ নিয়ে। ভিডিও গেমসের মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় পাবজি মোবাইল। জন্ম সাউথ কোরিয়ায় হলেও বড় হয়েছে চাইনিজ ভিডিও গেম কোম্পানি টেনসেন্টের হাত ধরে। এমনকি কম্পিউটার থেকে মোবাইলে আসাও এই টেনসেন্টের হাত ধরে। পাবজি মোবাইল থেকে মাসে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা যায় চীনে। আর বাকি অংশ যায় দক্ষিণ কোরিয়ায়। তবে অদ্ভুত ঘটনা, যেখান থেকে পাবজি মোবাইলের শুরু সেই চীন দেশের সরকার হাজারো বাহানা দিয়ে পাবজি নিষিদ্ধ করল। আর অন্য দেশে দেদার ছড়িয়ে দিল। তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার নিয়ম টা এখানে একটু অন্যরকম। পাবজি খেলার সময় যখন গেমের মধ্যে অন্যদের সঙ্গে কথা বলা হয়, তখন কথায় কথায় যে পণ্যের নাম, কোম্পানির নাম, গ্রুপের নাম উচ্চারণ করা হয়, তার ওপর নজরদারি করে টেনসেন্ট সে রকম বিজ্ঞাপন গেমারদের সঙ্গে সামনে তুলে ধরে। এখানে যদি গেমের মধ্যে কথায় কথায় কেউ নিজের জরুরী তত্ত্বের কথা বলে, সেটাও থেকে যাচ্ছে টেনসেন্ট কোম্পানির রেকর্ডের মধ্যে। সেখান থেকেও তারা নজরদারি করে তথ্য তুলে নিতে পারে। সহজেই বোঝা যাচ্ছে তথ্য চুরি শুধু চাইনিজ অ্যাপগুলি করে না, চাইনিজ বিনিয়োগে চলা অ্যাপও সমান ভাবে তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। আর তার কানাকানি খবরও পৌছাবেনা বিশেষজ্ঞদের কাছে। শুধু পাবজি নয় সমান জনপ্রিয় গেম কল অফ ডিউটি যা আমেরিকান কম্পানির হাতে ধরে তৈরি হলেও, মোবাইলে আনা, ধীরে ধীরে উন্নত করা সবই হয়েছে চাইনিজ কোম্পানি হাত ধরে। সেখানেও তথ্য পৌঁছে যায় চিনে।

 

 

শুধু চাইনিজ নয়, এমন কি ফেসবুক থেকেও তথ্য পৌঁছে যায় অন্যের হাতে। তবে তার নিয়ম একটু আলাদা। ইন্সটল করার সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাপে কিছু অনুমতি চেয়ে নেয়। সেখানে অনেক সময় ব্যবহারকারী হালকা নজর দিয়ে এড়িয়ে যায়। কিন্তু এখান থেকেই ফেসবুকের জারদারি শুরু করে। তার জন্যই গুগাল বা কোন শপিং ওয়েবসাইটে আমরা যা সার্চ করি, ফেসবুকে সাজেশন লিস্টে সে রকমই পণ্য, ব্যক্তির, কোম্পানির, সংস্থার, অ্যাপ পর পর সাজানো থাকে। তবে ব্যাপারটা পুরোটাই নির্ভর করে আপনার ফোনের অনুমতির উপর। ইচ্ছামত আমরা তা বন্ধ করতে পারি কিন্তু। কিন্তু অনেক অ্যাপ আছে যারা অনুমতি না নিলেও ফোন থেকে তথ্য চুরির ঘটনা সামনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে তথ্য চুরির ঘটনায় চীনের নাম প্রথম সারিতে। প্রথম থেকেই চীনা পণ্য থেকে শুরু করে চিনা অ্যাপ বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা কার্যকরী হলো ভারত-চিন সীমান্তে যুদ্ধের আবহাওয়া তৈরি হওয়ায়।

 

 

সত্যি বলতে নাগরিকরা সচেতন হলে এরকম অ্যাপ সরকারের তরফ থেকে বন্ধ করার কোনো দরকার থাকত না। কিন্তু যে দেশের সাংসদ দাবি করে চীনা অ্যাপের বিকল্প আনার জন্য গুগাল, নাসা থেকে লোক আনতে, সে দেশের সাধারণ মানুষ আবেগে ভেসে কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক।

Related Articles

Back to top button
Close