fbpx
অন্যান্যঅফবিটহেডলাইন

চরাচরের চারিদিকে চাঁদেরহাটে চকমকে ‘চোদ্দ’ চরিত্রের চমকানি

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : ছোটবেলায় মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে সুর করে শতকিয়া পড়তে হোতো সকলকেই। সেখানেই ‘এক দশ চার চোদ্দ’ ছিলো বাংলাভাষীদের প্রথম গণিত শেখার একটা সোপান। সেই ‘চোদ্দ’ এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও জড়িয়ে গিয়েছে। ‘একুশে আইনে’র কথা শুনেছি কবির লেখায়। আর এখন তো ‘চোদ্দর চালাচালি’! জীবনের অনেক মোড়ে এখন ‘চোদ্দ’ চকমক করছে চারিদিকে।

 

 

‘সনেট’ তথা ‘চতুর্দশপদী’ কবিতা হল এক বিশেষ ধরনের কবিতা, যার সূচনা হয় মধ্যযুগে ইতালিতে। প্রথম সনেট লিখেছিলেন দ্বিতীয় ফ্রেডেরিকের আমলে সিসিলিয়ান স্কুলের গিয়াকোমো ডা লেনটিনি। এরপর গুইট্টোনে ডি আরিজ্জো (১২৩৫-১২৯৪) এই ধরনের কবিতা নতুন করে চালু করেন তাঁর সিকুলো টুসকান স্কুলে। প্রায় ২৫০ টি সনেট তিনি লিখেছিলেন। সনেটের বৈশিষ্ট্য হল যে, এই কবিতাগুলো চোদ্দ লাইনের হয়। প্রতিটি লাইনে মোট চোদ্দটি করে অক্ষর থাকবে। এর প্রথম আট লাইনের স্তবককে ‘অষ্টক’ এবং পরবর্তী ছয় লাইনের স্তবককে ‘ষষ্টক’ বলে। অষ্টকে মূলতঃ ভাবের প্রকাশ হয় এবং ষষ্টকে ভাবের পরিণতি থাকে। ইংরেজি ভাষায় সনেটের জনক স্যার থমাস ওয়াট এবং রুশ সনেটের জনক আলেকজেন্ডার পুশকিন। আর বাংলা সনেট তথা চতুর্দশপদী কবিতার স্রষ্টা মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তিনি ১৮৬৫ সালে ফ্রান্সের ভার্সাইতে থাকাকালীনই তথাকথিত সনেটের জনক ইতালীয় কবি পেত্রার্কের সনেট থেকে প্রথম বাংলা সনেটের সূচনা করেন। পরের বছরই তাঁর চতুর্দশপদী কবিতার সংকলন প্রকাশিত হয়।

 

 

এখন তো করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের সকলের লড়াই চলছে। এই রোগের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার যে নির্দেশিকা দিয়েছে ‘হু’, তাতে চোদ্দ দিনের কোয়ারান্টাইনে থাকতেই হয় ‘কোভিড ১৯’ থেকে রেহাই পেতে। পরিযায়ী শ্রমিক কিংবা অন্য যায়গা থেকে আগত মানুষজন সকলকেই চোদ্দ দিনের কোয়ারান্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক। সেটা হোম অথবা ইনস্টিটিউশনাল – দুইই হতে পারে।

 

 

রামায়ণের কাহিনী এলেই রামচন্দ্রের চোদ্দ বছরের বনবাসের কথা চলে আসবে। পুরো মহাকাব্যটি আবর্তিত হয়েছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই। রাম রাবণের যুদ্ধ থেকে সীতার বনবাস এই সপ্তকাণ্ড রামায়ণের উৎসমুখ কিন্তু সেই চোদ্দ বছরের বনবাসের ঘটনায়! রামচন্দ্রকে সিংহাসনচ্যুত করার এটাই ছিল স্ট্র্যাটেজি।

 

 

তেমনি এখন Article 61 অনুযায়ী ভারতীয় সংবিধান অবমাননার দায়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি অপসারণ করতে হলে চোদ্দ দিনের নোটিশ পাঠাতে হয় প্রথমে। পদচ্যুতি প্রস্তাব যে কোনও কক্ষেই করা যায়। তবে সেই কক্ষের এক চতুর্থাংশ সদস্যের স্বাক্ষর প্রয়োজন। সংসদের উভয়কক্ষের দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। ‘Article 61’ তে পরিস্কার লেখা আছে ‘The president can be removed from office by a process of impeachment for ‘violation of the constitution’। The impeachment charges can be initiated by either House of the parliament. These charges should be signed by one fourth member of the house (that framed the charges), and a 14 days notice should be given to the president’। উপরাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেও চোদ্দ দিনের নোটিশ দিতে হয়।‌

 

 

 

 

 

Article 24 অনুযায়ী চোদ্দ বছরের কম বয়সী শিশুদের শ্রমিক হিসাবে বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ করা যাবেনা । বিশেষ করে খনি, আতশবাজি শিল্পসহ অন্যান্য বিপজ্জনক কাজে। ‘Article 24’ এ এই ‘Prohibition of employment of children in factories etc’ তে লেখা আছে ‘Article 24 prohibits the employment of children below the age of 14 years in any factory, mine or other hazardous activities like construction work for Railway . But it does not prohibit their employment in any harmless or innocent work’। এই হলো ‘চোদ্দ’র মহিমা!

 

 

কার্তিক মাসের কালীপূজার আগের দিন বা দীপান্বিতার পূর্বদিন যমচতুর্দশী বা ভূত চতুর্দশী তিথিতে গ্রামের মানুষেরা চোদ্দ শাক খায়। শাস্ত্রানুযায়ী ঐদিন চোদ্দ শাক খেলে নাকি যম টানতে পারেনা। যমের থেকে রেহাই মেলে। অর্থাৎ এ সময় চোদ্দ শাক খেলে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া যায়। ‘জামাইবারিক’ এ আছে ‘দোজবরে ভাতারের মাগ / চতুর্দশীর চোদ্দ শাগ্’। এই চোদ্দ শাকগুলি হোলো – ১. গুলঞ্চ বা গুড়ুচি (Tinospora cardifolia) ২. সুষুনী বা সুনিসন্নক (Marsilea quadrifolia) ৩. সরিষা (Brassica campestris) ৪. ওল (Amarphophallus campanulatus) ৫. ঘেঁটু বা ভন্টাকী বা ঘন্টাকর্ণ (Clerodendron infortunatum) ৬. হিঞ্চে বা হেলেঞ্চা বা হিলমোচিকা (Enhydra fluctunus) ৭. কেঁউ (Cistus specious) ৮. জয়ন্তী (Sesbania sesban) ৯. কালকাসুন্দে (Cassia sophera) ১০. শাঞ্চে বা শালিও (Alternanthera sessilis) ১১. শেলকি বা শেলঙ্কী (Cordia dichotoma) ১২. বেতো (Chenopodium album) ১৩. পলতা বা পটুক (Trichosanthes dioica) এবং ১৪. নিম (Azadirchta indica)। আসলে এই চোদ্দ শাক খাওয়া উচিত পুরো কার্তিক মাস জুড়ে।

 

 

 

 

প্রতিটি শাকের পৃথক পৃথক ওষধি গুণ রয়েছে। এই চোদ্দ শাক খাওয়া শরীরের পক্ষে ভালো হলেও সারা মাস জুড়ে খাওয়া সম্ভব হয়না। তাই কেবল ঐ দিনটিতেই মেনে চলা হয়। ভূত চতুর্দশীর দিন চোদ্দ শাক তোলার সময় বলতে হয় – ‘চোদ্দ শাকের মধ্যে আমি ওল পরামাণিক’। অর্থাৎ উত্তম সমাজে অধম ব্যক্তি অধিষ্ঠিত। পরামাণিক বা প্রামানিক হোলো শ্রেষ্ঠ। ‘চোদ্দশাকের মধ্যে ওল পরামাণিক’- এটি একটি জনপ্রিয় বাংলা প্রবাদ।

 

 

এই ভূত চতুর্দশীর দিন চোদ্দ প্রদীপ জ্বালানোর নিয়ম রয়েছে। যদিও কেন চোদ্দ প্রদীপ জ্বালাতে হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু মেলেনা। আসলে হিন্দুরা পরলোকতত্ত্বে বিশ্বাসী। তাই পরলোকপ্রাপ্ত চোদ্দ পুরুষের স্মরণে হয়তো জ্বালানো হয় মাটির প্রদীপ বা মোমবাতি। দুর্গাষষ্ঠীর ফোঁটা মুছে নতুন করে দেওয়ালে দেওয়া হয় চোদ্দ ফোঁটা। তেমনি মহালয়ার দিন চোদ্দ পুরুষের তর্পণ করতে হয়। হিন্দু মতে পরলোকগত মানুষেরা বা তাঁদের আত্মারা মহালয়ার অমাবস্যায় যমলোক বা পরলোক ছেড়ে নেমে আসেন মর্তে। তাঁদের বর্তমান বংশধরদের হাতে জল এবং পিণ্ড গ্রহণের জন্য। একেই বলে ‘তর্পণ’। ফের তাঁরা যমলোকে ফিরে যান কার্তিক অমাবস্যায়। তখন তাঁরা যাতে ভালোভাবে ফিরতে পারেন সেজন্য আকাশপ্রদীপ জ্বালানো হয় পথ দেখানোর জন্য।

 

 

আমরা প্রায়শই বলে থাকি ‘পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা’। অর্থাৎ বিনা পরিশ্রমে বা কুড়াইয়া যাহা পাওয়া যায়, তাহাই লাভ। অমৃতলাল বসুর ‘চোরের ওপর বাটপাড়ি’তে আছে ‘তুমি আমার সব, তুমি আমার পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা’। গিরিশ ঘোষের ‘হারানিধি’তে আছে ‘পড়ে পাই চোদ্দ আনা, আর দেখাদেখি কাজ নেই’। কবির সুমন তাঁর জীবনমুখী গানেও এনেছেন চোদ্দকে – ‘কখনো সময় আসে, জীবন মুচকি হাসে / ঠিক যেন পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা / অনেক দিনের পর মিলে যাবে অবসর / আশা রাখি পেয়ে যাবো বাকি দু আনা’। সেই চোদ্দ আনার কথাই উচ্চারিত হয়েছে, ষোলো আনা নয় কিন্তু!

 

 

যখন পাড়ায় ঝগড়া শুরু হয়, তখন একজন অপরজনের চোদ্দ গুষ্টির তুষ্টিপূজা সেরে দেয়! গালাগাল উচ্চারিত হয় বিপক্ষের চোদ্দ গুষ্টির নামে। আমাদের বিশ্বাস যে, আমাদের পূর্বতন চোদ্দ পুরুষ নাকি অন্তরীক্ষে বর্তমান থাকেন। তপস্যার মাধ্যমে তাঁদের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। ১৫ তম পুরষের অস্তিত্ব কোনভাবেই পাওয়া যায় না। শত চেষ্টা করলেও মেলেনা। তাই ‘চোদ্দ গুষ্টি’ ই বলা হয়। গোপীচন্দ্রের লেখায় আছে ‘চোদ্দ পুরুষ, চোদ্দ বেদ’। সত্রাজিৎ গোস্বামী বাংলা অকথ্যভাষা ও শব্দকোষ বিষয়ে লিখতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন ‘চোদ্দ’ শব্দের ব্যবহার। তিনি লিখেছেন – “ফরটিন শব্দটির অর্থ ‘সুইট সিক্সটিন’ এর মতো ‘চতুর্দশী’ কিশোরী আদৌ নয়। শব্দটি চূড়ান্ত অশ্লীল ইঙ্গিতবাহী, তবু শব্দ নির্মাণ প্রযুক্তিটি লক্ষ্য করার মতো। ফরটিন = চৌদ্দ > চোদ্য। ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন”। চতুর্দশীর চাঁদের মোলায়েম আলোর সঙ্গে তুলনা করা হয় রমনীর সৌন্দর্য। আর চতুর্দশী সুন্দরী নাকি সবচেয়ে বেশি আকর্ষনীয়। যে কোনও পুরুষের কাছে চতুর্দশী থেকে অষ্টাদশী যুবতী ‘টিন এজার’দের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।

 

 

মানুষের অবস্থার পরিবর্তন হয় সময়ের সাথে সাথে। তা নিয়ে অদ্ভুত অদ্ভুত প্রবাদ মুখে মুখে ফেরে বাঙালি সমাজে – ‘যাঁর বাপ খেতো মাঠে শালুকপাতে ভাত / তাঁর ছেলের কানে দেখি কলম চোদ্দ হাত’। এছাড়া প্রায়শই শোনা যায়- ‘মা পায়না ছেঁড়া কাঁথা, সেলাই করার সূতা / ছেলের পায়ে দ্যাখো গিয়ে চোদ্দশিকের জুতা’। তেমনি ‘খেতে দেয়না পেটে ভাত / ঠ্যালা দ্যায় চোদ্দ হাত’ আসলে সেই আপ্তবাক্য মনে করিয়ে দেয় যে, কাজের বেলায় অষ্টরম্ভা অথচ মুখে বিশাল হম্বিতম্বি করতে ওস্তাদ!

 

 

কোনও অপরাধীর চরম শাস্তি হয় ফাঁসি। নতুবা যাবজ্জীবনের জন্য কারাবাস। এই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হয় জেলের মধ্যে চোদ্দ বছর কাটিয়ে। যাবজ্জীবন দোষী সাব্যস্ত হওয়া কয়েদিরা ১৯৫৫ সালের আগে ভারতের কোনো একটি নির্দিষ্ট কারাগারে ‘যাবজ্জীবন নির্বাসিত’ হয়ে দিন কাটাতেন। ভারতের দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় আগে ‘ট্রান্সপোর্টেশন ফর লাইফ’ বা আজীবন দ্বীপান্তরের বিধান ছিল। দণ্ডবিধির ৫৭ ধারায় লেখা ছিল ‘শাস্তির ভগ্নাংশ গণনায়’ আজীবন ট্রান্সপোর্টেশন আসলে ‘চোদ্দ বছর’ বলেই গণ্য হবে। পরে ‘ট্রান্সপোর্টেশন’ বদলে ‘লাইফ ইম্প্রিজনমেন্ট’ এবং চোদ্দ বছরের পরিবর্তে আশির দশকের গোড়ায় কুড়ি বছর এবং ১৯৮৫ সালে সেটাই তিরিশ বছর করা হয়। যদিও বিভিন্ন কারণে জেলের মধ্যে ভালো আচরণের জন্য শাস্তির মেয়াদ কমে যায়।

 

 

বাউলদের দেহতত্ত্বের গানে পাই ‘চোদ্দ পোয়া জমি’। নূর আলম সরকার গেয়েছেন, ‘এই চোদ্দ ভূবনে আমার / মুর্শিদ মওলা না গো / দেখলে ছবি, পাগল হবি / ঘরে থাকতে পারবিনা’। ২০১২ সালে সাগরিকা কোম্পানি ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে চোদ্দটি গানের সংকলন প্রকাশ করেছিল ‘চোদ্দোয় ১৪’ নাম দিয়ে। এতে গান গেয়েছিলেন নচিকেতা, শুভমিতা, শ্রীকান্ত আচার্য, রূপঙ্কর, শিলাজিৎ, মনোময় ভট্টাচার্য, জয়তী, সোমলতা, লোপামুদ্রা মিত্র এবং শ্রেয়া ঘোষাল সহ মোট দশজন শিল্পী। ‘চৌদ্দ বুড়ি’ অর্থে তিন পণ ও দশ গণ্ডা বোঝায়। ‘দাশরথী রায়ের পাঁচালী’তে আছে ‘কাপড়ে গাঁটি চৌদ্দ বুড়ি’। প্রবাদে আছে ‘আমার ঠাকুর এড়া / কিইল খান চোদ্দবুড়ি, কড়ি দেন দেড়া’। এছাড়া আছে ‘গালগল্প কোঠাবাড়ি / বাজার খরচ চোদ্দবুড়ি’।

 

 

আবার ফুটিফাটা ছ্যাঁচড়ামার্কা কিছু লোকের চালচলন যখন কোটিপতি টাটা বিড়লার মতো হয়, তখন বলা হয় – ‘চোদ্দ পুরুষের ঘোড়া নেই / বাড়িভরা লাগাম’। এই কথাকেই একটু অন্যভাবে বলা হয় – ‘বাপের বয়সে ঘোড়া নেই, কাঁধে চলে লাগাম’। আবার বলা হয়ে থাকে ‘শুনেছ কি গালে হাত / ছেলে হোলো চোদ্দ হাত’। নিজেকে জাহির করা লোকের অভাব নেই। তাঁদের জন্য বলা হয় – ‘কপালে দীর্ঘ ফোঁটা / দর্শনী চোদ্দ টাকা’। যাঁর যতটা গুরুত্ব পাওয়ার কথা নয়, সে যদি ততটা পায়, তখনও সেই চোদ্দকে দিয়েই এভাবেই বলা হয়- ‘ছুঁচোর গোলাম চামচিকে / তাঁর মাইনে চোদ্দ শিকে’। একটু চোখ মেলে দেখলেই দেখা মিলবে চোদ্দ শিকে মাইনে পাওয়া ভুরিভুরি লোকজনের ভিড়।

 

 

একসময় কুকুর বা বেড়াল কামড়ালে পেটের ওপর নাভির চারপাশে চোদ্দটা ‘রাবিশ ভাইরাস’ ইনজেকশন নিতে হোতো। জলাতঙ্ক রোগের ভয়ে। এখন অবশ্য অতগুলো নিতে হয়না। তেমনি কুকুর বেড়াল কামড়ালে চোদ্দ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয় ঐ কুকুর বেড়ালকে। তাসখেলায় চোদ্দ ফোঁটা রঙের কথা তো সকলেরই জানা। আর ‘চোদ্দ পোওয়া হওয়া’ অর্থে সটান হয়ে শুয়ে পড়া বোঝায়। আসলে শোওয়া হলে শরীরের দৈর্ঘ্য হয় চোদ্দ পোওয়া বা চোদ্দ পোয়া বা চোদ্দ পো বা সাড়ে তিন হাত। ‘আলালের ঘরে দুলাল’তে আছে- ‘সকলে দপ্তর বাঁধিতে উদ্যত হইল। ও বলিয়া উঠিল রাম, বাঁচলুম! বাসায় গিয়া চোদ্দ পো হওয়া যাউক’।

Related Articles

Back to top button
Close