fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

অমিতের ভোকাল টনিকে উজ্জীবিত গেরুয়া কর্মীদের একুশে অচলায়তন ভাঙার শপথ

রক্তিম দাশ, কলকাতা: এযেন প্রিয় কোনও ফুটবল দলের ডার্বি ম্যাচ। টালা থেকে টালিগঞ্জ, দার্জিলিঙয়ের পাহাড় থেকে সাগর দ্বীপের হরিনডাঙা। টিভি থেকে স্যোশাল মিডিয়ায় শুধু গেরুয়া শিবির নয়, অসংখ্য বাঙালির চোখ একটি মানুষের দিকে, এই করোনা আবহে তিনি কি বলেন।

সকাল সাড়ে ১১ টায় একঘণ্টা ব্যাপি ভাষণের শুরু  থেকেই এই ডার্বি ম্যাচের স্ট্রাইকার অমিত শাহ একের পর এক বাক্যবাণ  যেন প্রতিপক্ষ তৃণমূণের জালে বল পাঠাচ্ছে বার বার। ইলেকট্রনিক্স পর্দার সামনে বসে একুশের নির্বাচনের আগে নয়া এক ম্যাচ জেতার স্বাদ ভাগ করে নিলেন কর্মী-সমর্থকরা বুধবার বিজেপির ভারচুয়াল জনসর্ম্পক যাত্রার। দিনের শেষে অমিতের ভোকাল টনিকে উজ্জীবিত গেরুয়া কর্মীরা একুশের অচলায়তন ভাঙার শপথ নিলেন। এমনটাই দাবি গেরুয়া শিবিরের।

এই ভার্চুয়াল সভাকে সফল করতে রীতিমতো আটঘাট বেঁধে নেমেছিল বিজেপির আইটি সেল। বিদ্যুৎ চলে যাওয়া, স্থানীয় কেবল লিংক বন্ধ করে টেলিভিশন মিডিয়ার প্রচারের বাধা দেওয়ার অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই এবার প্রথম থেকেই ৭৩ লক্ষা মানুষের স্মার্ট ফোনে সামাজিক মাধ্যমের প্রচারকেই গুরুত্ব দিয়েছিলেন তাঁরা। টার্গেট ছিল ১ কোটি মানুষ। কিন্তু বাড়তি আরও ২ কোটি মানুষ যুক্ত হয়েছিলেন এমনটাই দাবি করেছে বঙ্গ বিজেপি।

সূত্রের খবর, বাংলার ১২০০ ম-লে এই সভা প্রত্যক্ষ করার জন্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল নেট কানেকশন সহ ল্যাপটপ। রাজ্যে ৬৫ হাজার বুথকে যুক্ত হয়েছিল এদিন ভার্চুয়াল মিডিয়ায় বাংলা থেকে দিল্লি।
এই সাফল্যকে ভারচুয়াল উন্মাদনা বলে মনে করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও স্বস্তিকা পত্রিকার সম্পাদক রন্তিদেব সেনগুপ্ত। এদিন তিনি বলেন, ‘এই ভার্চুয়াল সভায় শুধু বিজেপির কর্মী-সমর্থকরাই নন। অনেক সাধারণ মানুষ যুক্ত হয়েছিলেন। মমতা সরকারের বিরুদ্ধে অমিত শাহ এদিন কিন্তু প্রথম থেকেই আক্রমাণত্বক ছিলেন। যা গেরুয়া কর্মীদের বুষ্টআপ করেছে। এটার প্রয়োজন ছিল। একুশের বিধানসভা লড়াইয়ের সুর এদিন কিন্তু বেঁধে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এমনিতেই করোনা আর আমফানের কারণে তৃণমূল অনেকটাই ব্যাকফুটে। তারপর এই ভোকাল টনিকে পাড়ায় পাড়ায় কর্মীদের সাহস ও মনোবল বাড়াতে সাহায্য করবে।’

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. অচিন্ত্য বিশ্বাস বলেন, ‘আজ পরিসংখ্যান দিয়ে অমিত শাহ বুঝিয়ে দিয়েছেন দিল্লি কোনভাবেই বাংলাকে বঞ্চিত করছে না। রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সাহায্য পেয়েছেন। কিন্তু তা আত্মসাৎ হয়েছে। এই পরিস্থিতি এই ভারচুয়াল জনসভা একটি অসাধারণ উদ্যোগ এবং পরিকল্পনা। মোদির ডিজিটাল ভারতের স্বপ্নকেই সার্থক করেছে। বিজেপি যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্বাস করে তাও তিনি বলেছেন। তৃণমূল সরকাকে তাঁরা ছাড় দিয়েছেন এবং গণতান্ত্রিক ভাবেই তাঁকে রাজ্যের মানুষ সরিয়ে দেবেন। একথা বলে তিনি শুধু বিজেপি কর্মীদের নয় সাধারণ মানুষের কাছেও বার্তা দিয়েছেন। যা কিন্তু বিজেপিকর্মীদেরও লড়াই করার মানসীক দৃড়তা বাড়াতে সাহায্য করার পাশাপাশি সহনশীলতা ও ধৈর্য্য ধরার ইচ্ছাকে জাগ্রত করবে বলেই আমি মনে করি।’

অমিত শাহ বক্তব্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে উত্তরবঙ্গে বলে দাবি করেছেন বিজেপির জলপাইগুড়ির পর্যবেক্ষক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, ‘চা বাগানে বেলা ১২টায় চা পাতা তোলার কাজ বন্ধ হয়। আজ তা ১১টা বন্ধ করে চা শ্রমিকরা সবকটি বাগানে এই ভাষণ শুনেছেন। বাসে মানুষ হেডফোনে শুনেছেন। শুধু তাই নয়, অমিতজির কৃষকের তালিকা চাওয়ার কথা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃস্টি করেছে। তাঁরা মনে করছেন কৃষকদের কেন্দ্রীয় সাহায্যের টাকা মুখ্যমন্ত্রী আটকে রেখেছেন।’

শ্রমিক সংগঠন বিজেএমটিউ-ও সভাপতি বাবান ঘোষ বলেন,‘ আজ এই ভাষণের পর টোটো ও অটো চালকরা রাজ্য জুড়ে আমাদেও সংগঠনে যোগ দিয়েছেন। আজ আমাদের সদস্য সংখ্যা ৫ লক্ষ ১ হাজার পেরিয়ে গেল। আমরা শ্রমিকরা নতুন দিনের স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম আজ থেকে।’ দলের কর্মীদের নিয়ে অমিত শাহ ভাষণ শোনার পর টালিগঞ্জ ম-ল ১ এর সভাপতি সোমা ঘোষ বলেন,‘ আমরা পাড়ায় পাড়ায় মার খেয়েছি আমফানের পর কখনও ত্রাণ দিতে গিয়ে কখনও বা বিদ্যুৎতের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে। আমাদের কর্মীদের মনে ভয়-ভীতি আসছিল, কিন্তু এই ভাষণ শোনার পর আমরা কিন্তু এখন তৃণমূলে বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাড়তি অক্সিজেন পেলাম।’

মতুয়া মহাসংঘের সদস্য পরিমল বিশ্বাস বলেন,‘ আমাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার পরেও তিনি আমাদের কথা আজ ফের উল্লেখ করেছেন। তিনি বা বিজেপি যে আমাদের মতুয়াদের ভুলে যাননি। এটা তারই প্রমাণ। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিকদল আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু কোনও কাজই করেননি। বিজেপি যে তার ব্যাতিক্রম তা কিন্তু অমিত শাহ বুঝিয়ে দিলেন এদিন।’

Related Articles

Back to top button
Close