fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে খাদ্য সামগ্রী হাতে গৃহশিক্ষক, দুঃস্থদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন তিনি

মমতা চক্রবর্তী, নানুরঃ মানবিকতাটা ঠিক অন্যরকম। দেশজুড়ে চলছে লকডাউনে। আর এই লকডাউনে যখন সবাই চার দেওয়ালের মধ্যে আবদ্ধ তখন বোলপুরের এক গৃহশিক্ষক কে দেখা গেল অন্য ভূমিকায়। বীরভূম জেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে খাদ্য সামগ্রী হাতে প্রকৃত দুস্থদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন ওই গৃহশিক্ষক। তিনি নিজেই বাইকের পিছনে খাদ্য সামগ্রী চাপিয়ে বীরভূম জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে বেড়াচ্ছেন দুস্থদের খোঁজে নিচ্ছেন ও দেখছেন তাঁরা এইসময় ঠিকমতো দুবেলা খেতে পাচ্ছেন কিনা। এবং দুস্থদের খোঁজ নিয়ে এক সপ্তাহের খাবার তাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন ওই গৃহশিক্ষক।

 

করোনা ভাইরাস ঠেকাতে দেশজুড়ে দীর্ঘ লকডাউন শুরু হয়েছে। কর্মহীনতায় রয়েছে বহু মানুষজন। এইসময় তাদের কাজ চলে যাওয়ায় তারা খুব চিন্তিত। তাই গরিব দিন আনা দিন খাওয়া মানুষজনের এখন একটাই চিন্তা তাদের সংসার চলবে কীভাবে? লকডাউন চলাকালীন যাতে কোন মানুষ অভুক্ত না থাকে সেইজন্য খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন দুস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তেমনিই তাঁর সঙ্গে পিছিয়ে নেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা থেকে শুরু করে বিশিষ্ট সমাজসেবকরা। বোলপুরের এক গৃহশিক্ষক শ্যামল মাজি। তিনি গৃহশিক্ষক হলেও বোলপুর তথা বীরভূম জেলা বাসির কাছে বিশিষ্ট সমাজসেবক নামেই তিনি পরিচিত। তিনি পেশায় গৃহশিক্ষক হলেও নেশা তাঁর একটাই সমাজসেবা করা। তাই এই লকডাউন চলাকালীন যখন সবাই চারদেওয়ালের মধ্যে আবদ্ধ তখন তিনি নিজের বাইকের পিছনে খাদ্য সামগ্রী চাপিয়ে নিজের উদ্যগে বীরভূম জেলার প্রত্যন্ত জায়গাগুলিতে মাইকিং করে দুস্থদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন তিনি। মাইকিং করে গৃহশিক্ষক তথা বিশিষ্ট সমাজসেবক শ্যামল মাজি বলছেন,‘যারা খাবার কিনতে পারছেন না তারা চলে আসুন। আমি আপনাদের জন্য খাদ্য সামগ্রী দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। ঘর থেকে বেরিয়ে আসুন।’মাইকিং চলাকালীন কোনো দরিদ্র মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসলেই ওই গৃহশিক্ষক তার হাতে খাবারের প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন ও করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে তাকে সচেতন করে বলছেন,“প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে একদম বেরুবেন না। ঘরে থাকুন। এটাই অনুরোধ করবো।”

 

শ্যামলবাবু বীরভূম জেলার প্রকৃত দুস্থদের খুঁজে বের করছেন ও তাদের হাতে সাতদিনের খাদ্য সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন। ও খাবার শেষ হলে আবার খাবার পৌঁছে দেবার কথা বলছেন। জানা গেছে,লকডাউন শুরুর দিন থেকেই এই কর্মসূচি তিনি গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত বীরভূম জেলায় তিনি এইরকম দেড় হাজার দুস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমন উদ্যগে খুশি বীরভূম জেলার দুস্থ মানুষেরা।

এই অভিনব উদ্যোগ নিয়ে শ্যামলবাবু জানান,“ আমি পেশায় গৃহশিক্ষক হলেও ছোট থেকেই আমি সমাজসেবা করতে বড্ড ভালোবাসি। তাই এই লকডাউন পিরিয়ডে আমি বীরভূম জেলার যারা প্রকৃত দুস্থ তাদেরকে খুঁজে বের করে তাদের বাড়িতে গিয়ে খাবার দিয়ে আসছি। এক সপ্তাহ অন্তর তাদের বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি। যবে থেকে লকডাউন শুরু হয়েছে সেইদিন থেকেই এই কর্মসূচি আমি গ্রহণ করেছি। আগামী দিনেও লকডাউন বাড়লে আমি দুস্থদের পাশে আছি।”

শ্যামলবাবুর এই উদ্যোগে বীরভূম জেলার একটি অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘নৈবেদ্য’-র একজন সদস্য মানব ঘোষ বলেন,“আমি ওনার কাজকে স্যালুট জানাই। আমি দেখছি উনি আজ বলে নয়। উনি সারাবছর মানুষের পাশে থাকেন। ওনার এই উদ্যোগে আমরা খুব খুশি। তবে এই দুর্দিনে শ্যামলবাবু মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সেইজন্য আমি খুব গর্বিত ওনার কাজের জন্য।”

Related Articles

Back to top button
Close