fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

প্রেমিকের ছুরির আঘাতে জীবনের মতন কথা হারানোর উপক্রম প্রেমিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভাঙড়: প্রেমে ধোকা! প্রেমিকের ছুরিকাঘাত হয়ে জীবনের মতন কথা বলা হারাতে চলেছেন প্রেমিকা। অভিযুক্ত যুবককে খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম আশফাক মোল্লা। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে ভাঙড়ের কাশিপুর থানা এলাকার কাঁঠালিয়াতে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাশীপুরের বাসিন্দা আশফাকের সাথে পূর্ব কাঠালিয়ার বাসিন্দা এক স্কুল ছাত্রীর প্রেম ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। দুজনে এবছর ভাঙ্গড় হাই স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে। মাধ্যমিকের পর থেকেই দুজনের মধ্যে প্রেম ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অভিযোগ, ইদানিং ওই ছাত্রীটি তার প্রেমিককে ঠিকমতো পাত্তা দিচ্ছিল না, সে অন্য একটি সম্পর্কে জড়িয়ে ছিল। তারই জেরে প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে ওঠে আশফাক। প্রতিশোধ নেওয়ার অভিসন্ধি নিয়েই এদিন মদ্যপ অবস্থায় নাবালিকা প্রেমিকার বাড়ি চড়াও হন ওই যুবক। সে সময় মেয়েটির বাড়িতে তার বোন ছাড়া বিশেষ কেউ ছিল না বলে স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে। ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়েই প্রেমিকাকে খুনের পরিকল্পনা করে আশফাক।

[আরও পড়ুন- প্রকাশ্য দিবালকে যুবকের মারণ ঝাঁপ, সেই ছবি মোবাইলে ক্যামেরা বন্দি]

পুলিশ সুত্রে আরও জানা যায়, খুনের আগে  আশফাক ভাঙ্গড় বাজারে যায়। সেখান থেকে একটি মদের বোতল এবং একটি ক্ষুর কেনে। তারপর সেই ক্ষুর পকেটে নিয়ে সোজা চলে যায় প্রেমিকার বাড়িতে। প্রেমিকা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আশফাক তার প্যান্টের পকেট থেকে ধারালো ক্ষুর বার করে আশফাক বসিয়ে দেয় প্রেমিকার গলায়। চিৎকার করে ওঠে প্রেমিকা, ছুটে আসেন পাড়া- প্রতিবেশীরা। তখনই নিজের বাইক নিয়ে কাশীপুরের দিকে পালাতে থাকে আশফাক। মদ্যপ অবস্থায় থাকায় সে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাঠালিয়া তে অন্য বাইক আরোহীকে ধাক্কা মারে। সেই ঘটনায় দুজন আহত হয়। এরপরই আশফাককে গ্রেফতার করে কাশীপুর থানার পুলিশ।

ধৃতকে বৃহস্পতিবার বারুইপুর মহাকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক জিঞ্জাসাবাদের জন্য চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। এদিন পুলিশের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে নেয় ওই যুবক। অপরাধবোধ থেকে সে নিজেই আত্মসমর্পণ করতে আসছিল, পুলিশের কাছে এদিন এমনটাই দাবি জানায় অভিযুক্ত প্রেমিক।

অপরদিকে কলকাতার পিজি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছাত্রীটি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে যে, বৃহস্পতিবার তাঁর খাদ্য নালীতে অস্ত্রপচার হয়। এমন ভাবে গলায় ছুরি চালানো হয়েছে তাতে সারা জীবনের জন্য মেয়েটি জীবনের মতন কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলবেন বলে মনে করছেন পরিবারের লোকজন। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন আহত মেয়েটির পরিবার।

 

Related Articles

Back to top button
Close