fbpx
অসমহেডলাইন

স্বাধীন ভারতবর্ষের হাইলাকান্দিতে স্বাস্থ্যবিভাগের কদর্য রুপ ! রাস্তায় সন্তান প্রসব মহিলার

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, কাটলিছড়াঃ দেশজুড়ে যখন ঘটা করে ৭৪ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হচ্ছে। ঠিক সেই মুহুর্তে স্বাধীন ভারতবর্ষের হাইলাকান্দি জেলার লালায় বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবা সহ রাস্তাঘাটের দরুন রাজপথে এক মহিলার সন্তান প্রসবের ঘটনাকে কেন্দ্র তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে । আর এঘটনায় হাইলাকান্দি স্বাস্থ্য বিভাগের কদর্য রুপ ফুটে উঠেছে বলেও অনেকেই বলাবলি করছেন । চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে  লালার উন্নয়ন বঞ্চিত উপজাতি অধ্যুষিত নুনাই কুন্দানালা এলাকায় ।

 

নুনাই কুন্দানালা এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সাব সেন্টার থাকলেও সেই সেন্টারে কোনও রকমের স্বাস্থ্য পরিষেবা নেই । যার ফলে প্রসব যন্ত্রনায় কাতর আনিকা ত্রিপুরা নামের মহিলাকে নিয়ে লালা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা হন স্বামী শ্রীকচাংকুমার ত্রিপুরা । নুনাইর কচ্ছপছড়া গ্রামের বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে স্ত্রী আনিকা ত্রিপুরাকে নিয়ে লালা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেও লালা পৌঁছানোর আগেই পাহাড়ি রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন ধলছড়া বিলাইপুর জিপির সাত নম্বর গ্রুপের বাসিন্দা কচাংকুমারের স্ত্রী আনিকা ত্রিপুরা । জানা গেছে , বেহাল রাস্তাঘাটের দরুন একসময় পাহাড়ি রাস্তার রাজপথে সন্তান প্রসব করেন আনিকা । মহিলার আর্ত চিৎকার শুনে পাহাড়ি রাস্তার কতিপয় মহিলাও একসময় এগিয়ে আসেন । সবাই মিলে ওই মহিলাকে কুন্দানালা এলাকার এক বাড়ির উঠোনে নিয়ে যান। সেখানে কাপড় দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়ার পর রক্তাক্ত মহিলাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে তুলেন গ্রামের কতিপয় মহিলা ।

 

শেষ পর্যন্ত ওই মহিলা ও সন্তান কে ফের গ্রামবাসী মিলে বাড়িতে পৌঁছে দেন । গ্রামবাসী জনসাধারনের অভিযোগ, স্বাধীনতার ৭৪ বছর পরও বৃহত্তর নুনাই, কুন্দানালা এলাকায় নেই উপযুক্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা, নেই উন্নত যোগাযোগ । কুন্দানালায় হেলথ সাবসেন্টার কাগজে পত্রে থাকলেও বাস্তবে কিছুই নেই । একজন নার্স পর্যন্ত নেই । যার ফলে এলাকার জনগন স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে আজও বঞ্চিত রয়েছেন । তাছাড়া রাস্তাঘাট না থাকায় অসুস্থ রোগী কিংবা প্রসব যন্ত্রনায় কাতর মহিলাকে লালা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না ।

তাদের অভিযোগ, স্বাধীনতার ৭৪ বছর পরও রাস্তাঘাটের সমস্যায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাইলাকান্দির ধলছড়া বিলাইপুর জিপির বৃহত্তর নুনাইছড়া , কুন্দানালা এলাকার জনগণ । বর্তমান বর্ষার মরশুমে নুনাইছড়া, কুন্দানালা ইত্যাদি এলাকার নাগরিকরা রীতিমতো বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বসবাস করছেন । বেহাল, পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে সাইকেল, মোটর সাইকেল নিয়েও চলাচল করতে পারছেন না গ্রামবাসী জনসাধারণ । সরকার গ্রামোন্নয়নের নামে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও বাস্তবে উপজাতি অধ্যুষিত নুনাই, কুন্দানালা, চান্নিঘাট ইত্যাদি এলাকায় উন্নয়নের কোন ছোঁয়াই লাগেনি। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা সহ নানা সমস্যায় জর্জরিত ওই সব পাহাড়ি গ্রামের হাজার হাজার আবাল বৃদ্ধ বনিতা । নুনাই, কুন্দানালা এলাকায় পৌঁছানোর জন্য আজ পর্যন্ত কোন উপযুক্ত রাস্তাঘাট নেই। বিগত কংগ্রেস আমলে কাটলিছড়া ধলাই বাগান, বরুনছড়া হয়ে কুন্দানালা পর্যন্ত রাস্তা নির্মানের উদ্দ্যোগ নেওয়া হলেও তাও অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের জন্য পুরোপুরি অনুপয়োগী হয়ে পড়ে রয়েছে।৷ এহেন পরিস্থিতিতে ওই সব গ্রামের নাগরিকরা রূপাছড়া চা বাগানের ভেতরের গলিপথে পায়ে হেঁটে বাইরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

 

রূপাছড়,চা বাগান হয়ে যাওয়া বিপদসঙ্কুল পাহাড়ি রাস্তাটি বর্তমান বর্ষার মরশুমে রীতিমতো বেহাল হয়ে পড়ায় চলাচল দায় হয়ে পড়েছে। ইয়াকুবনালা, কচ্ছপছড়া, নুনাইমুখ, দূর্গাপুর, চান্নিঘাট, কুন্দানালা, লালছড়া কাটিং ইত্যাদি দুর্গম পাহাড়ি গ্রামের শত শত লোক প্রতিদিন পাঁয়ে হেঁটে বেহাল রাস্তা দিয়ে চার নম্বর খাসিয়া পুঞ্জি , রূপাছড়া চা বাগান হয়ে বাইরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে থাকেন। কিন্ত পাহাড়ি রাস্তাটিতে বর্তমানে রীতিমতো বিপজ্জনক হয়ে ওঠেছে। যার ফলে সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে দারুন বেগ পেতে হচ্ছে।রাস্তা না থাকায় গ্রামবাসীদের নিত্যদিন প্রবল প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে । অথচ পঞ্চায়েত, জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে গ্রামোন্নয়ন বিভাগের আধিকারিক, জেলা প্রশাসন নীরবদর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। এনিয়ে এলাকার জনতা বেজায় ক্ষুব্ধ। বিগত কংগ্রেস সরকারের আমলে কুন্দানালায় পি এইচ ই র একটি পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্প নির্মান করা হলেও বিগত প্রায় চার বছর ধরে প্রকল্পটি প্রায় বনধ রয়েছে।আর এই প্রকল্প বনধ থাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য কার্যত হাহাকার করছেন এলাকার জনসাধারণ। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, পি এইচ ই বিভাগের ব্যার্থতার জন্য নির্মানের বছর যেতে না যেতেই প্রকল্পটি অকেজো হয়ে পড়েছে।

যার ফলে গ্রামের জনগনকে পাহাড়ি নালার অপরিশোধিত জল পান করতে হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত জল পান করে গ্রামের বহু লোক পেটের রোগে ভুগছেন৷ রাস্তাঘাট না থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও যেতে পারছেন না। সরকার উপজাতিদের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করলেও যোগাযোগ না থাকায় ওইসব প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন না কুন্দানালা, খুলির জনগন। ভাল যোগাযোগ ব্যাবস্থা না থাকায় গ্রামের স্কুলে নিযুক্ত শিক্ষকরা ও সময়মতো পৌঁছাতে পারেন না । তাই উন্নয়ন বঞ্চিত কুন্দানালা, খুলি ইত্যাদি গ্রামের যোগাযোগের মাধ্যম রূপাছড়া, খাসিয়া পুঞ্জি, লালছড়া কাটিং রাস্তাটি শীঘ্রই সংস্কার করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে তোলার পাশাপাশি কুন্দানালা হেলথ সাবসেন্টার টি অবিলম্বে চালু করতে বিহিত পদক্ষেপ নিতে গ্রামবাসীরা সাংসদ কৃপানাথ মালাহ, বিধায়ক সুজাম উদ্দিন লস্কর ও হাইলাকান্দির জেলা শাসক মেঘনিধি দাহালের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Related Articles

Back to top button
Close