fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

আবারো লকডাউন কলকাতা!

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা:আবারো নতুন করে লকডাউন! শহর কলকাতায় শুরু হল লকডাউন। তবে এবারে কন্টেইনমেন্ট এলাকাভিত্তিক লকডাউন করা হয়েছে। নবান্ন থেকে আগেই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। সেই মতোই বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার পর থেকেই বিভিন্ন কন্টেইনমেন্ট এলাকায় শুরু হয়ে গেল লকডাউন।

উল্টোডাঙ্গার করবাগান, তেলেঙ্গা বাগান, কাঁকুড়গাছি বাগমারি রোড, ফুল বাগান, বিধান নগরের সল্টলেক সহ দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরের চক্রবেরিয়া মত কনটেইনমেন্ট এলাকায় সেই চিত্র দেখা গেল। সকাল থেকেই কন্টাইন্মেন্ট বাড়ি গুলিকে চিহ্নিত করে পুরসভা ও স্থানীয় পুলিশ যৌথ উদ্যোগে এলাকা সিল করে দেয়। পাশাপাশি ওই এলাকার সংলগ্ন সমস্ত দোকানপাট ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যারিকেডের বাইরে রাখা হয়েছে পুলিশ প্রশাসনের কড়া পাহারা। যাতে কনটেইনমেন্ট এলাকার মানুষ বাইরে বেরিয়ে অন্যান্য মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করতে না পারে। কারণ এর আগে বহুবার সাধারণ মানুষের অভিযোগ পেয়েছে কলকাতা পুরসভা সংক্রমিত ব্যক্তি অবাধে জনসংযোগে আসছেন। প্রয়োজনে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন কনটেইনমেন্ট এলাকার মানুষদের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করবে।

এছাড়াও কনটেইনমেন্ট এলাকার মানুষদের সব টেস্টের ব্যবস্থা করেছে পুরসভা। অ্যাম্বুলেন্স এর গাড়ি গিয়ে বাড়ি বাড়ি লিস্ট দেখে কন্টেইনমেনট এলাকার মানুষের লালা রস পরীক্ষা করছে।

তবে সাধারণ মানুষ রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে এই ব্যবস্থা আরো আগে নেওয়া উচিত ছিল সরকারের। যখন প্রতিদিন করোনার সংক্রমণ রাজ্যে বাড়তে শুরু করেছিল সে সময় এই উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল একটু সময় বিলম্ব হলেও সঠিক পদক্ষেপ।

তবে এর জন্য শহরের রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হবে না। কারণ কনটেইনমেন্ট এলাকাগুলি বড় রাস্তার থেকে অনেকটাই দূরে। তবে বিধাননগরের ক্ষেত্রে যান চলাচল রেস্ট্রিক্টেড করা হবে বলে জানিয়েছেন বিধান নগর কমিশনারেটের জয়েন্ট সিপি রনেন্দ্র নাথ বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেন বিধাননগর কমিশনারেট এর থানা অনুযায়ী এগারোটি কনটেন্টমেন্ট এলাকা আছে।

পাশাপাশি কনটেইনমেন্ট জোনের বাসিন্দাদের খোঁজ নিতে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ চক্রবেরিয়ায় চালু করলেন স্থানীয় পুরো কোয়ার্ডিনেটর অসীম বসু। এখানে এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য তৈরি হয়েছে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ। এখানে পাঁচটি এলাকাকে সংক্রমিত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি কমপ্লেক্সের জন্য তৈরি হয়েছে এক একটি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ। এই গ্রুপে রয়েছেন কলকাতা পুরসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর অসীম বসু, ভবানীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি, এবং সংশ্লিষ্ট বাড়ির নিবাসীরা।

যেহেতু চক্রবেরিয়ার ওই ৭০ নম্বর ওয়ার্ড সংক্রমিত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে তাই ওই এলাকার সংশ্লিষ্ট বাড়ি গুলি থেকে যেমন কেউ বাইরে বেরোতে পারবেন না ঠিক তেমনই ওই এলাকায় কেউ বাইরে থেকে প্রবেশও করতে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষদের কাছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে।

 

 

 

এই প্রসঙ্গে এলাকার বিদায়ী কাউন্সিলর অসীমবাবু জানান, “যেহেতু এই পাঁচটি এলাকায় লক ডাউন করা হচ্ছে তাই আমরা প্রতিটি বাড়ির জন্য আলাদা করে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ খুলেছি। এখানে বাসিন্দারা সকাল বেলা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজেদের প্রয়োজন জানিয়ে দেবেন। সেই মতো আমরা তাঁদের জিনিস পৌঁছে দেব”।

 

Related Articles

Back to top button
Close