fbpx
ব্লগহেডলাইন

রক্তপ্লাবী বন্যায়ে নিমজ্জিত ন্যায়

অনিমিত্র চক্রবর্তী: রাষ্ট্রীয় পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকারের গুরুত্ব অপিরিসীম। যথার্থ, কিন্তু তা সর্বশেষে মানুষের উপকারে আসে কতটা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্ন, কারণ তা একজন মানুষ ও রাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ করে, তার নিজের স্বার্থও। রাষ্ট্রের কতটা অধিকার থাকে একজন মানুষের উপরে তার জীবনধারণ ও মনোবৃত্তি সমেত তাও এক অন্বেষণের বিষয়। অবশ্যই তা একান্তভাবেই নির্ভর করে রাষ্ট্রের চরিত্রের উপরে। এবং রাষ্ট্রীয় চরিত্রে থাকে ভিন্নতা; যার মধ্যেই নিহিত থাকে একজন ব্যক্তির অস্তিত্ব ও তার জীবনবোধ। একটি কম্যুনিস্ট রাষ্ট্রে বা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মানবাধিকারের অবস্থান তাহলে কি প্রকারের?

এ প্রসঙ্গে মাও-সে-তুংয়ের ঐতিহাসিক মন্তব্য “Our principle is that the Party commands the gun, and the gun must never be allowed to command the Party” [Problems of War and Strategy” (November 6, 1938), Selected Works, Vol. II, p. 224.] প্রণিধানযোগ্য। পার্টিই সর্বোচ্চ, ঐশ্বরিক ক্ষমতাসম্পন্ন, তাই party diktat না মানা profanation/অমার্জনীয় অপরাধের মধ্যেই পড়ে, শাস্তিরূপে মৃত্যু অতি সামান্য ব্যাপার। অতএব, কম্যুনিস্ট প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার/human rights পার্টির উপরেই তা নির্ভর করে। To overcome our enemies we must have our own socialist militarism. We must carry along with us 90 million out of the 100 million of Soviet Russia’s population. As for the rest, we have nothing to say to them. They must be annihilated.” – Grigory Zinoniev [The Cheka: Lenin’s Political Police by Leggett, George (1986)] এবং জিনোনিয়েভ ১৯৩৬ সালে স্তালিন ও NKVD -এর The Great Purge এ নিহত হন।

দীর্ঘ ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট তথা সিপিআইএমের একচ্ছত্র শাসনে এর অন্যথা দেখা যায়নি। ৩০শে এপ্রিল, ১৯৮২ সালে কলকাতার উপকণ্ঠে সংগঠিত ১৬জন আনন্দমার্গী সন্ন্যাসী ও ১ জন সন্ন্যাসিনীর বর্বরোচিত হত্যা তার শীর্ষতম বললে অত্যুক্তি হয় না।  সেইদিন কি ঘটেছিল? সময় সকাল সাড়ে সাতটা, বালিগঞ্জ অঞ্চলের বিজন সেতুতে ঘটে প্রলয়ংকর কান্ড; অতি সক্রিয় কম্যুনিস্ট হস্তক্ষেপে নিহত হলেন ১৭ জন সন্ন্যাসী, সন্ন্যাসিনী। কিছু বোঝার আগেই একটি ট্যাক্সির ওপর ঝাঁপিয়ে পরে সিপিআইমের কর্মী, সমর্থকবৃন্দ। টেনে-হিঁচড়ে বার করা হয় গৈরিক বস্ত্রধারী একদল মানুষকে। এবং সভ্য জগৎকে স্তম্ভিত করে, জনসমক্ষে তাঁদের উপর চলে পাশবিক অত্যাচার। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শাবল দিয়ে মাথা ফাটিয়ে, ছোরা দ্ধিকে চোখ উপড়ে তাঁদের জ্বালিয়ে দেওয়া হয় পেট্রল ও অ্যাসিড সহকারে।

 

সীমাহীন নৃশংসতা মানুষকে করেছিল হতভম্ব কিন্তু তার অস্বাভাবিক দ্রুত গতি ঘটনাটি মানুষকে দেখতে বাধ্য করেছিল একপ্রকার। কমপক্ষে প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে চলেছিল এই হত্যালীলা কিন্তু তার মধ্যে পুলিশের কোন আধিকারিককে উঁকি মারতেও দেখা যায়নি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দুরে থাক।

স্থানীয় অঞ্চলে ছেলেধরার ঘটনা বাড়ছে আর সেই অপরাধীদের শায়েস্তা করার জন্য অপেক্ষা করছেএক সশস্ত্র জনতা- তারপর সেই ব্যক্তিদের জনসমক্ষে গাড়ি থেকে নামিয়ে তাদের খুন করে দেহে অ্যাসিড ঢেলে দিচ্ছে, এ যে সর্বাংশে যুক্তিহীন তা বলাই বাহুল্য।

কিন্তু ৫ টি মামলা হলেও পুলিশের খাতায় ছিল না কোন অভিযুক্তের নাম। অর্থাৎ – এক ভয়ঙ্কর চক্রান্ত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এর সূত্র পশ্চিমবঙ্গে নয়, ত্রিপুরাতে। ৭০–এর দশকের শেষার্ধে ত্রিপুরা উপজাতি যুব সমিতির সক্রিয় আন্দোলন রাজ্যকে সরগরম করে। আনন্দমার্গের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকারের Progressive Utilization Theory (PROUT) -এর ভিত্তিমূলে প্রতিষ্ঠিত “আমরা বাঙালী’-এর উত্থান যোগ করে অন্য মাত্রা।

ক্রমাগত রাজনৈতিক সংঘর্ষে জর্জরিত হয় সিপিআইএম। বিভিন্ন হিংসাত্মক ঘটনাবলীতে নিহত হন ১৮০০ ব্যক্তি, যাঁদের অধিকাংশই বাঙালী। তৎকালীন ত্রিপুরার এই সংঘর্ষপূর্ণ রাজনীতির কোন প্রতিফলন যাতে পশ্চিমবঙ্গে না হয় তার জন্য অত্যধিক সক্রিয় ছিল সিপিআইএম।

কিরকম ছিল পশ্চিমবঙ্গ? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় প্রখ্যাত ইংরেজী পত্রিকা “India Today”-এর correspondent শ্রী সুমিত মিত্রর কলমে। ১৫ই জানুয়ারী, ১৯৮০ সালে এই পত্রিকায় প্রকাশিত হয় শ্রী মিত্রর একটি ইংরেজী প্রবন্ধ – “West Bengal; Marxists on the Wane” তিনি লেখেন, “……However, the people have been alienated from the Marxists for much more than merely overdoing the campaign. The much publicised land reforms have only redistributed rural privileges instead of solving any of the basic problems. The panchayats are associated in the public mind with all kinds of nepotism and corruption.
The Marxists maintain that they will be able to garner all the poor men’s votes. But that may be just wishful thinking. Though the CPI-M has a large peasant organisation at Arambagh, its peasant front, Krishak Samiti, is often accused of partisanship. Said Manmatha Patra, a schoolteacher “Here you find two types of poor; the Krishak Samiti- poor, and the non-Krishak Samiti-poor.”…অর্থাৎ প্রথম থেকেই ভূমিসংস্কার ও সংকীর্ণতার হেতু, সরকারে আসীন হওয়া সত্ত্বেও বামফ্রন্ট, বিশেষত সিপিআইএম-র পথ ছিল কন্টকাকীর্ণ।

শ্রী তুষার ভট্টাচার্যের “বিজন সেতু ১৯৮২” নামা গ্রন্থে রয়েছে কিছু বিস্ফোরক তথ্য, অবিভক্ত ২৪ পরগণার তদনীন্তন অতিরিক্ত জেলাশাসক শের সিংয়ের সাথে কথোপকথনের মাধ্যমে। জেলাশাসকের মতানুযায়ী, হত্যালীলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল রাণী রাসমণির পরিবারের একটি জমির দখল নিতে।

এই জবরদখলের আইনি পরামর্শদাতা ছিলেন শ্রী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, ব্যারিস্টার ও পরবর্তীকালে সিপিআইএম-এর শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম ও লোকসভার স্পীকার।

শ্রী সিং-এর মতে, তিনি এই গোপন ষড়যন্ত্রটি বিজন সেতুর হত্যাকাণ্ডের অন্তত তিন মাস আগে জানতে পেরেছিলেন এবং এটিই তাঁর কাল হয়েছিল। শুধু transfer নয়, তাঁকে suspend ও করা হয়েছিল। ……..গ্রন্থে বর্ণিত, “১৬ই জানুয়ারী…আমি উক্তি চিঠি পাই যা বাংলায় লেখা। চিঠিটি মন্ত্রী বিনয় চৌধুরীর ছিল – নির্দেশ ছিল ‘বিক্রি করছে, বন্ধ করতে হবে, নোটিশ দিতে হবে’ – কিন্তু চিঠিতে স্বাক্ষর করেননি। চিঠিটি নিজে হাতে ডিএম আমাকে দেন। ‘আনন্দমাগ্রী ওখানে উৎপাত করছে, জমি কিনছে, unnecessary কব্জা করছে। Please দেখুন।’
আমার প্রথম সন্দেহ শুরু হয় যে, চিঠি বাংলায় লেখা। মন্ত্রী বিনয় চৌধুরীর নামে এসেছে – অথচ মন্ত্রীর স্বাক্ষর নেই চিঠিতে। মন্ত্রী বিনয় চৌধুরী সব থেকে ভদ্রলোক বলে পরিচিত ছিলেন পশ্চিমবাংলায়।

আমি আমার অফিসে আসি – আমার পিএ-কে বলি যে মন্ত্রী বোধহয় চিঠিতে স্বাক্ষর করতে ভুলে গেছেন। কিন্তু জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাণু ঘোষ এটা দেখেননি সেটা হতে পারে না। আমি সরকারী প্লিডারের সঙ্গে আলোচনা করি। তিনি তখন বলেন, এই সমস্যা যখন কসবা থানার অধীনে, তখন আপনি কসবা থানার ওসি-র কাছে বিস্তারিত জানতে চান। আমি সঙ্গে সঙ্গেই কসবা থানার ওসি-কে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য জানাই। ওসি দুদিনের মধ্যে রিপোর্ট আমাকে পাঠান। তারিখ ছিল ১৮ই জানুয়ারী। রিপোর্টে জানালেন – ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার লোকের দুটো গ্যাং লাঠিসোটা বল্লম নিয়ে জমি দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জমি দখলকে কেন্দ্র করে গন্ডগোলের আশংকা রয়েছে।

প্রাণহানির সম্ভাবনা আছে, সাময়িকভাবে পুলিশ দিয়ে মোকাবিলা করলেও ওখানে ১৪৪ ধারা জারি করা দরকার।

আমি আমার সেক্রেটারীর সাথে বিস্তারিত আলোচনা করি এবং সঙ্গে সঙ্গে ১৪৪ ধারা জারির নির্দেশ দিই। তার কপি কসবা থানার ওসির কাছে পাঠাই। তারিখ ছিল ১৯শে জানুয়ারী, এটা ১৮ই হতে পারে। স্পষ্ট নির্দেশ ছিল ওই জমিতে ৪ জনের বেশী কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এটা ৬০ দিনের জন্য করা হয়েছিল।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (রাণু ঘোষ) আমাকে জানালেন – ‘আমার সঙ্গে আলোচনা না করে কি করে আপনি ১৪৪ ধারা জারি করলেন?’ আমি তাঁকে বললাম – ‘আমি আমার পদের অধিকার থেকেই এটা করেছি। কোন জায়গাতে কেউ যদি জীবন ও সম্পত্তি নিয়ে নিরাপত্তার অভাব বোধ করে, যদি তদন্ত করে দেখা যায় ঘটনার সত্যতা রয়েছে, তা সে যে কোন জায়গাতেই হোক না কেন – সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা যাবে না কেন? আমি এখানে তদন্ত করে দেখেছি, দেখার পরেই ১৪৪ ধারা জারি করেছি। ‘

১৭ জন মারা গেল। আমার অনুমান যে ১০০ শতাংশ সঠিক ছিল, তা প্রমাণিত হল।
১৯শে জানুয়ারী, ১৯৮২ তে মন্ত্রী বিনয় চৌধুরীর রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ঘরে আলোচনা হয়। সেখানে এম এল এ ক্ষুদিরাম ভট্টাচার্য আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘ আমি ১০ হাজার লোক নিয়ে জমি দখল করব। আপনি কি করে সেটা ঠেকান সেটা আমি দেখবো। ‘
আমি তখন মন্ত্রী বিনয় চৌধুরীকে বলি – ‘এটা আলোচনার মিটিং, এখানে এ ধরণের কথাবার্তা বলে সমাধান সূত্র পাওয়া সম্ভব?’ তখন বিনয় চৌধুরী এম এল এ ক্ষুদিরাম ভট্টাচার্যকে বলেন, ‘তুমি বোসো তো। এ রকম কথা বলতে নেই, অসভ্য কথা বলতে নেই।’

আনন্দমার্গীদের হত্যার পর জ্যোতি বসুকে প্রশ্ন করা হয়েছিল – ‘আপনি ঘটনাস্থলে যাবেন কি না?’ তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ওখানে গিয়ে কি করব?’
আবার এই জ্যোতি বসুই রাইটার্সে সাংবাদিকদের সামনে বলেছিলেন, ‘আনন্দমার্গীরা সিপিআইএম কে দোষী সাব্যস্ত করছে – এম এল এ শচীন সেন যদি ১০ হাজার লোক নিয়ে যায় সেটা কি ভালো হবে?’
এই ‘১০ হাজার লোক’ নিয়ে যাবার কথাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এই কথাটা জ্যোতি বসু, ক্ষুদিরাম ভট্টাচার্য, শচীন সেন – তিনজনেই ব্যবহার করেছেন।

…….একটা ঘটনা, আমাকে সরিয়ে দেওয়ার পর সেখানে জহর সরকারকে আনা হয়। রাণু ঘোষ জহর সরকারকে দিয়ে আমার সমস্ত ফাইল ঘেঁটে কাগজপত্র এদিক ওদিক করে দেয়। গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত চিঠিপত্র, দলিল পুড়িয়ে দেয়। ………….

পরবর্তী অধ্যায়? গণহত্যার বিরুদ্ধে আনন্দমার্গীদের পক্ষ থেকে কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের অন্যত্র বিক্ষোভের আয়োজন করা হলেও তা শাসক দলের তাণ্ডবলীলায় বন্ধ হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তি হয় ধ্বংস। কলকাতার বুদ্ধিজীবীদের প্রতিবাদ মিছিলও তার ব্যতিক্রম নয়।

দেশপ্রিয় পার্ক থেকে বিজন সেতুতে হত্যার স্থল পর্যন্ত যায় সেই মিছিল কিন্তু ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকায় পুলিশী প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন আশাপূর্ণা দেবী, মৈত্রেয়ী দেবী, অন্নদাশঙ্কর রায়, অম্লান দত্ত, গৌরকিশোর ঘোষ, প্রমুখ; সাথে আরও ৫০ জন মহিলা সহ প্রায় ৪০০ লোক। কটাক্ষ করে সিপিআইএম সুপ্রিমো প্রমোদ দাশগুপ্ত বলেছিলেন, “আমাদের দুঃখ ও ক্ষোভ হয় যখন দেখি আনন্দমার্গীদের জন্য বুদ্ধিজীবীদের শোক উথলে উঠছে৷”

এই কথারই পুনরাবৃত্তি হয়েছিল নন্দীগ্রাম-নেতাই গণহত্যার পর, ন্যূনতম অনুশোচনার পরিবর্তে।
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অক্টোবর, ২০১৩ সালে জাস্টিস অমিতাভ লালা কমিশন নিযুক্ত করেন ১৯৮২ সালের গণহত্যার তদন্ত করতে। কিন্তু প্রায় ৭ বছর কেটে গেলেও তাতে উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি ঘটেনি।

পরিশেষে, ঐতিহাসিকভাবে সত্য যে Red Terror বা লাল সন্ত্রাস সৃষ্টি কম্যুনিস্ট শাসনতন্ত্রের এক অপরিহার্য অংশ। বলশেভিক বিপ্লবের অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তি লিওঁ ট্রটস্কি ১৯৪০ সালে মেক্সিকোতে নিহত হন কম্যুনিস্ট ডিক্টেটর স্তালিন দ্বারা প্রেরিত ও NKVDএর রেমন মার্সেডার দ্বারা। বলা হয় Joseph Stalin was a hangman whose noose could reach across oceans. – কিন্তু সেটি মূলত মার্কসবাদী মতবাদ ও তার স্বৈরতন্ত্রের প্রতীক; এখানে ব্যক্তির পরিবর্তে মতবাদই একমাত্র বিবেচ্য – যেখানে স্বাধীন চিন্তার অর্থ – মৃত্যু।

* লেখকের মতামত সম্পূর্ণ নিজস্ব।

Related Articles

Back to top button
Close