fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পেটের দায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার কালনার যুবকের

অভিষেক চৌধুরী,কালনা: পেট যে বড়ো বালাই!আর এই পেটের দায়েই মানুষকে কি না করতে হয়।জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমনিভাবেই কালনার ভাগীরথী নদী সাঁতরে পার হয়ে নিজের কর্মস্থলে যাচ্ছেন পূর্ব বর্ধমানের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী যুবক সন্জয় পাল।চোখ কপালে ওঠার মতো এমনিই এক ঘটনায় স্তম্ভিত অনেকেই।  লকডাউনের জেরে বন্ধ ফেরি পরিষেবা।আর এই কারণেই ভাগীরথী নদীর ওপারে অর্থাৎ নদীয়া জেলার শান্তিপুর থানার নৃসিংহপুর এলাকায় নিজের সোনার দোকানটিও খুলতে পারছিলেন না কালনার জাপট পাড়ার বাসিন্দা সঞ্জয় পাল।দোকান বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক কারণেই একদিকে যেমন তিনি লোকসানের সম্মুখীন তেমনি অন্যদিকে তার পেটে পড়েছে টান।

কারণ সংসারের আয় বলতে তো ওই দোকানটাই। আর সেইটাই বন্ধ মানে সংসারও প্রায় অচলাবস্থার দিকে।দেওয়ালে পিঠ ঠিকে যাওয়ার মতো এমনিই এক পরিস্থিতিতে সে গঙ্গা নদীর ভয়াল ভয়ঙ্কর স্রোতকে উপেক্ষা করেই সে নেমে পড়ে নদীতে।আর একটি টিউবকে অবলম্বন করেই সে সাঁতরে পাড় হয়ে রওনা দেয় নিজের সেই ছোট সোনার দোকানে।এই বিষয়ে সন্জয় পাল বলেন,‘ সোনার দোকান যখন অনেকেই খুলছেন তখন নিজের দোকান খোলার জন্য কালনা ফেরিঘাটে যাই ফেরি পরিষেবার বিষয়ে জানতে।

কিন্তু নৌকা করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া কোনও কিছুই পারাপার হচ্ছে না।আমাকেও ফেরি পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয়নি।যদিও আমার মতো অনেকেই শান্তিপুরের দিকে চালের আরৎ সহ অনেক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।তারাও যেতে পারছেন না ওপারে।আমার সংসারে বৃদ্ধ বাবা-মা ছাড়া স্ত্রী ও ভাই রয়েছে।খরচ অনেক।প্রথম ও দ্বিতীয় দফার লকডাউনে কোনও রকমে সংসার চালাই।এরপরেই সোনার দোকান খোলার ইঙ্গিত পাওয়ার পরেই দোকান খোলার জন্য তৎপর হই।কিন্তু কিভবে ওই পাড়ে যাবো ভেবে পাচ্ছিলাম না।এদিকে সংসারে দিনকে দিন আর্থিক অনটন শুরু হয়েছে। বাধ্য হয়ে ভাগীরথী নদীতে কলার ভেলায় পার হবো বলে ঠিক করি। তৈরিও করে ফেলি একটি কলার ভেলা। কিন্তু নদীতে তা নিয়ে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে যাচ্ছিল। স্রোতের টানে বিপদ আসছিল।তারপরেই ঠিক করি ভেলা নয় লরির টিউবে করে সাঁতরে নদী পার হবো।

একটি টিউব কিনে ফেলি।নদীতে জীবনের ঝুঁকি অনেক।কিন্তু তার চেয়ে বড় বিপদ সংসারের বাবা-মা ও অন্যান্য সদস্যদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া।সাঁতার জানা আছে।তাই নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গামছা পড়ে একটি লাইলনের ব্যাগে জামা প্যান্ট, দোকানের চাবি সহ দরকারি জিনিস প্যাক করে টিউব নিয়ে নেমে পরি ভাগীরথী নদীতে। স্রোত ঠেলে পৌঁছে যাই শান্তিপুরের নৃসিংপুর পাড়ে। টিউবটি নদীর পারে পরিচিত জায়গায় রেখে ব্যাগ থেকে শুকনো জামা প্যান্ট পড়ে চলে যাই দোকানে।’নদী পারের বাসিন্দা দিব্যেন্দু দাস,শৈলেন দাসরা তার এই কর্মকান্ড দেখে রীতিমত স্তম্ভ।কারণ পেটের জ্বালা জুড়োতে মানুষকে কতই না সাহসী হতে হয়।

Related Articles

Back to top button
Close