fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নাবালিকা ধর্ষণের অভিযোগে কালনায় গ্রেফতার যুবক 

নিজস্ব প্রতিনিধি, কালনা: আদিবাসী মহিলাকে গণধর্ষনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে ফের ধর্ষনের ঘটনা ঘটলো পূর্ব বর্ধমানের কালনায়। এবার দশ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে ধর্ষনের অভিযোগ উঠলো। বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে কালনা থানার সুভাষপল্লী এলাকায়। নাবালিকার বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার কালনা থানার অভিযুক্ত যুবক সুব্রত হালদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে নাবালিকার পরিবার।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, কালনার সুভাষপল্লী এলাকাতেই বাড়ি ওই নাবালিকার। ডাল ও ম্যাগি কিনে আনার জন্য বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা নাগাদ পরিবারের লোকজন নাবালিকাকে এলাকার একটি মুদিখানা দোকানে পাঠায়। সেইসব কিছু কিনে নিয়ে নাবালিকা বাড়ি ফিরছিল। পথে এলাকার যুবক সুব্রত হালদার নাবালিকাকে দাঁড় করায়। যুবক নাবালিকাকে বলে তার মোবাইল ফোনে চার্জ নেই।মোবাইল ফোনটি নাবালিকার হাতে দিয়ে সেটি যুবক তাদের বাড়িতে রেখে আসতে বলে।

অভিযোগ, ওই সময়ে নাবালিকার পিছন পিছন নিজের বাড়িতে ঢোকে যুবক। নাবালিকা যুবকদের বাড়িতে ঢোকার পরেই যুবক তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে নাবালিকা যুবকের কুকীর্তির কথা পরিবারের লোকজনকে জানায়। ওই দিন রাতেই কালনা থানায় যুবকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন নাবালিকার বাবা। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীন) ধ্রুব দাস জানিয়েছেন, তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত সুব্রত হালদারকে গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এই ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে বৃহস্পতিবার কালনায় তৃণমূল ও বিজেপির রাজনৈতিক তর্জা তুঙ্গো ওঠে। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাতে কালনা মহকুমার নাদনঘাট থানার সাকরা গ্রাম নিবাসী এক আবিবাসী বধূকে গণধর্ষনের অভিযোগ ওঠে। ওই মহিলা পুলিশকে জানান, গালায় ধারালো কাস্তে ঠেকিয়ে তিন দুস্কৃতি তাঁকে চ্যাংদোলা করে তাঁদের বাড়ির অদূরে মাঠে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। ওই দুস্কৃতিদের সঙ্গে এক মহিলাও ছিল বলে নির্যাতাতা পুলিশকে জানায়। নির্যাতিতার দেওয়া বয়ানের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ বধুবার দুপুরের মধ্যে ডাক্তার হেমব্রম নামে এক জনকে গ্রেফতার করে। বাকি অভিযুক্তদের পুলিশ খোঁজ চালাচ্ছে।

বুধবার সাকরা গ্রামে নির্যাতিতার বাড়িতে যান পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ-সভাধীপতি দেবু টুুডু।তিনি নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে বুধবার সন্ধ্যায় কালনার সুভাষপল্লীতে নাবালিকাকে ধর্ষনের ঘটনা ঘটে। এই ধর্ষনের ঘটনা নিয়েও এদিন সকাল থেকে শুরু হয়ে যায় রাজৈতিক তর্জা। অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে কালনার বিজেপি নেতৃত্ব কালনা থানায় ডেপুটেশান দেয়। আর বিজেপির এই ডেপুটেশান দেবার ঘটনাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি দেবু টুডু।

এদিন তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশে যোগী রাজ্যের পুলিশ ধর্ষণকারীদের পক্ষ নিয়ে রাতের অন্ধকারে নির্যাতিতার দেহ জ্বালিয়ে দেয়। কিন্তু বাংলার পুলিশ সেই পথে হাঁটে না। তাই আদিবাসী মহিলাকে গণধর্ষনের ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। নাবালিকাকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তকেও এদিনই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তারপরেও নির্যাতিতাদের পাশে না দাঁড়িয়ে বিজেপি ঘৃণ্য রাজনীতি করে যাচ্ছে। পাল্টা কালনার বিজেপি মণ্ডল সভাপতি সুভাষ পাল বলেন, “একের পর এক এই ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণ করে দিচ্ছে বাংলায় মহিলাদের নিরাপত্তা নেই। বিজেপির আন্দোলনে নেমেছে বলেই অভিযুক্তারা পার পাচ্ছে না। নয়তো সব ম্যানেজ হয়ে যেত। ”

Related Articles

Back to top button
Close