fbpx
অফবিটদেশহেডলাইন

ইচ্ছেডানায় ভর করে চা বিক্রেতার মেয়ে আজ বায়ুসেনার ফাইটার পাইলট

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০১৩ উত্তরাখাণ্ডে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের সময় উদ্ধারকাজে ঝাপিয়ে পড়েছিল বায়ুসেনা। তাদের কাজ  দেখেই স্বপ্ন দেখেছিলেন কিশোরী আঁচল গঙ্গওয়াল। তিনিও একদিন কাজ করবেন বায়ুসেনার পাইলট হয়ে। তাঁর স্বপ্নকে আকাশকুসুমই মনে হয়েছিল আঁচলের অতি আপনজনেরও। যাঁর বাবা চায়ের দোকান চালান, তাঁর মেয়ে কি না বায়ুসেনার পাইলট হবেন! উড়ে এসেছিল এরকম তির্যক হাসি-মন্তব্যও। নিজের উপর আত্মবিশ্বাস থাকলে সেই স্বপ্ন একদিন ঠিক পূরণ হবেই। এমনই আত্মবিশ্বাস ছিল তরুণী আঁচল গাঙ্গোয়ালের মনে। অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে পাথেয় করে তাই শেষ পর্যন্ত নিজের স্বপ্নপূরণ করতে পেরেছে আঁচল। বাবা চা বিক্রেতা। এই পরিচয় নিয়ে আঁচল আজ বায়ুসেনার বিমান ওড়াতে তৈরি। মেলে ধরেছেন নিজের স্বপ্নের পাখা।

২৪ বছর বয়সী তরুণী সব বাধা পেরিয়ে চাওয়ালার মেয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার ফ্লাইং অফিসার কমিশনড হল। কিছুদিন আগেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে আঁচলের। কিন্তু তাঁর এই চলার পথ খুব একটা মসৃণ ছিল না। এমনও সময় গিয়েছে, যখন তাঁর স্কুল ফি দেওয়ার টাকা ছিল না তাঁর বাবার কাছে।

লকডাউনের জন্য মেয়ের এই গৌরবের সাক্ষী থাকতে পারেননি বাবা সুরেশ গাঙ্গোয়াল। কিন্তু মেয়েকে দূর থেকেই প্রচুর আশীর্বাদ করেছেন তিনি। মধ্যপ্রদেশের নীমুচ জেলার বাসিন্দা সুরেশ চা-বিক্রেতা। কিন্তু মেয়ের স্বপ্নপূরণে বাধা হতে দেননি তিনি। তবে একদিনেই এই স্বপ্ন দেখেননি আঁচল। ২০১৩ সালে কেদারনাথে ভয়াবহ দুর্যোগের সময় বায়ুসেনার বীরত্বের ভিডিও টিভিতে অবাক চোখে দেখেছিলেন আঁচল। বায়ুসেনার চপার দুর্গতদের সাহায্যে যেভাবে কাজ করেছিল, সেনাকর্মীরা যেভাবে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তাই উদ্বুদ্ধ করে আঁচলকে।

আরও পড়ুন: ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মেক্সিকো, জারি সুনামির সতর্কতা

এরপর থেকেই সেনার পরীক্ষার জন্য নিজেকে তৈরি করতে থাকেন আঁচল। বই জোগাড় করে, চলে পড়াশুনা। আঁচলের বাবা সুরেশের কথায়, গত ২৫ বছর ধরে চা বিক্রি করছি। আমার আর্থিক সামর্থ কেমন হতে পারে, সকলে বুঝতেই পারছেন। মেয়ে নিজের চেষ্টায় সব করেছে। ৬ বারের চেষ্টায় পাস করেছে পরীক্ষা। বাবা বলছেন, অনেকবার এমনও হয়েছে যে, স্কুল-কলেজের ফি দিতে পারিনি। লোকের থেকে ধার করে স্কুলের মাইনে দিয়েছি। আজ গর্বে আমার বুক ফুলে যাচ্ছে। মেয়ে আমার জীবেন আনন্দ নিয়ে এসেছে।মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহন ট্যুইট করে বাবা ও মেয়েকে আভিনন্দন জানিয়েছেন। শুধু চা বিক্রেতা বাবার মুখ উজ্জ্বল নয়, গোটা মধ্যপ্রদেশ আজ আঁচলের জন্য গর্বিত বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

Related Articles

Back to top button
Close