fbpx
আন্তর্জাতিকদেশহেডলাইন

বিতর্ক উস্কে গিলগিত-বালতিস্তানকে পাকিস্তানের ‘প্রদেশ’ঘোষণা ইমরানের, সংঘাতের সম্ভাবনা

নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ (সংবাদ সঙ্গস্থা): আবার বিতর্কে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ঘরে-বাইরে প্রতিবাদ সত্ত্বেও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিত-বালতিস্তানকে পাকিস্তানের বিশেষ প্রদেশের মর্যাদা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এর ফলে, প্রতিবেশি দুই-দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আবার সংঘাতের পড়তে চলেছে।

 

সূত্রের খবর, কাশ্মীরের উত্তর সীমান্তঘেঁষা গিলগিত-বালতিস্তানকে পাকিস্তান জোর করে শাসন করতে চাইলে, নয়াদিল্লি তা মেনে নেবে না।

গিলগিত-বালতিস্তানকে পাকিস্তান বিশেষ প্রদেশের মর্যাদা দিতে চলেছে বলে খবর পেয়ে আগে থেকেই এর তীব্র বিরোধিতা করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক । কিন্তু তাতে ইসলামাবাদ কর্ণপাতের প্রয়োজনীয়তা বিন্দুমাত্র অনুভব করেনি। উল্টে ইমরান খান বলেন, ‘রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোল্যুশন মেনেই আমাদের সরকার গিলগিত-বালতিস্তানকে বিশেষ প্রাদেশিক মর্যাদা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

 

একইসঙ্গে, পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জাহিদ হাফিজ চৌধুরী বলেন, ‘এ বিষয়ে ভারতের নাক গলানোর কোনো অধিকার নেই। ৭৩ বছর ধরে জম্মু ও কাশ্মীরকে অবৈধভাবে জোর করে দখল করে রাখা ভারত গিলগিত-বালতিস্তান ইস্যুতে আইনত, নৈতিক বা ঐতিহাসিক—কোনোভাবেই বক্তব্য দেয়ার অধিকার রাখে না।’

এদিকে, ইমরান খান ও জাহিদ হাফিজের দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব অভিযোগ করেন, ‘পাকিস্তান চুক্তি ভঙ্গ করেছে। ১৯৪৭ সালের চুক্তি অনুযায়ী, গিলগিট–বালটিস্তান ভারতের কেন্দ্রীয়শাসিত অঞ্চল জম্মু–কাশ্মীরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জোর করে দখল করে রাখা ওই অঞ্চলের কোনও কিছু পরিবর্তন করার অধিকার নেই পাকিস্তানের।

 

এ ধরনের কাজ আসলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমান। পাশাপাশি পাকিস্তানের ওই  সিদ্ধান্তে এটা প্রমাণ হয় যে কীভাবে দিনের পর দিন তারা একটি অঞ্চলের মানুষদের স্বাধীনতা খর্ব করে চলেছে। ভারতের যে জায়গাগুলো পাকিস্তান দখল করে রয়েছে, সেগুলোকে নিজেদের অধীনে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকে ইসলামাবাদের উচিত অবিলম্বে সেখান থেকে সরে যাওয়া।’

 

তিনি সাফ জানিয়েছেন, ‘পাকিস্তান সরকার বেআইনিভাবে, জোর করে দখলে রাখা ভারতীয় ভূখণ্ডের একাংশকে চরিত্রগত পরিবর্তনের যে চেষ্টা চালাচ্ছে, ভারত তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।’

সূত্রের খবর, চলতি বছরের প্রথমদিকে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট সেখানে প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচন করানোর জন্য পাকিস্তান সরকারকে ২০১৮ সালের প্রশাসনিক আইন সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছিল। এরপরে ভারত সরকার পাকিস্তানকে ‘কূটনৈতিক প্রতিবাদপত্র’ (ডিমার্শ) পাঠায়। কিন্তু তা উপেক্ষা করেই সেখানে নির্বাচনের সিদ্ধান্তে অটল থাকে ইসলামাবাদ। আগামী ১৫ নভেম্বর নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়।

এপ্রসঙ্গেও অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেছেন, ‘গিলগিট–বালটিস্তানে নির্বাচন ঘোষণা করে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে পাকিস্তান।’ এদিকে, বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, এই ঘটনার ফলে নতুন করে সংঘাতের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি বহুদূর এগোতে পারে!

Related Articles

Back to top button
Close