fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

‘আগুন নিয়ে খেলবেন না’, গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে কেন্দ্রকে তোপ ‘আমরা বাঙালির’

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  বাম আমল থেকে পাহাড়কে বিভক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে গোর্খারা। তাঁদের আন্দোলনকে প্রশমিত করতে তৎকালীন বাম সরকার থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের তৃণমূল সরকার…বলতে গেলে সকলেরই  কালঘাম ছুটছে। যদিও ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসার পর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, পাহাড় বাংলার অবিচ্ছেদ্য অংশ।  তারপরও বিভিন্ন সময় দার্জিলিংকে পৃথক রাজ্য করার দাবিতে গর্জে উঠেছে গোর্খারা। এবার এই নিয়ে বিজেপি সরকারকে এক হাত নিল ‘আমরা বাঙালি’।

 

‘আমরা বাঙালি’-র কেন্দ্রীয় সচিব এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ‘পশ্চিমবাংলাকে পুনরায় খণ্ডিত করার গভীর চক্রান্ত শুরু করে দিয়েছেন দার্জিলিং-এর সাংসদ রাজু বিস্তা। তিনি দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট পুনরায় গোর্খাল্যান্ডের দাবি তুলেছেন। তবে ‘আমরা বাঙালি’ ও জনগোষ্ঠীর চাপে এক ধাপ পিছিয়ে এসেছিল। কিন্তু বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার দার্জিলিং সাংসদকে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।‘ এর প্রতিবাদে বাংলার বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে শিলিগুড়ি ও বারাসতে প্রতিবাদ সভা হয় ও রাজু বিস্তারের কুশ পুত্তলিকা দাহ করা হয়। আমরা বাঙালির কেন্দ্রীয় সচিব বকুল চন্দ্র রায় কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও চিন এই চারটি বৈদেশিক রাষ্ট্রের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রয়েছে দার্জিলিং। যা ভারতের নিরাপত্তার স্বার্থে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে নেপালি মদতপুষ্ট ভারত গোর্খারাই পরবর্তী কালে স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি জানাবে। এমনিতেই ভারত নেপাল ও চিন সীমান্তে অস্থির আস্থা তৈরি হয়েছে। আমরা বারবার বলেছি গোর্খাল্যান্দ আন্দোলনের পেছনে রয়েছে চিন ও নেপালের মদত’।

       আরও পড়ুন: নারী সুরক্ষায় নতুন হেল্পলাইন নম্বর চালু করলো বিজেপি মহিলা মোর্চা

এইপ্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন,  ‘গত ৩ জুলাই নেপাল কনসুলেট ভবনের সামনে ‘আমরা বাঙালি’র পক্ষ থেকে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিক্ষোভ চলাকালে ‘আমরা বাঙালি’র কেন্দ্রীয় সচিব সহ ১২ জন কর্মীকে গ্রেফতার হতে হয়। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগুন নিয়ে খেলবেন না। বাংলা ভাঙার চক্রান্ত থেকে বিরত থাকুন নতুবা এর পরিণাম হবে ভয়াবহ।

 আরও পড়ুন: লাদাখে উদ্বেগ আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয়দের, অসময়ে ভারতীয় সেনা যেন ‘ত্রাতা’!

শিলিগুড়িকে বাঙালি মুক্ত করার হুমকি দিয়েছে জনৈক গোর্খা। বকুল রায় রাজ্য সরকারের কাছে এই ব্যপারে গোর্খাল্যান্ডের কর্মীকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। এছাড়া বকুল চন্দ্র রায় দক্ষিণ কলকাতার ফুসফুস ‘রবীন্দ্র সরোবর’কে ছটপুজোর নামে দূষিত করার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বিশেষ করে গত বছর তালা ভেঙে রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজোর নামে যে উন্মাদনা ও তাণ্ডবলীলা দেখিয়েছে তিনি তার তীব্র প্রতিবাদ করেন।

 

কেএমডি যদি গ্রীন ট্রাইব্যুনালকে উপেক্ষা করে পুনরায় ছটপুজোর অনুমতি দেয় তাহলে ‘আমরা বাঙালি’ দক্ষিণ কলকাতার রাস্তায় নেমে তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। আমরা কারও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে বাধা দিতে চাই না বরং কেএমডি’র উচিৎ অবিলম্বে এর বিকল্প ব্যবস্থা করুক এবং কলকাতার ঐতিহ্যময় রবীন্দ্র সরোবরকে বাঁচান। রবীন্দ্র সরোবরকে বাঁচান। রবীন্দ্র সরোবর আমাদের গৌরবের নিদর্শন। এরই সঙ্গে দক্ষিণ কলকাতার সমস্ত বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রবীন্দ্র সরোবরকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসতে আহবান জানান।

 

Related Articles

Back to top button
Close