fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দাড়িভিট কাণ্ডের দ্রুত নিষ্পত্তি চাইল এবিভিপি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘সরকারি উদাসীনতায় দাঁড়িভিট কাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া থমকে আছে।’ আভিযোগ করলেন এবিভিপি দক্ষিণ বঙ্গ প্রান্তীয় সম্পাদক সুরঞ্জন সরকার। সোমবার এক সক্ষাতকারে দাঁড়িভিট কাণ্ডের দ্রুত নিস্পত্তির দাবি জানলেন।
তিনি বলেন, ‘দাঁড়িভিট কাণ্ডের মৃত দুই পরিবারের হাতে কুড়ি লক্ষ টাকা দেওয়া হোক। একই সঙ্গে সিবিআই তদন্ত করা হোক। দুই বছর আগের এই মর্মান্তিক নিষ্ঠুর ঘটনা বাংলার ছাত্র সমাজের মননে আজও বিদ্যমান। রাজেশ এবং তাপসের পরিবারও ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে বারবার রাস্তায় নেমেছেন। অথচ পশ্চিমবঙ্গ সরকার তদন্তের ব্যাপারে যথেষ্ট উদাসীন। তাই যেখানে সরকার চুপ, প্রশাসন চুপ সেইখানে সেই প্রথম দিন থেকেই সন্তানহারা দুই পরিবারের পাশে থেকে ক্রমাগত ন্যায় বিচারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ।’
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২০ শে সেপ্টেম্বর উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর মহকুমার দাড়িভিট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র তথা এবিভিপি-র দুইজন কার্যকর্তা তাপস বর্মণ ও রাজেশ সরকারের৷ তাদের অপরাধ তারা বিদ্যালয়ে উর্দু শিক্ষক নিয়োগের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। দাবি করছিলেন যে উর্দু নয়, বাংলা শিক্ষক চাই। ঘটনার প্রায় দুই বছর অতিক্রান্ত কিন্তু দোষীদের শাস্তি এখনও অধরা।
তাই প্রতিবারের মতো এই বছরও বিদ্যার্থী পরিষদ গোটা বাংলা জুড়ে  ২০শে সেপ্টেম্বর দিনটিকে ভাষা শহীদ রাজেশ ও তাপসের স্মরণে “পশ্চিমবঙ্গ বাংলা ভাষা দিবস” হিসেবে পালন করে। এই বছর প্রায় ১০০০ টি জায়গায় বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে এই দিনটি পালন করা হয়। যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। এবছরও বিদ্যার্থী পরিষদের কেন্দ্রীয় ও রাজ্যে নেতৃত্ব দাড়িভিটে যান এবং শহীদ রাজেশ ও তাপসের সমাধিস্থলে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন।
অন্য দিকে দাঁড়িভিটের ঘটনায় পিছিয়ে ছিল না বিজেপি শিক্ষক সেল। বিজেপি শিক্ষক। সেলের আহ্বায়ক দিপল বিশ্বাসের উদ্যোগে রবিবার ভার্চুয়ালি পালন করা হয় ভাষাবীর রাজেশ, তাপস স্মরণে পশ্চিমবঙ্গ মাতৃভাষা দিবস। ছিলেন বাংলা মাতৃ ভাষা আন্দোলনের অন্যতম মুখ শ্রী মোহিত রায়। পার্লামেন্টের অবসরের উপস্থিত ছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি  শ্রী দিলীপ ঘোষ এবং সহ-সভাপতি ডক্টর সুভাষ সরকার। দাড়িভিট থেকে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন রাজেশ তাপসের বাবা ও মা এবং বিজেপির শিক্ষক সেলের শিক্ষকবৃন্দ, এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উত্তর দিনাজপুর জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী ও বিশিষ্ট অধ্যাপক ডক্টর চিত্তরঞ্জন মন্ডল। ভিডিও কনফারেন্সে এবং ফেসবুক লাইভে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২৪ হাজার শিক্ষক।
এ ছাড়াও আগামী তিনদিন ব্যাপী পশ্চিমবঙ্গ মাতৃভাষা দিবসকে জেলা থেকে বিধানসভা বা মন্ডলে সকল মানুষের কাছে ব্যাখ্যা ও পালনের করা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। উক্ত অনুস্থনে বিজেপি শিক্ষা সেলের পক্ষ থেকে দিপল বিশ্বাস প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী পেডিমেন্ট চারটি ভাষা কেন থাকবে? রাজ্যে উর্দু থেকে সাঁওতালি ভাষায় বেশি লোক কথা বলে, তাহলে অলচিকি হরফে কেন থাকবে না?
আর উর্দু থাকার যুক্তিতে ভারতের ২২ টা রাষ্ট্রভাষায় থাকতে পারে। আসলে উর্দুর মাধ্যমে ধর্মীয় তোষণের রাজনীতি।’
দিপল আরও বলেন, ‘উর্দু আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে রাজেশ তাপসের হত্যার আজও বিচার হয়নি, কেন গুলি চালানোর দোষীর শাস্তি পেল না। বাংলায় ২০২১ বিজেপি সরকার এসে বিচারের মাধ্যমে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেবে। এবং রাজস্থান প্রশান্ত বলিদান কে স্মরণে রেখে এই দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গ মাতৃভাষা দিবস রূপে পালন করে যাব এবং পশ্চিমবাংলায় বাংলা ভাষাকে অগ্রাধিকার এর মাধ্যমে সর্বস্তরে সরকারি ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার রাখছে বিজেপি শিক্ষক সেল।’

Related Articles

Back to top button
Close