fbpx
কলকাতাহেডলাইন

করোনা আবহে হেল্পলাইন নম্বর, ছাত্রাবাসের ফি মুকুব সহ ১৫ দফা দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালকে চিঠি এবিভিপির

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: রাজ্যে করোনা পরিস্থিতিতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের পঠন-পাঠন,হেল্পলাইন নম্বর, ছাত্রাবাসের ফি মুকুব সহ ১৫ দফা দাবিতে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জোড়া চিঠি দিল এবিভিপি। বুধবার অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ দক্ষিণবঙ্গ প্রান্ত সম্পাদক সুরঞ্জন সরকার এ কথা জানান।

 

মঙ্গলবার এবিভিপি-র পক্ষ থেকে রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীকে জোড়া চিঠি লিখে রাজ্যের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত করায়। এই মুহূর্তে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার সম্পূর্ণ চিত্র তাই তারা চিঠির মাধ্যমে তুলে ধরেন রাজ্যের দুই সাংবিধানিক প্রধানের কাছে। লকডাউনের ফলে থমকে গিয়েছে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা। যেভাবে দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থাবা বসিয়েছে তাতে নিশ্চিত করে কবে লকডাউন উঠবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে অনেকেই নিয়মিত পঠন-পাঠনের থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কেউ বা ক্লাসে ওঠার পরীক্ষা দিতে পারছেন না আবার কেউ কেউ নিজের পিএইচডি রিচার্জ করার সুযোগ পাচ্ছেন না এই অবস্থায়। এমতাবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীরাও কিছুটা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাই তাদের কথা চিন্তা করেই এবিভিপি এর পক্ষ থেকে দক্ষিণবঙ্গ প্রান্ত সম্পাদক সুরঞ্জন সরকার চিঠি লেখেন।

 

তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে পঠন পাঠন বন্ধ প্রায় সর্বত্র।এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর শিক্ষা সংক্রান্ত কয়েকটি ঘোষণাতে শিক্ষামহলে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। ফলত লাখ লাখ শিক্ষার্থী এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে পড়েছে। তাই শিক্ষাসংক্রান্ত এবং সেইসঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর মঙ্গলবার এবিভিপি পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কমিটির পক্ষ থেকে কয়েক দফা দাবি নিয়ে মাননীয় রাজ্যপাল মহাশয় ও মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী-এর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছি।’

তাদের মূল দাবি অবিলম্বে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য উপযুক্ত ক্লাসরুমে সুবিধাসহ অনলাইনে পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা করা হোক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অনলাইন পড়াশোনা দেখা যাচ্ছে শিক্ষকরা মুখে মুখেই অংক করাচ্ছেন মুখে মুখে পড়াচ্ছেন। কিন্তু তাতে অনেকটাই সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের। ব্ল্যাকবোর্ডের চোখ না রাখতে পারলে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বুঝতে সমস্যা হয়। তাই সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে অনলাইন পঠন-পাঠনের সময় উপযুক্ত ক্লাসরুমে সুবিধার দাবি জানানো হয় এবিভিপি পক্ষ থেকে। এছাড়াও অধ্যাপকদের সঙ্গে কোন কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে দ্রুত যোগাযোগ করা যায় সে বিষয়ে অধ্যাপকদের নম্বর দেওয়ার কথাও জানানো হয়। পাশাপাশি প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব হেল্পলাইন চালু করতে হবে। যাতে যে কোন সমস্যায় ছাত্র-ছাত্রীরা দ্রুত ওই হেল্পলাইন গুলিতে যোগাযোগ করে সুরাহা পেতে পারেন। এছাড়াও যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেসে থাকেন বা হোস্টেলে থাকেন তাদের তিন মাসের ফ্রি মুকুব করা হোক। লকডাউন পরিস্থিতিতে অনেকেই আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন।

 

পাশাপাশি নিজের বাড়ি ছেড়ে অনেকটাই দূরে তারা এসেছেন পঠন-পাঠনের জন্য তাই কে কি রকম অবস্থায় আছে তা জানা সম্ভব নয় তবে আর্থিক সংকটে সবাই আছেন সে কথা ভেবেই ফ্রি মুকুবের কথা বলা হয়। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে লকডাউন উঠলেই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলির পরীক্ষা চালু করে দেওয়া হবে। স্বভাবতই এতে রীতিমত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যাবে ছাত্রছাত্রীরা তাই কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় খোলার এক মাস পর পরীক্ষা নেওয়ার জন্য তারা আবেদন জানায়। এছাড়াও যারা স্টাইফেন বা স্কলারশিপ পান তাদের দ্রুত সেই টাকা দেওয়া হোক। যারা পিএইচডি করছেন তারাও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। রিসার্চের কাজের জন্য যেতে পারছেন না বাইরে কোথাও ফলে থমকে রয়েছে তাদের রিসার্চের কাজ সে ক্ষেত্রে যারা পিএইচডি রিচার্জ করছেন তাদেরকে বাড়তি তিন মাস সময় দেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয় এবিভিপি পক্ষ থেকে।

 

এছাড়াও করোনা আবহে সর্বত্রই সংক্রমণের ভয় রয়েছে তাই ক্লাস রুম থেকে প্রেমিসেস সব জায়গাতেই সাইন্স করার ব্যবস্থা করা হোক পাশাপাশি বাইরে থেকে কেউ যাতে ভেতরে ঢুকতে না পারে সে ব্যবস্থাও নেওয়া হোক ওপরে ধোকা বাধ্যতামূলক করা হোক। ইউজিসির গাইডলাইন মেনে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলি কাজ করুক এমনটাই দাবি জানায় এবিভিপি।

Related Articles

Back to top button
Close