fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথে রহস্যমৃত্যু কেতুগ্রামের যুবকের,খাবারে বিষ মিশিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ পরিবারের

দিব্যেন্দু রায়, কাটোয়া: শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রীকে আনতে গিয়েছিলেন এক যুবক। কিন্তু স্ত্রী আসতে রাজি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে শ্বশুরবাড়িতে দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরে একাই বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সেই সময় মাঝ রাস্তায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ ওই যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় । কিন্তু কিছুক্ষনের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয় । মৃত যুবকের নাম বাবুরাম দাস(২৫)। তাঁর বাড়ি কেতুগ্রামের কেঁওগুড়ি গ্রামে। বাবুরামকে খাবারে বিষ মিশিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করছে তাঁর পরিবারের লোকজন । মঙ্গলবার দেহটির ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিকভাবে সন্দেহ বিষক্রিয়াতেই মৃত্যু হয়েছে ওই যুবকের। যদিও মৃতের স্ত্রী অথবা তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছ থেকে এনিয়ে কোনও মতামত জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সুত্রে খবর, বাবুরামের স্ত্রী শিখা দাস এদিন সকালে হাসপাতালে এসেছিলেন। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের মতিগতি আন্দাজ করে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান ।

স্থানীয় ও পরিবার সুত্রে জানা গেছে, শিখা দাসের বাপের বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা থানাপাড়া এলাকায় । শিখাদেবীর প্রথম পক্ষের স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর তিনি বাপের বাড়িতেই ছিলেন। কেতুগ্রামের কেঁওগুড়ি গ্রামের বাসিন্দা পেশায় জনমজুর বাবুরামের সঙ্গে মোবাইল ফোনের সুত্রে তাঁর পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বছর দুয়েক আগে তাঁদের বিয়ে হয়। তাদের এক বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
বাবুরামের মা ধুলি দাস জানিয়েছেন ,বিয়ের কয়েকমাস পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অশান্তি শুরু করে শিখা। অশান্তি করে যখন তখন সে বাপের বাড়ি চলে যেত। প্রায় দু’সপ্তাহ আগে শিখা ঝগড়া করে বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিল । রবিবার বাবুরাম তাঁকে ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিল । তিনি বলেন, ‘বউমা ফিরে আসতে চায়নি৷ তাই আমার ছেলে সোমবার দুপুরে শ্বশুরবাড়িতে খাওয়া দাওয়া সেরে বিকেলের দিকে একাই বাড়ি ফিরছিল। পরে খবর আসে আমার ছেলে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ।’
জানা গেছে, সোমবার বিকেলে সালার বাসস্ট্যান্ড থেকে বাবুরামকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে সালার হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ । পরে ওইদিন রাতের দিকে তাঁকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে মৃত্যু হয় বাবুরামের ।

মৃতের বাবা চারু দাস বলেন, ‘ছেলের অসুস্থতার খবর পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে চলে আসি । আমরা হাসপাতালে এলে ছেলে আমাদের জানায় শ্বশুরবাড়িতে ভাত খাবার পরেই তার বুকে পেটে অসহ্য জ্বালা যন্ত্রণা শুরু হয়েছিল ।তারপর সালার পর্যন্ত বাসে আসার পর সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাস্তায় পড়ে যায়।’

তাঁর অভিযোগ, ‘আমাদের অনুমান খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দিয়ে ওরা আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে।’

যদিও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত এনিয়ে থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে । একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ।

Related Articles

Back to top button
Close