fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

অবশেষে ৩দিন পর পুলিশের জালে ধরা পড়ল আনন্দপুর কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত অভিষেক পাণ্ডা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: অবশেষে তিন দিনের মাথায় গ্রেফতার হল আনন্দপুরে যৌন হেনস্থা এবং খুনের চেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত অভিষেককুমার পাণ্ডে।  মঙ্গলবার রাতে কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা অভিষেকের গ্রেফতারির কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দমদমের একটি গেস্ট হাউস থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিষেককে।

শনিবার রাতের ওই ঘটনার পরে অভিষেককে ধরতে এত সময় কেন লাগল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, সোমবার যখন পুলিশ তাকে খুঁজে চলেছে, অভিষেক তখন পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকার একটি হোটেলে লুকিয়ে ছিল! সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিজের আসল পরিচয়েই সেখানে ছিল সে। অথচ, পুলিশ তখনও পর্যন্ত অভিযুক্তের আসল নামই জানত না। নিগৃহীতা পুলিশকে যে নাম বলেছিলেন, সেই নাম ধরেই অভিযুক্তকে খুঁজছিল তারা। অনেকেরই বক্তব্য, শনিবার রাত থেকে পুলিশ যদি গাড়ির নম্বর ধরে খোঁজ শুরু করত, তা হলে অনেক আগেই অভিযুক্তের আসল নাম জানা যেত। তখন সে সহজে গা-ঢাকা দিতে পারত না।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতে, আনন্দপুর এলাকায়। ফেসবুকে আলাপ হওয়া বন্ধুর সঙ্গে পঞ্চসায়রের বাসিন্দা, পেশায় ব্যাংক কর্মী তরুণী দেখা করতে গিয়েছিলেন। কথায় কথায় রাত বাড়তে থাকায় তিনি বাড়ি ফেরার তোড়জোড় করেন। সেইমতো অমিতাভ বসু  নামে তাঁর সঙ্গী গাড়িতে বাড়ি ফেরানোর প্রতিশ্রুতিও দেন। কিন্তু পঞ্চসায়রের দিকে না গিয়ে গাড়ি অন্যদিকে যায়। তাতে প্রতিবাদ জানান তরুণী। এরপর গাড়ির মধ্যেই তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। চলে মারধরও। রাস্তায় গাড়ির মধ্যে যখন এই পরিস্থিতি, সেসময় সেখান দিয়ে গাড়িতে যাচ্ছিলেন এক দম্পতি। তাঁরাই এগিয়ে এসে তরুণীকে উদ্ধার করেন। তাতে বেগতিক বুঝে অভিযুক্ত যুবক নিজের গাড়িটি উদ্ধারকারী মহিলার পায়ের উপর দিয়ে চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এরপরই নির্যাতিতা তরুণীর থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত অমিতাভ বসুর খোঁজ শুরু করে পুলিশ। তদন্তে একের পর এক উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, অভিযুক্তের আসল নাম অভিষেক পাণ্ডা। বছর ছয়েক আগে বিয়ে হয়েছিল তার। বিয়ের আট মাস পর থেকেই স্ত্রীর উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার শুরু করে সে। বাধ্য হয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন ওই বধূ। এরপরই পঞ্চসায়রের তরুণীর সঙ্গে পরিচয় অমিতাভ ওরফে অভিষেকের। তরুণীর মায়ের কথায়, চলতি বছরেই অমিতাভের সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু এই তরুণীকেও নিগ্রহ করত অভিযুক্ত। এসব তথ্য পাওয়ার পরই অভিষেকের মাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। নির্যাতিতা তরুণী ও মায়ের থেকে পাওয়া তথ্য ও মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করেই এদিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। জানা গিয়েছে, শেষ তিনদিনে একাধিক জায়গায় লুকিয়েছিল সে।

পুলিশের একটি সূত্রেরও দাবি, ঘটনার রাত থেকেই অভিযুক্তের খোঁজ চালানো হচ্ছিল। কিন্তু পরে পুলিশ জানতে পারে, ওই নামটাই ভুয়ো। এর পরে আসল নাম জানতে পারেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরে অভিষেকের গাড়ি ও বাড়ির সন্ধানও মেলে। ওই সূত্রের দাবি, পুলিশের দিক থেকে দেরির প্রশ্নই ওঠে না। বরং নির্যাতিতাই অভিযুক্তের আসল নাম এবং গাড়ির নম্বর জানা সত্ত্বেও পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছিলেন। পরে তদন্তে নেমে জানা যায়, অভিযুক্ত যুবকই তাঁর প্রেমিক। আর তার নাম অমিতাভ বসু নয়, অভিষেককুমার পাণ্ডে।

আরও পড়ুন: পুজোর মুখে পর্যটকদের জন্য সেজে উঠছে পাহাড়… খুশির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমছে না সংক্রমণ! বাড়ছে উদ্বেগ

এ দিন ঘটনাস্থল এবং অভিষেকের গাড়ি পরীক্ষা করে দেখেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা। সূত্রের খবর, গাড়ির দরজায়, ড্যাশবোর্ডে এবং পিছনের আসনে রক্তের দাগ মিলেছে। তরুণীকে মারধর করার ফলেই রক্তক্ষরণ থেকে ওই দাগ লেগেছে বলে পুলিশের অনুমান। ধস্তাধস্তিরও কিছু চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।

এ দিন সকালে আনন্দপুর থানায় ডেকে পাঠানো হয় অভিষেকের মা ও জামাইবাবুকে। থানা থেকে বেরিয়ে অভিযুক্তের মা বলেন, ”আমার ছেলে ভুল করেছে।” এ দিন আনন্দপুর থানার পাশাপাশি এই ঘটনার তদন্তে নামানো হয়েছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগকেও। এ দিন সকালে আনন্দপুর থানায় ডেকে পাঠানো হয় অভিষেকের মা ও জামাইবাবুকে। থানা থেকে বেরিয়ে অভিযুক্তের মা বলেন, ”আমার ছেলে ভুল করেছে।” এ দিন আনন্দপুর থানার পাশাপাশি এই ঘটনার তদন্তে নামানো হয়েছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগকেও। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কিনা তা দেখা হচ্ছে। তাঁকে কেউ পালাতে সাহায্য করেছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আনন্দপুর থানাকে সাহায্য করেছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ।

Related Articles

Back to top button
Close