fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত, জখম স্ত্রী, শিশুকন্যা সহ শ্যালিকা, আটক অভিযুক্ত

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে স্ত্রী, শিশু কন্যা ও শ্যালিকাকে গুরুতর ভাবে জখম করার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে । শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের ষাঁড় গ্রামে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিন জনকেই উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়েছে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। ঘটনায় অভিযুক্ত পরাণ বারুইকে আটক করে খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনার জেরে খণ্ডঘোষ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

খণ্ডঘোষের বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগ এদিন বলেন, “ষাঁড় গ্রামে বাড়ি পরাণ বারুইয়ের। তিনি এলাকার সক্রিয় বিজেপি কর্মী। এদিন দুপুরে সে স্থানীয় মাঠকালি তলায় মদ ও গাঁজার আশর বসায়। গাঁজা খেয়ে বুঁদ হয়ে সে মাঠকালি তলায় থাকা একটি ত্রিশূল উপরে নিয়ে সোজা চলে যায় তার শ্যালিকার বাড়ি। এরপরেই ওই ত্রিশূল দিয়ে পরাণ তাঁর দেড় বছর বয়সী শিশু কন্যা রাজলক্ষী রারুই, স্ত্রী সুমিত্রা বারুই ও শ্যালিকা মালতি সাঁতরার উপর আক্রমণ চালায়। নবীনচন্দ্র বাগ দাবি করেন, ত্রিশূলের আঘাতেই তিনজনই গুরুতর জখম হন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে প্রথম নিয়ে যাওয়া হয় খণ্ডঘোষ ব্লক স্বাস্থকেন্দ্রে। শারীরিক অবস্থা সংকটজনক থাকায় রাতে জখমদের সকলকে স্থানান্তর করা হয় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানে শিশুকন্যাটি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।”

আরও পড়ুন:৬ জুলাই থেকে হাইকোর্টে হাজির হয়ে শুনানির পক্ষে মত আইনজীবীদের

যদিও বিজেপির খণ্ডঘোষের পর্যবেক্ষক বিজন মণ্ডল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “পরাণ বারুই বিজেপির কোনও স্তরেরই কর্মী নন। ঘৃণ্য রাজনীতি করতে তৃণমূল বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগ এদিনের ন্যক্করজনক ঘটনার সঙ্গে বিজেপির নাম জড়িয়ে দিতে চাইছে। বিজনবাবু বলেন, পরাণকে পুলিশ আটক করেছে। আমরা চাই প্রশাসন পরাণের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করুক।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পরাণের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী সুমিত্রার অশান্তি লেগেই থাকত। সেই কারণে সুমিত্রা তাঁর শিশু কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে ষাঁড় গ্রামের পাশের পাড়া নিবাসী বোন মালতি সাঁতরার বাড়িতে চলে যায়। এদিন সন্ধ্যার সময় পরাণ সশস্ত্র অবস্থায় শ্যালিকার বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী ও শিশুকন্যার উপর হামলা চালায়। তাঁদের বাঁচাতে যান শ্যালিকা মালতি।  তখন পরাণ তার উপরেও হামলা চালায় বলে এলাকাবাসীর অভিযোগে জানিয়েছেন।

এসডিপিও আমিনুল ইসলাম খান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে পারিবারিক অশান্তির কারণেই এই ঘটনা। পরাণ বাউরির স্ত্রী ও শিশু কন্যা এদিন পাশের পাড়া নিবাসী শ্যালিকার বাড়িতেই ছিল। এদিন সন্ধ্যার মুখে সেখানে গিয়ে পরাণ সবাইকে কাস্তে দিয়ে কুপিয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। তিনজনই
জখম হয়।

আরও পড়ুন:বর্ধমানের তেজগঞ্জে বৃদ্ধ খুনের ঘটনার তদন্তে সিআইডি

তাদের সবাইকে প্রথম খণ্ডঘোষ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ভর্তি করা হয় বর্ধমান হাসপাতালে।
এসডিপিও বলেন, পরাণকে আটক করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কাস্তেটি। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে খুনের উদ্দেশ্যেই এই হামলা। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close