fbpx
দেশবিনোদনহেডলাইন

ফের শিরোনামে বলি অভিনেত্রী কঙ্গনা, অভিনেত্রীকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, দাবি তুলল শিখরা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  ফের বিতর্কের শিরোনামে বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। বিগত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে চলা কৃষক আন্দোলন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি মন্তব্য করেন কঙ্গনা। আর তাতেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে শিখ সংগঠন ‘দিল্লি শিখ গুরুদুয়ারা ম্যানেজমেন্ট কমিটি’ বা ডিএসজিএমসি। এই সংগঠনটি কঙ্গনাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছে। সেইসঙ্গে তাঁকে পাঠানো হয়েছে আইনি নোটিস। বিক্ষোভের মুখে পড়ে অবশ্য আগেই নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট মুছে দিয়েছেন কঙ্গনা। যদিও তাতে চিড়ে ভেজেনি। তাঁর বিরুদ্ধে আক্রমণের সুর ক্রমেই চড়ছে।

 

এ বিষয়ে দিল্লি শিখ গুরুদুয়ারা ম্যানেজমেন্ট কমিটির প্রধান মঞ্জিন্দর সিং সিরসা টুইট করে একথা জানিয়েছেন। টুইটে তিনি লিখেছেন, “একজন কৃষকের মা আন্দোলনে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গে কঙ্গনা রানাওয়াত বলেছিলেন তাঁকে ১০০ টাকায় ভাড়া নেওয়া যায়। এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে একটি আইনি নোটিস আমরা তাঁকে পাঠিয়েছি। তিনি টুইট করে বলতে চেয়েছেন কৃষকদের আন্দোলন দেশবিরোধী। কৃষক আন্দোলন নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য করার জন্য তাঁর কাছ থেকে নিঃশর্ত ক্ষমার দাবি করছি আমরা।”

 

প্রসঙ্গত, দিল্লিতে শিখদের সবথেকে বড় সংগঠন এই দিল্লি শিখ গুরুদুয়ারা ম্যানেজমেন্ট কমিটি। ১৯৭১ সালে শিখ গুরুদুয়ারা আইনের আওতায় এই কমিটি তৈরি করা হয়েছিল। শিখদের ভাল-মন্দের দিকে নজর রাখার দায়িত্ব রয়েছে এই কমিটির। দিল্লির শাহিনবাগে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছিলেন বিকাশ বানো নামের এক বৃদ্ধা। গত মঙ্গলবার দিল্লিতে কৃষক আন্দোলনেও যোগ দিতে আসছিলেন তিনি। কিন্তু পথেই তাঁকে আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। কিন্তু কঙ্গনা অন্য এক বৃদ্ধার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়ে তাঁকে বিকাশ বানো বলে উল্লেখ করেন। তারপরে তিনি বলেন, ১০০ টাকা দিলেই আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। এই টুইটের পরে সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকে প্রতিবাদ এসেছে। পাঞ্জাবি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একাধিক তারকা কঙ্গনাকে একহাত নিয়েছেন। চাপের মুখে নিজের পোস্ট মুছে ফেলেন অভিনেত্রী।

 

শুধু দিল্লি শিখ গুরুদুয়ারা ম্যানেজমেন্ট কমিটি নয়, পাঞ্জাবের আইনজীবী হরকম সিংও কঙ্গনাকে একটি আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “আপনাকে জানাচ্ছি যে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বৃদ্ধা নকল নন। তাঁর নাম মাহিন্দর কউর। তিনি ভাটিন্ডার বাসিন্দা। কৃষক লাভ সিং নাম্বারদারের স্ত্রী তিনি।”

 

দিল্লি শিখ গুরুদুয়ারা ম্যানেজমেন্ট কমিটির তরফে কঙ্গনাকে আরও বলা হয়েছে, মুম্বইয়ে যখন তাঁর বাড়ি ও অফিস ভাঙা হচ্ছিল তখন তিনি কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে নিজেদের ফ্যানদের থেকে সমর্থন চেয়েছিলেন তা নিশ্চয় তাঁর মনে আছে। তাহলে যখন কৃষকদের অধিকার খর্ব হচ্ছে বলে তাঁরা সংবিধানের আওতায় থেকে শান্তিপূর্ণ মিছিল করছেন তখন এই আন্দোলনকে অসম্মান করার কোনও অধিকার তাঁর নেই।

Related Articles

Back to top button
Close