fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রেল কর্মীর রহস্য মৃত্যুর ঘটনায় সমকামীতা ও যৌন নির্যাতনের যোগ, গ্রেফতার ২

মিল্টন পাল, মালদা: রেল কর্মীর রহস্য মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার দুই যুবক। সমকামিতা ও যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগে রেল কর্মীকে খুন করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। যুবদের কাছ থেকে এরকম তথ্য জানতে পেরে রীতিমতো হতবাক ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। দিনের পর দিন কুড়ি বছর বয়সী এক যুবককে বাড়িতে ডেকে এনে তার নগ্ন ছবি মোবাইলে দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে সমকামিতা চালিয়ে আসছিল ওই রেলকর্মী ।

আর সেই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এক বন্ধুকে নিয়ে পরিকল্পনা করেই ওই রেলকর্মীকে খুন করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।ঘটনার তদন্ত করছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ধৃত দুই যুবকের নাম মোবারক শেখ (২০) ও তার বন্ধু জাকির শেখ (২৪)। দুজনেরই বাড়ি জলঙ্গা গ্রামে। মৃত রেলকর্মীর নাম হনুমান রায় (৫৯)। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে যেসব তথ্য পুলিশের কাছে উঠে এসেছে,তাতে হতবাক হয়ে গিয়েছে তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা। রবিবার ধৃত দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মালদা আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। মৃত রেলকর্মীর নাম হনুমান রায় (৫৯)। তিনি এন এফ রেলের পুরাতন মালদা কর্মরত ছিলেন। থাকতেন মালদা শহরের রেল কোয়ার্টারে। ওই রেলকর্মীর বাড়ি উত্তরপ্রদেশে।

 

কর্মসূত্রে পরিবার ছেড়ে মালদা রেল কোয়ার্টারে একাই থাকতেন হনুমান রায়। পুলিশ আরও জানিয়েছে, মৃত রেলকর্মীর মোবাইলের সূত্র ধরেই ওই দু’জনকে শনিবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর এদের জেরা করতেই খুনের ঘটনার প্রকৃত কারণ উঠে আসে। গত ২৬ অক্টোবর দশমীর দুপুরে মালদা শহরের রেল কলোনি এলাকায় কোয়ার্টারের মধ্যেই গলায় গামছা জড়িয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় হনুমান রায় নামে ওই রেলকর্মীকে । ধস্তাধস্তি হওয়াতেই রেলকর্মী মাথা এবং হাতে চোট পেয়েছিল । যার কারণে রক্তপাতও হয়। এই ঘটনার পর অভিযুক্তরা মৃত রেলকর্মীর মোবাইল হাতানোর চেষ্টা করেছিল । কিন্তু তারা সেটা পাই নি। পরে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে অভিযুক্ত দুজন পালিয়ে যায়।

 

ওই দিন বিকালে প্রতিবেশী এক সহকর্মী হনুমান রায়ের কোয়ার্টারে যায়। তখন দেখে বাইরে থেকে দরজার গেট লাগানো। অনেক ডাকাডাকির পর হনুমান রায়ের সাড়া না পেয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে দেখতে পাই তার দেহ মেঝেতে পড়ে রয়েছে। এরপর এই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, গত ছয় মাস আগে মোবারক শেখ নামে ওই যুবক গৌড় এক্সপ্রেস ট্রেনে করে কলকাতা থেকে মালদায় ফিরেছিলেন। সেই সময় তার কাছে ট্রেনের টিকিট না থাকার কারণে মালদা টাউন স্টেশনে রেলকর্মী হনুমান রায় তাকে ধরে। এরপর নানা অছিলায় ওই যুবককে নিজের কোয়ার্টারে নিয়ে যায়। এরপর ওই যুবককে সমকামে বাধ্য করে। এরপর তার একটি নগ্ন ভিডিও হনুমান রায়ে নিজের মোবাইলে রেকর্ড করে রাখে ।

 

সেই থেকে শুরু। এভাবে দিনের পর দিন মোবারক শেখকে নিজের ফাঁকা কোয়াটারে ডেকে পাঠাতো হনুমান রায়। তারপর ওই যুবকের সঙ্গে বৃদ্ধ হনুমান রায় সমকামীতায় যুক্ত হত।এই যৌন নির্যাতন থেকে রেহাই পেতে বেশ কিছুদিন ধরে ওই যুবকের সঙ্গে হনুমান রায়ের গোলমাল শুরু হয়েছিল। ওই রেলকর্মীর মোবাইলটি কোন রকমে নিজের কাছে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিল অভিযুক্ত যুবক । কিন্তু সেটা আর শেষ পর্যন্ত করতে পারে নি। এরপর পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ানো ওই রেলকর্মীকে সরানোর পরিকল্পনা নেই অভিযুক্ত যুবক মোবারক সেখ।

আরও জানা গিয়েছে, অবসরের চারদিন আগে ওই রেলকর্মী মোবারক শেখকে তার নিজের কোয়ার্টারে দুপুরবেলায় ডেকেছিলেন। সেই সময় মোবারক শেখ তার এক বন্ধু জাকির শেখকে সঙ্গে নিয়ে ওই কোয়ার্টারে যায়। সেখানে যাওয়ার পরেই বন্ধুর সামনে মোবারকের সঙ্গে ফের যৌনতায় শামিল হওয়ার চেষ্টা করে রেলকর্মী হনুমান রায়। তখনই দুই বন্ধু মিলে ওই রেলকর্মীর মোবাইল নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু হাতের সামনে মোবাইলটি না পেয়ে শুরু হয় বচসা । তারপরে ধস্তাধস্তি। এরপর দুই বন্ধু মিলে রাগের মাথায় ওই রেলকর্মীকে শ্বাসরোধ করে খুন করে।

মৃত রেলকর্মীর দেহ উদ্ধারের পর তার মোবাইলটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির একটি গোপন জায়গা থেকেই ওই রেলকর্মীর মোবাইলটি উদ্ধার হয় । যদিও তাতে অভিযুক্ত যুবকের নগ্ন ছবি রয়েছে কিনা সে ব্যাপারে পরিষ্কার করে কিছু জানায় নি তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা। তবে ওই রেলকর্মীর মোবাইলের শেষ ফোনটা কে করেছিল সেই সূত্র ধরেই শুরু হয় তদন্ত । আর তারপরই জলঙ্গা গ্রাম থেকে মোবারক শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ।

পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানান , দশমীর দিন দুপুরে খুন হয়েছিলেন রেলকর্মী হনুমান রায়। রাতেই তার প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পারেন এবং পুলিশকে খবর দেয়। তারপরে পুলিশ এসে ওই রেলকর্মী মৃতদেহ উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করে‌। মোবাইলের সূত্র ধরেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ঘটনার নিয়ে তদন্ত করছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। ।

Related Articles

Back to top button
Close