fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আধারেই মিলল ‘মুক্তির খোঁজ’, বাংলা থেকে ‘আত্মনির্ভর’ হয়ে পাড়ি দিলেন গুজরাতে

আধার কার্ডের দৌলতে বাড়ি ফিরলেন মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা

ফিরোজ আহমেদ, ভাঙড়: আধার কার্ড কিংবা বায়োমেট্রিক পদ্ধতি নিয়ে যতই অভিযোগ থাকুক না কেন আধার কার্ডের দৌলতেই চার বছর পর বাড়ি ফিরল বিশেষভাবে সক্ষম এক মহিলা। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই মহিলা ৪ বছর আগে গুজরাত থেকে দিশা হারিয়ে কলকাতায় এসেছিল। অভুক্ত অনাহারে জরাজীর্ণ অবস্থায় যখন কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছিল তখন কালীগঞ্জ থানার পুলিশ উদ্ধার করে চেতলার একটি হোমে পাঠায়। চার বছর ধরে সেই হোম এর তত্ত্বাবধানে ক্রমশ সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়ে নিজের বাড়ির পথে পা বাড়ালো এই অসহায় মহিলা। মহিলার নাম মুক্তি বিলাস গোসভি। মুক্তি এতদিন শুধু অন্যের গলগ্রহ হয়ে থাকে নি সেই সঙ্গে নিজে স্বাবলম্বী হয়েছে অর্থ উপার্জন করেছে। তার উপার্জিত ১১ হাজার টাকা নিয়ে নিজের বাড়ির পথে পা বাড়ালো সে।

সূত্রের খবর, মুক্তি বিলাসের বাড়ি গুজরাতের সুরাট শহরে। ছোট থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল সে। ১৪ বছর বয়সেই কোন একটি ভুল ট্রেনে চেপে সুরাট থেকে সোজা চলে আসে হাওড়া স্টেশন। সেখান থেকে ঘুরতে ঘুরতে টালিগঞ্জ এলাকায় ভবঘুরের জীবনযাপন কাটা কাটায়। ২০১৬ সালে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চেতলার ঈশ্বর সংকল্প হমে পাঠায়। বছর খানেক পরে তার ঠাঁই হয় ভাঙ্গড়ের কাশীপুরে ঈশ্বর সংকল্পের নয়াগ্রাম হোমে। গ্রামের পরিবেশে ধীরে ধীরে হাঁস মুরগি প্রতিপালন সবজি চাষ করে খানিকটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে। তার পছন্দের ছবি আঁকা এবং নাচ গান চালায় সে। ২০১৯ সালে খানিকটা সুস্থ হতেই লক্ষীবিলাস ওরফে পিংকির আধার কার্ড করাতে উদ্যোগী হয় হোমের কর্তারা। পিংকির বায়োমেট্রিক করাতে গিয়ে তারা জানতে পারে এর আগে পিংকির নাম আধারে নথিভুক্ত হয়ে আছে লক্ষীবিলাস বাবি নামে। গুজরাটের সুরাট শহরে তার বাড়ি। এরপর চলে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের পালা। কয়েক মাস পর হঠাৎই একদিন যোগাযোগ করে সুরাট পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ এর কর্তারা। তারা জানান পিংকির বাড়ির খোঁজ পাওয়া গেছে কিন্তু তার মা আর বেঁচে নেই। কিন্তু মুম্বাইতে তাঁর এক কাকা বেঁচে আছেন। সেই কাকার হাতেই ভাইজিকে তুলে দেবে পুলিশ।

কাশীপুরের এই হোমে এই মুহূর্তে ১৪ জন আবাসিক আছেন। সবাই মহিলা। হোমের ম্যানেজার কস্তুরী দাসের রায়ের তত্ত্বাবধানেই এরা মানসিক ভারসাম্যহীনতা কাটিয়ে ধীরে ধীরে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছেন।

কস্তুরীর কথায়, আমরা সবাইকে স্বাবলম্বী করার জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছি। এখানে যেমন ফুলকপি বেগুন পালং শাক সবজির চাষ হয় তেমনি হাঁস মুরগি প্রতিপালন গরু পালন করা হয়। এগুলি থেকেই হোমের আবাসিকদের দৈনন্দিন খাবার এবং উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করে কিছু অর্থ উপার্জন হয়। যারা যেমন কাজ করলেন তাদের আ্যকাউন্টে সেই টাকাটাই রেখে দেওয়া হয়। এভাবে একের পর এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলারা অবসাদ কাটিয়ে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছেন।

এদিন গুজরাট পুলিশের সঙ্গে বারুইপুর জেলা পুলিশের কাশিপুর থানার অফিসাররাও ছিলেন ওই হোমে। পিংকির বিদায় স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ আবাসিকের অন্যান্য আবাসিকদের। হোমের কর্তৃক শর্বানী দাস রায় বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করি ভবঘুরে মহিলাদের সুস্থ স্বাভাবিক করে সাংসারিক জীবনে ফিরিয়ে দিতে। গতবছর এভাবেই উত্তরপ্রদেশের এক মহিলা নিজের পরিবারে ফিরে গেছে ন। আগামী দিনে বাকিদের নিজেদের পরিবারের যাতে ফিরে পায় সেই চেষ্টাই করে যাব আমরা।

Related Articles

Back to top button
Close