fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সংকটে বাংলার পরিযায়ীরা, রাজ্যকে তোপ অধীরের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে আরও একবার পশ্চিমবঙ্গ সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী ।বুধবার তিনি মুখ্যমন্ত্রী তথা মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে জানতে চান মুর্শিদাবাদ তথা পশ্চিমবাংলায় মোট কতজন পরিযায়ী শ্রমিক আছেন? একই সাথে তিনি জানান প্রশ্ন তোলেন শুধুমাত্র রাজ্য প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে শুধুমাত্র তাদের তালিকা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের না পাঠানোর কারণে কেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনা বরাদ্দ ৫০ হাজার কোটি টাকার সুবিধা পাবে না। করোনাভাইরাস এর সংকটের ফলে লকডাউন এর সময় সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েছিলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। কারণ একদিকে যখন তাদের হাতে কোন রোজগার ছিল না ঠিক তেমনি বাড়ি ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ-সুবিধা তাদের কাছে ছিল না। সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের বহু পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন অধীর চৌধুরী। এরপর তিনি একাধিকবার নিজে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গের লক্ষাধিক পরিযায়ী শ্রমিক দের নাম ঠিকানা যোগাড় করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর গরিব কল্যাণ যোজনা সুযোগ পাননি পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকেরা।

এই প্রসঙ্গে সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন “প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনায় পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য যে ৫০ পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে সেটা তখনই পাওয়া সম্ভব যখন রাজ্য লিস্ট তৈরি করে সেটা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠাবে। যত পরিযায়ী শ্রমিক ফিরে এসেছে তাদের যদি আমরা একটা সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করতে পারি তাহলে আমরা দেখব উত্তর প্রদেশ এবং বিহারের পর তিন নম্বর রাজ্যটি হল পশ্চিমবঙ্গ ।অথচ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই । সোনিয়া গান্ধীর এবং অন্যান্য বিরোধী দলের দাবি মেনে সরকার যখন পরিযায়ী শ্রমিক রোজগারের ব্যবস্থা করার জন্য পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকার ব্যবস্থা করল তখন শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনিহার ফলে বঞ্চিত হল বাংলার শ্রমিকরা । তিনি আরও বলেন, “আমি এর আগেও মুর্শিদাবাদ মালদা নদিয়া প্রভৃতি অঞ্চল থেকে নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিযায়ী শ্রমিক দের একটা লিস্ট তৈরি করেছিলাম। সেখানে দেখি শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদ এই প্রায় ২৫০০০ পরিযায়ী শ্রমিক আছে। আমি জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের সঠিক সংখ্যা নাম এবং ঠিকানা জানাতে বলেছি। যাতে এখানকার পরিযায়ী শ্রমিকেরা এই সুযোগ সুবিধাগুলি পান”।

অধীর রঞ্জন চৌধুরী আরও বলেন বর্তমানে পরিযায়ী শ্রমিকরা প্রচন্ড আর্থিক সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ টাকা যদি তারা পান তাহলে তাদের এই মুহূর্তে রুজি-রোজগারের একটা ব্যবস্থা হয়। পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনার অন্তর্গত যাতে করা হয় তার জন্য নেপাল মাহাতো হাইকোর্টে পর্যন্ত গিয়েছিলেন ।
কলকাতার মাননীয় হাইকোর্ট বলেছেন যে এটা করা উচিত ।কিন্তু তারপরেও ঘুম ভাঙেনি মমতা প্রশাসনের। আমি আগেও পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের যাতে প্রধানমন্ত্রীর গরিব কল্যাণ যোজনা অন্তর্ভুক্ত করা যায় তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি করেছি। এবং এই বিষয়টি নিয়ে আমরা হাইকোর্ট, দরকার হলে সুপ্রিমকোর্টে পর্যন্ত যাওয়ার কথা বর্তমানে চিন্তা করছি। এমনটাই জানিয়েছেন সংসদের বিরোধী দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

Related Articles

Back to top button
Close