fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে বেকারত্ব কমানোয় নোবেলের দাবি অধীরের

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্ব কমানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত কটাক্ষ করলেন কংগ্রেস সংসদীয় নেতা অধীর চৌধুরী শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে বেকারত্ব নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবিকে নস্যাৎ করে দিলে অধীর।

 

তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর নোবেল পুরস্কার প্রাপ্য। যে পদ্ধতিতে বেকারত্ব কমাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গে, তা আগামী দিনে বিশ্বের কাছে নজির হতে পারে। তাই থিসিস লিখে এই নজির বিশ্বের কাছে জানান মুখ্যমন্ত্রী।’ আসলে গত কয়েকদিনে দলীয় সংসদ তথা মুখ্যমন্ত্রীর গলাতেও শোনা গিয়েছে ভারতের যেখানে ২৬% বেকারত্বের হার বেড়েছে সেখানে পশ্চিমবঙ্গে ৪০% বেকারত্ব কমেছে। আর সেই তথ্য নিয়েই এবার মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন কংগ্রেস সংসদীয় নেতা অধীর চৌধুরী।

 

তিনি বলেন, ‘শুধু ভারত নয় বেকারত্ব সারা পৃথিবীতে বেড়েছে। শুধু বেকারত্ব কমছে পশ্চিমবঙ্গে। কি তার জাদু? আমাদের জানা নেই। তবে দিদির জাদুতেই পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্ব কমছে।’ এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টা অধীর আরও বলেন, ‘শুধু ভারত নয়, সারা বিশ্বের নিরিখে বাড়ছে বেকারত্বের সংখ্যা। আর সেখানে পশ্চিমবঙ্গের বেকারত্বের সংখ্যা প্রায় ৪০% কমেছে। তাই গোটা বিশ্বের সামনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবী এক অনন্য নজির তৈরি করুক। তাই আমি আবেদন করছি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে, যে পদ্ধতিতে আপনি পশ্চিমবঙ্গের বেকারত্ব কমিয়েছেন। তা থিসিস আকারে সারা বিশ্বের সামনে রাখুন। আমি নিশ্চিত এর জন্য আপনার নোবেল রাখা আছে। আপনার এই পদ্ধতি সারা বিশ্বের মানুষের জানার দরকার আছে। যাতে আগামী দিনে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিতেও আপনার মডেল ফলো করে বেকারত্ব কমাতে পারে।’

পাশাপাশি অধীর এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিযায়ী শ্রমিক নীতি নিয়েও কড়া ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, ‘ কয়েকদিন আগে বাংলার মানুষ দেখলেন লকডাউন জারি হয়েছে। আর লক্ষ লক্ষ যুবক ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ফিরে এসেছেন এ রাজ্যে। কেউ পায়ে হেঁটে, সাইকেলে, বাসে, বা ট্রাকের মাথায়, ট্রেনে নিজেদের বাঁচার তাগিদে সবাই নিজেদের গ্রামে ফিরেছেন। লকডাউনে কাজ নেই। খাবে কি? তাই নিজ রাজ্যে ফিরতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু সেদিন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তাদের ফেরাতে চেয়ে ছিলেন না।

 

তিনি বলেছিলেন ওরা ফিরলে করোনা আক্রান্ত হয়ে যাবে গোটা রাজ্য। পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ করেছিলেন সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পরিযায়ী শ্রমিকরা অপমান সহ্য করে গ্রামে ফিরে এসেছিল। কিন্তু তারা এখানে থাকার চেষ্টা করল। যদি কিছু কাজ পাওয়া যায় তার চেষ্টা করল। ১০০ দিনের কাজও বরাদ্দ করতে পারলোনা রাজ্য সরকার। ফলে তারা পুনরায় আবার অন্যান্য রাজ্যে ফিরে যেতে শুরু করে কাজের জন্য। কেরল তামিলনাড়ু গুজরাট প্রভৃতি রাজ্যে বাংলা থেকে লক্ষ লক্ষ বেকার ছড়িয়ে পড়েছে কাজের জন্য। বাংলায় বেকারত্ব কমছে বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাহলে এই বেকাররা কারা?

Related Articles

Back to top button
Close