fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অধীরেই আস্থা রাখলো কংগ্রেস, ফিরলেন পুরনো মসনদে

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: দ্বিতীয়বারের জন্য পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হলেন অধীর চৌধুরী। বুধবারই বিবৃতি দিয়ে কংগ্রেসের তরফে এই ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতার দায়িত্ব পালন করছেন অধীর চৌধুরী। পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যানও তিনি। একই সঙ্গে ফের একবার বাংলায় দলের কাণ্ডারি হিসাবে ‘ডাকাবুকো’ এই নেতার উপরই ভরসা রাখল কংগ্রেস হাইকমান্ড।

বামেদের সঙ্গে জোট গড়ার দিকেও নজর দেবেন তিনি। বুধবার রাতের দিকে জাতীয় কংগ্রেসের তরফে জানানো হয় অধীরবাবুকেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করে বাংলায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে।  কে সি বেনুগোপাল বুধবার রাতে কংগ্রেস হাইকমান্ডের তরফে বিষয়টি এক বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে জানান। বাংলায় বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্রের মৃত্যুতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে কে বসবেন তা নিয়ে বেশ জল্পনা ছড়িয়েছিল। প্রথম দিকে অবশ্য এগিয়ে ছিলেন প্রদীপ ভট্টাচার্য। কিন্তু পরে আব্দুল মান্নান চিঠি লেখেন হাইকমান্ডকে এবং তাতে অনুরোধ জানান অধীরবাবুকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করার জন্য। ফলে প্রদীপ না অধীর কে হবেন পরবর্তী প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তা নিয়ে কিছুটা হলেও কৌতুহল ছড়িয়েছিল। শেষে অবশ্য বাজিমাত করলেন অধীর।

চৌধুরী। অধীরবাবুর মমতা বিরোধিতা সুবিদিত। সনিয়াও তা ভালই জানেন। এ ব্যাপারে অধীরবাবু যে আপসহীন সে কথাও দশ নম্বর জনপথবাসিনীর অজানা নয়। এবং তা জেনেশুনে যখন তিনি তাঁকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করেছেন, তখন ধরে নেওয়া যেতেই পারে একুশের ভোটে তৃণমূলের সঙ্গে জোট সম্ভাবনা দূরঅস্ত। এখানে একটা কথা বলে রাখা ভাল। অতীতে কংগ্রেস হাইকমান্ড তথা সনিয়াকে ঘিরে কিছু নেতা একটা বলয় তথা প্রাচীর তৈরি করে রেখেছিলেন। যাঁরা প্রদেশ নেতাদের সনিয়ার ধারে ঘেঁষতে দিতেন না। বা সনিয়ার মতকে কায়েমি স্বার্থ নিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতেন। রাজ্যে  কংগ্রেসের বর্তমান দুর্দশার সেটা একটা বড় কারণ। ওই নেতারাই তার বীজ বপন করে দিয়েছিলেন। কারণ, রাজ্য নেতারা একরকম চাইতেন। আর তাঁরা সনিয়াকে বুঝিয়ে অন্যরকম কিছু চাপিয়ে দিতেন রাজ্যের উপর। এই ‘অনিয়মে’ বদলের কান্ডারি অবশ্যই রাহুল গান্ধী। তিনিই সাফ জানিয়ে দেন, রাজ্য স্তরে জোট নিয়ে শেষ কথা বলবেন রাজ্যের নেতারাই। রাজ্যের সংখ্যাগুরু নেতা এ ব্যাপারে যা চাইবেন তাই হাইকমান্ড মানবে। কোনও মত চাপিয়ে দেবে না। রাহুল এখন সভাপতি পদে নেই। কিন্তু সেই নিয়মের বদল হয়নি। সনিয়াও এখন ঠেকে বুঝেছেন এই নীতি ভ্রান্ত নয়। রাজ্যের আবেগকেই মর্যাদা দিতে হবে।

আরও পড়ুন: আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বায়ুসেনায় যোগ দিচ্ছে রাফাল যুদ্ধ বিমান

জানা গিয়েছে, তাঁর প্রতি দলের হাইকমান্ডের এই আস্থার জন্য কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অধীরবাবু। পশ্চিমবঙ্গে দলকে শক্তিশালী করতে তিনি চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন। এর আগে ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের কিছু আগেই অধীর চোধুরীকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করা হয়। ২০১৬ সালে তাঁর নেতৃত্বেই বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে বিধানসভা ভোটে লড়াই করে কংগ্রেস। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে অধীরবাবুকে সরিয়ে সোমেন মিত্রকে পশ্চিমবঙ্গে দলের প্রধান করা হয়।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close