fbpx
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিধানসভা ভোটে সরকার গড়তে দলিত-মুসলিম নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অধীররঞ্জন চৌধুরীর

মোকতার হোসেন মন্ডল: ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে দলিত-মুসলিম মন পেতে উঠে পড়ে লেগেছে কংগ্রেস। আর তাই বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের এক মঞ্চে এনে নিউটাউনের একটি হোটেলে বৈঠক করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। শুধু তাই নয়, তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি যে বাংলার জন্য বিপদ এবং দলিত-মুসলিমদের উন্নয়ন কেবলমাত্র কংগ্রেসই যে করতে পারে, তাও এদিন স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা দেন অধীরবাবু।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, মুসলিমরা বিশ্বকেন্দ্রিক সম্প্রদায়, তারা কওমে বিশ্বাস করে, এটা কোনও আঞ্চলিক ধৰ্ম নয় যে কেউ মনে করলো যে আমি কিছু লোককে মেরে ধরে অধিকার কেড়ে নিয়ে খতম করে দেবো,তা হবেনা।”

অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, ভারতবর্ষতো বটেই বিভিন্ন দেশেও মুসলিম নির্যাতন হচ্ছে। চিনে যান তো, চিনে উইঘর মুসলিমদের উপর যে অত্যাচার হচ্ছে তা কল্পনার বাইরে। লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে ক্যাম্পে ভরে রাখা হচ্ছে। তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে গিয়ে মুসলিম নাম বদলে দিয়ে অন্য নাম দিয়ে অন্য বাবা মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে। একটা জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য কী ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা হচ্ছে। ক্যাম্পে মুসলিমদের কুরআন, আল্লাহ, হজরত মুহাম্মদ(স:) কে ভুলিয়ে দিয়ে নতুন দর্শন শেখানো হচ্ছে।

এদিন সংখ্যালঘু নেতারা অভিযোগ করেন, তৃণমূল আমলে মুসলিম উন্নয়ন হয়নি। বিজেপির ভয় দেখিয়ে মুসলিম ভোট নিতেই গেরুয়া শিবিরকে জায়গা দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলকে অপ্রাসঙ্গিক করেছে তৃণমূল।

মুসলিম ও দলিত নেতাদের বিভিন্ন সমস্যা মন দিয়ে শোনেন লোকসভার বিরোধী নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। কংগ্রেস সভাপতি বলেন, একটা দল ভারতে ক্ষমতাসীন যারা দেশের সংবিধান মানে না, গণতন্ত্র মানে না, বহুত্ববাদীর সংস্কৃতি মানে না। জাতপাতের বিভাজন এনেই দেশকে হিন্দুত্ববাদীর রাষ্ট্র করতে চাইছে। এদের হাত থেকে আমি, আপনি কেউ রেহাই পাবোনা। তাই এখন থেকেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।

আরও পড়ুন- কাগজের কাপে চা কফি নয়!! হতে পারে ক্যান্সার, আইআইটি খড়গপুর এর গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

অধীর বাবু মুসলিম নেতাদের সামনে বলেন, ১৯৭২ থেকে ৭৭ সাল পর্যন্ত সিদ্ধার্থের জামানায় ১০ শতাংশ মুসলিমদের চাকরি হয়েছিল। পুলিশ মন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রী, বিদ্যুৎ মন্ত্রী এবং সমবায় মন্ত্রী হয়েছিলেন মুসলিম। সিদ্ধার্থ শংকর রায় সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার দিয়েছিলেন। বাম জামানায় আর যা হোক না কেন মৌলবাদী শক্তিকে তারা বাড়তে দেয়নি।

ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির মহাজোটের পক্ষে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে অধীর রঞ্জন বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ,আরএসএস সহ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি আরও বেড়েই চলেছে। তৃণমূল কিন্তু তার দায় এড়াতে পারে না। মনে রাখা দরকার ১৯৯৮-৯৯ সালে এই রাজ্যে প্রথম বিজেপির সঙ্গে জোট করে লোকসভা ভোটে লড়েছিল তৃণমূল। আর ২০০২ সালে গুজরাটের সংখ্যালঘু গণহত্যার সময় নরেন্দ্র মোদিকে ফুলের তোড়া পাঠিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে দল মত নির্বিশেষে সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি গুলোকে একজোট হতে হবে। বিহারে আরজেডি-কংগ্রেস জোট ক্ষমতায় আসবে, শুধু সময়ের অপেক্ষা।

এদিনের অনুষ্ঠানের মূল আহ্বায়ক সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন,”আমরা ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির উত্থান চাই। কিন্তু এমনি এমনি শুধু বিজেপির ভয় দেখিয়ে মুসলিম ভোট মিলবে না, উন্নয়ন করতে হবে। অসহায় জাতিকে ঠগিয়ে রাজনীতি করা অন্যায়। আমরা চাই,ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির জয়,আমরা চাই সংখ্যালঘু মুসলিমদের,দলিতদের সাংবিধানিক অধিকার।

লেখক মুহাম্মদ নুরুদ্দিন বলেন,”যোগ্যতম লোকেরা দেশের নেতৃত্ব দিক। সত্যি কথা বলতে, দলিত, সংখ্যালঘু সমাজ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ নয়। সেজন্য প্রয়োজন তাদেরকে হাত ধরে টেনে তুলে নিয়ে আসা। আমরা আশা করবো সকলকে এগিয়ে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কংগ্রেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এদিন ওয়েলফেয়ার পার্টির আবু তাহের আনসারী জানান, রাজনৈতিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভাবেই লড়তে হবে। নিজেদেরকে এদেশ পরিচালনার জন্য যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।

বৈঠকে বহু আদিবাসী ও দলিত নেতা উপস্থিত ছিলেন। জমিয়তে আহলে হাদিসের রাজ্য সম্পাদক আলমগীর সরদার,  মুসলিম থিংক ট্যাংক-র রাজ্য সম্পাদক শাহ আলম ছাড়াও মাদ্রাসা ছাত্র নেতা, সারা বাংলা আহলে সুন্নাতুল হানাফী জামাত সহ  বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরামের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, কংগ্রেস যাতে আগামী বিধানসভা ভোটে বেশি সংখ্যক যোগ্য মুসলিম প্রার্থী দেয় এবং বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ জোট গঠনে  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় সেই আবেদন নিয়ে ভবিষ্যতে ফের বৈঠকে বসবেন।

Related Articles

Back to top button
Close