fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণব্লগহেডলাইন

মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অধীর

শংকর দত্ত, কলকাতা: যে সময় কেন্দ্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা ভিন রাজ্যে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে উদ্যোগী,তেমন সময়ই এ রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে চলছে তৃণমূল বিজেপির কাজিয়া। আর এমন সময়েই রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানো নিয়ে রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী।

 

গত কয়েকদিন ধরেই অসহায় ভিন রাজ্যে থাকা পরিযায়ী শ্রীমিকদের বাড়ি ফেরানো নিয়ে একাধিক বার তাঁকে মুখ খুলতে দেখা গেছে। তিনি নিজে বহু ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমনকি দেশের কোথাও কারো সমস্যা হলে বা বিপদে পড়লে তাঁকে ফোন করতেও অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর নিজের মোবাইল নম্বরও এ জন্য তিনি বিপদগ্রস্থ মানুষের উদ্যেশ্যে দিতে দ্বিধা করেননি। বহু যুগ থেকে তাঁকে বিপদে পড়ে মানুষ ফোন করেছেন। তিনি সাধ্যমত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রতি নিয়ত। এমন কি দিল্লিতে নিজের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বহু অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে খবরে জানা যায়।

 

 

এবার এ বিষয়টি নিয়ে তিনি দ্বিগুণ সরব হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরূদ্ধে। উল্লেখ্য, শুক্রবারই তেলেঙ্গানা থেকে ঝাড়খণ্ড যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ ট্রেন ছেড়েছে। যেখানে প্রায় ১২০০ শ্রমিককে তাদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনতে উদ্দিগী হয়েছে ঝাড়খন্ড সরকার। আর এখানে দাঁড়িয়েই তাঁর প্রতিবাদ,যদি ঝাড়খন্ড বা অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা পরিযায়ী শ্রমিকদের নিজের রাজ্যে ফেরাতে এতখানি তৎপর হয়, সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই বিষয়টা নিয়ে এখনও গড়িমসি করছে কেন। তার প্রশ্ন এখানেই।

শনিবার তিনি সংবাদমাধ্যমে বলেন ‘আসলে সব টাই সদিচ্ছার অভাব। এখানের সরকার সারাদিন শুধু সব কিছুতেই রাজনীতির হিসেব করছে। প্রতিদিনই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যপালের লড়াই লেগে আছে। অথচ বাইরে থাকা অসহায় গরিব মানয়স গুলোর ব্যাপারে সরকারের কোনও ভাবনা চিন্তা নেই।’ তিনি আরও সুর চড়িয়ে বলেন, ‘ অন্য রাজ্যের সরকার যদি এই শিব শ্রমিক পরিবার গুলির প্ৰতি এত সদয় হয়। আমাদের সরকার সেটা হচ্ছে না কেন? ‘ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এক সময় দেশের রেল মন্ত্রী ছিলেন,এটা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, ‘রেলের ব্যাপার স্যাপার সম্পর্কে উনি তো সব জানেন। কেন তাহলে প্রধানমন্ত্রী বা দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলছেন না।’

 

অধীরবাবুর এই দাবিকে সমর্থন করছেন রাজ্যের বাম-বিজেপি সকল দলের নেতারাই। তাঁদের বক্তব্য লোকসভার বিরোধী দলনেতা এই বিষয়টি নিয়ে ন্যায্য দাবী তুলেছেন। এ ব্যাপারে রাজ্যেরই আরো উদ্যোগী হয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটা ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এখনই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লকডাউন ইস্তক পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ সহ অন্য অনেক জেলার বহু পরিযায়ী শ্রমিক ভিন রাজ্যে আটকে আছেন। এমনকি তারা অনেক রাজ্যে প্রবল সংকটময় অবস্থার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে এটা আমরা সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই দেখতে পাই। অনেক জায়গায় তাঁরা বাজার করতেও বাইরে বেরোতে পারছেন না স্থানীয় মানুষের বাধায়। বহু জায়গায় তারা অর্থ সংকটে ভুগছেন। অনেকের খাদ্য বা অসুদপত্র পাবার মতো ব্যবস্থা নেই। কোথাও তারা ওই রাজ্যের সারকারের সামান্য সুযোগ পেলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁদের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। বাড়ি ফেরার জন্য তাঁরা মরিয়া হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কাতর আবেদন জানাচ্ছেন ফেসবুকের মাধ্যমে।

লকডাউন পর্ব চলাকালীন পচিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্যের এই পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরবার কাহিনীও শোনা যাচ্ছে। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে অধীর চৌধুরীর মতো কেন্দ্রীয় স্তরের এক দাপুটে নেতার এই অভিযোগে রীতিমতো তোলপাড় সরকার বিরোধী সব শিবিরই।এখন দেখার অধীরের এই বক্তব্যের পর পশ্চিমবঙ্গের সরকার কতটা তৎপর হয়।

Related Articles

Back to top button
Close