fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পনেরো বছর পর নিখোঁজ মেয়েকে ফিরে পেলেন মন্তেশ্বরের বাবা-মা

অভিষেক চৌধুরী, কালনা: প্রায় পনেরো বছর পর নিখোঁজ মেয়েকে ফিরে পেলেন তার বাবা-মা।পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর থানা ও দিল্লী থানা  পুলিশের সহযোগিতায় এইরকমই এক মানবিক ঘটনায় আনন্দের রেশ মন্তেশ্বরের পানবড়েয়া গ্রামে।স্বাভাবিক কারণেই উচ্ছাস গ্রামবাসীদের মনেও।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে, প্রায় বছর পনেরো আগে ভিন রাজ্য থেকে পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর এলাকায় কাজ করতে আসা এক যুবককে মন্তেশ্বরের পানবড়েয়া গ্রামের যুবতী মুনমুন বাগ প্রেম ভালোবাসা করে বিয়ে করে।এরপরেই ভালোবাসার মানুষের হাত ধরে সে পাড়ি দেয় বিহার রাজ্যে থাকা শ্বশুরবাড়ি  উদ্দেশ্যে। মন্তেশ্বরের বাপের বাড়ির সঙ্গে কয়েকবছর তার যোগাযোগ থাকলেও পরে তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।এরপর মুনমুন নিখোঁজ হয়ে যায়।
তার বাবা কুশ বাগ ও মা বিজলী বাগ অনেক চেষ্টা করেও মেয়ের আর কোনো খোঁজ পায়নি।স্বাভাবিক কারণেই মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশাও তারা ছেড়ে দেয়।মনের কষ্ট মনেতেই থেকে যায় তাদের।নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে বাবা কুশ বাগের শরীরও ভেঙ্গে পড়ে। দেড় দশকের বেশী সময় ধরে চলতে থাকা সেই যন্ত্রণা ভোগের মধ্যেই গত ছয়-সাত মাস আগে দিল্লী থেকে একটি ফোন মারফৎ হঠাৎই মেয়ের খোঁজ আসে।ফিরে পাওয়ার ক্ষীণ আশা তৈরী হয়।
একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সৌজন্যে দিল্লী পুলিশ মন্তেশ্বর থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে।মন্তেশ্বর পুলিশ ওই পরিবারের সঙ্গে  দিল্লী পুলিশের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়। হোয়াটস অ্যাপ ও ভিডিও কলিংয়ে মেয়ে ও তার বাবা মা একে অপরকে চিনতেও পারে। কিন্তু মেয়েকে যে সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ে চলে আসবে সেখানেও বড়ো বাধা হয়ে দাঁড়ায় অর্থ ও আদালতের অনুমতি।শেষপর্যন্ত মন্তেশ্বর ও দিল্লীর শ্রীনগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় সব বাঁধা কাটিয়ে মুনমুন সোমবার সন্ধ্যায় ফিরে আসে মন্তেশ্বরের বাবা মায়ের কাছে।
এরপরেই জানা যায় মুনমুনের সঙ্গে তার স্বামীর কোনো যোগাযোগই নেই।বিয়ের পরে তাকে দিল্লীও নিয়ে যাওয়া হয়।এরপরেই সেখানে সে কোনোভাবে হারিয়ে যায়।এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উদ্ধার করে আলফাবাগের সদন হোমে মুনমুনকে রাখে।কথাবার্তায় ও আচরণে অসংলগ্নতা থাকলেও কথাবার্তার মাধ্যমে মুনমুন জানায় যে তার বাড়ি মালম্বার কাছাকাছি কোনো এক জায়গায়।এরপরেই দিল্লী পুলিশ সেই খোঁজ চালায়। পেয়ে যায় তার বাড়ির ঠিকানা।
সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লী পুলিশ মুনমুনকে মন্তেশ্বর থানায় নিয়ে আসে ও বাবা মায়ের হাতে তুলে দেয়।সন্তান হারানোর বেদনায় যন্ত্রণাক্লিষ্ট বাবা মা মেয়েকে বুকে পেয়ে চোখের জলের বাঁধ ভেঙ্গে যায়।এই বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(গ্রামীণ) ধ্রুব দাস বলেন,‘দিল্লী পুলিশ ওখানকার হোমে থাকা একটি মেয়েকে তার বাবা মায়ের হাতে এইদিন তুলে দেন।“

Related Articles

Back to top button
Close