fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণদেশপশ্চিমবঙ্গবাংলাদেশহেডলাইন

৫৫ বছর পর শিলিগুড়ির সঙ্গে বাংলাদেশের রেল সংযোগ, ১৭ ডিসেম্বর উদ্বোধন করবেন মোদি-হাসিনা

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা: দীর্ঘ ৫৫ বছর পর শিলিগুড়ির সঙ্গে বাংলাদেশের রেল সংযোগ ফের শুরু হচ্ছে। আগামী ১৭ ডিসেম্বর এই রুটে মালবাহী ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর আগামী ২৬ মার্চ এ পথেই যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হবে।

ইতোমধ্যে এই রুটের রেল সংযোগে চিলাহাটি (বাংলাদেশ)-হলদিবাড়ী (ভারত) রেলপথ নির্মাণ সমাপ্ত হয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য অত্যাধুনিক একটি স্টেশন ও জমি অধিগ্রহণে ১৪৩ কোটি টাকার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশের রেল মন্ত্রক।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, শেখ হাসিনার সরকার রেলে আমূল পরিবর্তন এনেছে। দু’দেশের মধ্যে বন্ধ থাকা রেলপথগুলো পুনরায় চালু করছে। ইতোমধ্যে তিনটি রুট চালু করা হয়েছে। ১৭ ডিসেম্বর চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেলপথ উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দীর্ঘ ৫৫ বছর পর বাংলাদেশ-শিলিগুড়ির সঙ্গে সরাসরি ট্রেন চলাচল করবে।

তিনি বলেন, যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলে চলমান রেলপথের সঙ্গে নতুন রেলপথ নির্মাণ, অত্যাধুনিক একটি স্টেশন, ওয়াসফিটসহ জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে। এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাকি কাজ সস্পন্ন হবে।

বাংলাদেশের রেল মন্ত্রক সূত্রের খবর, শুরুতে এ পথে মালবাহী ট্রেন চলাচল করবে। পর্যায়ক্রমে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনা করা হবে। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রী কিংবা মালবাহী ট্রেন নীলফামারীর চিলাহাটি হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়ি জেলার হলদিবাড়ী যাবে। এরপর জলপাইগুড়ি জংশন হয়ে শিলিগুড়ি যাবে। চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেলপথটি দু’দেশই ব্যবহার করবে।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার চিলাহাটি থেকে ভারত সীমান্ত পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করে। ৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের আওতায় চিলাহাটি রেলস্টেশন থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ৯ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপ।
অপরদিকে হলদিবাড়ী রেলস্টেশন থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপনের কাজ শেষ করেছে ভারত সরকার। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর এ পথটি বন্ধ হয়ে যায়।

সূত্রের খবর, ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় চিলাহাটি-হলিদাবাড়ী রেলপথের বিষয়ে চুক্তি সই হয়। সেই চুক্তির ভিত্তিতে ভারতীয় অংশে কাজ শুরু হলেও একটু দেরিতে বাংলাদেশ অংশের কাজ শুরু হয়। যদিও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সমাপ্ত করে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে মহাপরিচালক শামছুজ্জামান জানান, এক সময় দার্জিলিং মেইল শিয়ালদহ থেকে ছেড়ে রানাঘাট, ভেড়ামারা, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, সান্তাহার, হিলি, পার্বতীপুর, নীলফামারী, চিলাহাটি, ভারতের হলদিবাড়ী (জলপাইগুড়ি) ও শিলিগুড়িতে চলাচল করত। সেভাবেই এই পথে ফের দু’দেশের মধ্যে ট্রেন চলাচল চালু হবে। তিনি বলেন, মালবাহী ট্রেন চলা শুরুর পর যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করতে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে।

জানা যায়, যেভাবে এখন খুলনা-কলকাতা বা কলকাতা-ঢাকা রেল যোগাযোগ রয়েছে, এটি তেমনই হবে। নেপাল ও ভুটান বাংলাদেশের মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে রেলপথে মালামাল পরিবহন করতে চায়। এখন সেটা সড়কপথে করতে হচ্ছে, যার খরচও বেশি। কিন্তু এই রেলপথটি চালু হয়ে শিলিগুড়ির সঙ্গে যুক্ত হলে নেপাল ও ভুটান এ পথ ব্যবহার করতে পারবে। এতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।

জানা যায়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাতটি রেল পথ রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ইতোমধ্যে চালু হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close