fbpx
কলকাতাহেডলাইন

আমফানের দাপটে লন্ড ভণ্ড তিলোত্তমা পরিদর্শনে ফিরহাদ হাকিম

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: আমফানের দাপটে লন্ডভন্ড তিলোত্তমা। মাত্র কয়েক ঘন্টার ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে বুধবার ক্ষত বিক্ষত হয়েছে শহরের বিভিন্ন অংশ। তাই বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শহর পরিদর্শনে রাস্তায় নেমেছিলেন মন্ত্রী তথা পুরো প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। শহরের বাড়িগুলি বাইরে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও আম্ফানের ঝোড়ো হাওয়ায় ভেতর থেকে অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমনটাই মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।

তবে শহর জুড়েই জীবন্ত উদ্ভিদের সমাধি অব্যাহত ছিল। এছাড়াও ছিল ইলেকট্রিক তারের ছড়াছড়ি। তাই শহরের বেহাল পরিস্থিতি দ্রুত ফেরাতে এদিন রাস্তায় নামেন ফিরহাদ। পুরসভার আধিকারিকদের নিয়ে এ বিষয়ে নির্দেশ দেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ বলেন, ‘যত বড় বিপদই হোক, দু’দিনে কলকাতাকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাব। সকাল থেকে কোথাও বাড়ি ভেঙে পড়ার খবর আসেনি। তবে শহর জুড়ে প্রচুর গাছ উপরে পড়েছে। এগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে দ্রুত।’

আমফানের দাপটে শহর কলকাতায় বড়ি ঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি না হলেও, অবশ্য কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত পশ্চিম পুটিয়ারিতে এক পুরনো বাড়ির কার্নিশ ভেঙে পড়ে। সল্টলেকের লাবণী এলাকার একটি বাড়ির পাঁচিল ভেঙেছে। দত্তবাদের পাঁচটি বাড়ির ছাউনি উড়ে গিয়েছে। ভিআইপি রোডের উপর খুলে পড়েছে পাঁচটি বড় হোর্ডিং। উড়ে গিয়েছে কুদঘাটের নেতাজি মেট্রো স্টেশনের চালে।কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুধবার যত পুরোনো বাড়ির ক্ষতি চোখে পড়েছে, বাস্তবে তার চেয়ে সংখ্যাটা অনেক গুণ বেশি। কেননা, মঙ্গলবার রাতে থেকে টানা বৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দফায় দফায় মুষলধারায় অন্তত ২২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয় শহর। সঙ্গে ছিল টানা কয়েক ঘণ্টা হাওয়ার মারাত্মক ধাক্কা। উম্পুনের যা গতি, তাতে স্পষ্ট যে হাওয়ার সে লাগাতার ধাক্কা সয়ে নেওয়ার কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই ওই সব জীর্ণ বাড়ির। ইঞ্জিনিয়ারদের একাংশের মতে, বৃষ্টি-ঝড়ের এই জোড়া ফলা ভিতর থেকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে বাড়িগুলিকে।

 রাস্তার দু’ধারে ধরে শুধু পরে ছিল সবুজ উদ্ভিদের শায়িত দেহ। মাটি থেকে ঝোড়ো হাওয়ার তেজে উপরে গেছে মোটা মোটা গাছের কান্ড। তার জন্য কোথাও কোথাও ব্যহত হয়েছে স্বাভাবিক যান চলাচল। আবার কোথাও গাছ পরে রাস্তা জুড়ে বিপজ্জনক ভাবে ছরিয়ে ছিটিয়ে ছিল ইলেকট্রিকের তার।  আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। সেই কারণে গাছ কাটার যন্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। ধর্মতলা, সেন্ট্রাল এভিন্যু, গড়িয়াহাট, বাঘা যতীন, গড়িয়া, রানি কুঠি, যাদবপুর, বেহালা, ঠাকুরপুকুর, কসবা, টালা, তেলেঙ্গা বাগান, মানিকতলা, কাশীপুর, চিৎপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় পরে থাকা গাছ কেটে ফেলা হয়।

রাতে রাস্তায় পড়া গাছ কেটে সরাতে গেলে বিদ্যুৎপৃষ্ট হওয়ার বিপদ হতে পারত। এটা আঁচ করে নবান্ন থেকে নির্দেশ আসে, গাছ পড়ে গেলেই কাটার জন্য ছুটতে হবে না রাতে। ফিরহাদ জানান, বৃহস্পতিবার গাছ কেটে এবং জঞ্জাল সরিয়ে শহরের রাস্তা সাফ করা হবে।

পুরসভার রিপোর্ট, শহরের অন্তত ১০০ ওয়ার্ডে জল জমেছে। তবে রাতভর পাম্প চালিয়ে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে নিকাশী বিভাগের ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন। যাদবপুর, বেলেঘাটা, বেহালা, ঠাকুরপুকুরের বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায়।  রাতে বৃষ্টি একটু কমতেই রাস্তায় নেমে পড়লেন হাতে বৈদ্যুতিক করাত, চেন করাত নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের কর্মীরা। বুধবার রাতে মন্ত্রী সুজিত বসুও বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে যান।

Related Articles

Back to top button
Close