fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সাপে কামড়ানোর পর হাসপাতাল না নিয়ে গিয়ে ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁক, মালদায় মৃত গৃহবধূ

মিল্টন পাল, মালদা: সাপের কামড়ে আক্রান্ত গৃহবধূকে ওঝার ঝাঁরফুঁক।চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু হল গৃহবধূর। ঘটনাটি ঘটেছে , মঙ্গলবার রাত্রিবেলা মালদা থানার সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাদিরপুর এলাকায়। বেগতিক গৃহবধূকে উদ্ধার করে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষনা করে। যদিও চিকিৎসকরা জানান, সময়ের মধ্যে গৃহবধূকে মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা গেলে হয়তো তাকে বাঁচানো যেত। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত গৃহবধূর নাম সারথি প্রামানিক (৫০)। বাড়ি কাদিরপুর এলাকায়। মঙ্গলবার রাতে রান্না ঘরে বসেই রুটি তৈরি করছিলেন গৃহবধূ। সেই সময় একটি বিষধর সাপ তার পায়ে ছোবল মারে। ঘটনাস্থলে অচৈতন্য হয়ে পড়ে ওই গৃহবধূ। এরপর এই পরিবারের লোকেরা নিকটবর্তী চিকিৎসাকেন্দ্রে না নিয়ে গিয়ে ওই গৃহবধূকে স্থানীয় এক ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁক করার জন্য নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে ওঝার ঝাড়ফুঁকের কেরামতি। অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই গৃহবধূ । যদি এই ঘটনার পর মুখে কুলুপ এঁটেছে মৃতের পরিবার।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সারথি প্রামাণিকের বাড়ির লোকেরা সাপে কাটা ঘটনার পর তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায় নি। এলাকার এক ওঝার কাছে ঝাড়ফুক করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোন রকম ভাবে তাকে প্রাণে বাঁচানো যায় নি। ছটফট করতে করতে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।বিষয়টি জানার পর কাদিরপুর এলাকার ওই গুণিনের খোঁজ শুরু করেছে মালদা থানার পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

অধ্যাপিকা কৃষ্ণা গুহ বলেন, বর্তমানে ডিজিট্যালের যুগে এধরনের কুসংস্কারের কথা ভাবাই যায় নি। সচেতনতার অভাবে এধরনের ঘটনা সমাজে অহরহ ঘটে যায়। পুলিশ ও প্রশাসনকে বলবো মানুষকে সচেতন করতে। না হলে এই ঝাড়ফুঁকের বলির স্বীকার অনেকেই হবে।

Related Articles

Back to top button
Close