fbpx
অন্যান্যঅফবিটলাইফস্টাইলহেডলাইন

করোনা সেরে যাওয়ার পর কোন ডায়েটের মধ্যে রোগী থাকবেন

দোয়েল দত্ত: করোনা ভাইরাস কোভিড ১৯-এর জেরে সারা বিশ্ব এখন তোলপাড়৷ ভারতে মৃতের সংখ্যা বিগত কয়েকদিন ধরে যে হারে বেড়েছে তা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তাবড় রাজনীতিবিদ সকলের কাছেই চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে৷

 

তবে এর মধ্যে একমাত্ৰ আশার আলো অনেক মানুষ সুস্থও হচ্ছেন৷ তবে করোনা থেকে সুস্থ হলেও পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত চিকিৎসকদের নিয়ম যেমন মানতে হবে, তেমনি ডায়েটেরও কিছু নিয়ম মানতে হবে৷ কীভাবে কী নিয়ম মানবেন, কোনগুলি খাবেন, কেমন হবেন করোনা থেকে সেরে ওঠা রোগীদের ডায়েট তালিকা, তা জানালেন আমরি-র ডায়েটেশিয়ান সুচন্দা চট্টোপাধ্যায়৷ শুনলেন দোয়েল দত্ত৷

যে কোনও সংক্রমণ থেকে রোগী যখন আস্তে আস্তে সেরে ওঠে মানে যেই সময়টাকে বলা হয় রিকভারি ফেজ, সেসময়ে হেলদি ব্যালেন্সড ডায়েট খেতে হবে৷ এখন কথা হল, এই হেলদি, ব্যালেন্সড ডায়েট মানে কী? ভারতীয় ডায়েটে ব্যালেন্সড ডায়েট বলতে বোঝায় ভাত, ডাল, সবজি, ডিম, মাছ, ফল ইত্যাদি সারাদিনের খাবারে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে রাখতে হবে৷ এবং সমস্ত খাবারই হতে হবে সহজপাচ্য৷ এসময়ে এমনিতেই হজমক্ষমতা কম থাকে৷ কাজেই খুব বেশি তেল মশলাদার খাবার খেলে বদহজম হতে বাধ্য৷ কাজেই ঘরের তৈরি হালকা খাবারের উপরেই জোর দিতে হবে৷

 

এবারে আসা যাক কোন কোন খাবার বাদ দিতে হবে৷ এই তালিকায় প্ৰথমেই আসবে রেডি টু ইট খাবার৷ প্যাকেজড, প্রোসেসড ফুড যেগুলি দু মিনিট গরম জলে দিয়ে রান্না করে নেওয়া যায় সেই খাবারগুলোকে গোড়াতেই বাদ দিয়ে দিন৷ কেননা এগুলি দীৰ্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য এতে এমন কিছু প্রিজারভেটিভ দেওয়া থাকে, যা এই সময়ে শরীরের জন্য ভীষণই ক্ষতিকর৷

রাস্তার খাবার খাওয়া চলবে না৷ এখান থেকে শরীরে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ঢুকতে পারে৷ কেননা এগুলি খুব বেশি পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে যেমন রান্না করা হয় না, তেমনি উপকরণগুলিও বড় একটা ভালো নয়৷
করোনা সেরে ওঠার পর রোগীর ডায়েটের ক্ষেত্ৰে কয়েকটি জিনিস অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে

১. জল সবসময়ে ফিল্টার করে খেতে হবে৷ বাড়িতে ফিল্টার করার ব্যবস্থা না থাকলে মিনিট কুড়ি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে সেই জল খান৷

 

২. সারাদিনে একটা অন্তত মরশুমি ফল খান, তবে সেটাকে সেদ্ধ করবেন না৷ গোটা ফল খেলে শরীর তার প্ৰয়োজনীয় ফাইবার পাবে৷

৩. রান্নায় হলুদ, দারচিনি, পাঁচফোড়ন, কালোজিরে, গরমমশলার মতো ভারতীয় মশলা এবং বেসিলপাতা, কারিপাতা, পুদিনাপাতা যোগ করুন৷ এগুলির মেডিসিনাল গুণ আছে৷ আর প্ৰত্যেকটাই অ্যান্টি অক্সিডেন্টে ভরপুর৷ খেলে শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্ৰেস কমে ইমিউনিটি ক্ষমতা মজবুত হবে৷

৪. সবুজ শাকসবজি বেশি করে এই সময়টায় খাওয়া দরকার৷

৫. কো-মরবিডিটির মধ্যে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ থাকলে ডায়েটে প্ৰোটিন বাদ দেওয়াই ভালো৷ তার বদলে শাকসবজির উপর জোর দিতে হবে৷

৬. ডায়াবেটিসের সমস্যা যদি আগে থেকে থাকে আর তার যদি করোনার মতো কোনও সংক্রমণ হয় তাহলে রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিকভাবে বাড়ার একটা প্ৰবণতা থাকে৷ কাজেই ডায়েটও ঠিক করতে হবে অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামৰ্শে৷ সেখানে কো মরবিডিটি দেখে পুষ্টিবিদ ডায়েটতালিকা ঠিক করবেন৷ করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হওয়ার সময়ে নিম্নলিখিত ডায়েটতালিকা মেনে চলতে পারেন

প্ৰাতঃরাশ: দুধ-কৰ্নফ্লেক্স, ডিম, ছানা, -ডিম-একগ্লাস দুধ, নিরামিষাশী হলে রুটি-তরকারি, একগ্লাস দুধ৷ কারও যদি ল্যাকটোজেন ইনটলারেন্স থাকে, মানে দুধ খেলে যদি পেটব্যথা হয়, তার বদলে দই খেতে পারেন৷ কৰ্নফ্লেক্সের বদলে ওটসও চলতে পারে৷ একগ্লাস দুধ-এর বদলে একবাটি দই৷ কৰ্নফ্লেক্স বা ওটস দইতে মিশিয়েও খাওয়া যায়৷


মিড লাঞ্চ স্ন্যাক্স: একটা মরশুমি ফল , কলা, আপেল, কমলালেবু, মুসুম্বি, এগুলি রোগ প্ৰতিরোধক ক্ষমতা বাড়ায়৷

লাঞ্চ: ভাত, একবাটি ডাল, মাছ বা মাংসের ঝোল, পাঁচমেশালি তরকারি৷ নিরামিশাসী হলে সয়াবিন, পনির বা রাজমা৷ সঙ্গে মশালা দই (জিরে পাউডার ভাজা মশলা দিয়ে, খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি হজমেও সাহায্য করে)৷

বিকেলে: মুড়ি, ছোলা, পাতিলেবু ও টমেটো সহযোগে, এর ভিটামিন সি ইমিউনিটি বাড়ায়৷

রাত্ৰে: ভাত বা রুটি, সঙ্গে মাছ অথবা চিকেন৷ কিংবা পনির অথবা সয়াবিন৷ সঙ্গে হলুদ দুধ৷ হলুদ, আদা, দারচিনি, হিং, গোলমরিচ দিয়ে গরম দুধ শরীরকে ভিতর থেকে মজবুত রাখে।
এর পাশাপাশি করোনা থেকে রোগী যখন সেরে উঠছে তাঁকে প্রচুর ঘুমোতে হবে৷ ঘুমোলে শরীরের অনেক কষ্ট ও রোগেরই লাঘব হয়ে যায়৷ এবং প্রচুর পরিমাণে তরল পান করতে হবে৷ এ সম্পৰ্কেও নিৰ্দিষ্ট কিছু গাইডলাইন মেনে হবে-

১ রোগীকে সারাদিনে ২-৩ লিটার জলপান করতে হবে, যাতে শরীরের যাবতীয় টক্সিন ফ্লাশআউট করে যায়৷

২. অনেক সময়েই একটানা জল খেয়ে গেলে অসুবিধা হয়৷ বমি হয়ে যাবে বলে মনে হয়৷ তখন শুধু জল না খেয়ে স্বাদ বদলাবার জন্য মৌরি-মিছরির জল, মধু-লেবুর জল, লেবু-চিনির শরবৎ খাওয়া যেতে পারে৷

৩. আর একটা পানীয়ও এই সময়েও খুব উপকারী৷ সেটা হল ডাবের জল৷ এতে পৰ্যাপ্ত পরিমাণে ইলেকট্ৰোলাইটস থাকার ফলে শরীরে ইলেকট্ৰোলাইটসের ভারসাম্যর অভাব হয় না৷

৪. আর আছে নুন-চিনির জল বা ওআরএস৷ তবে হাইপারটেনশনের ধাত থাকলে এটাকে এড়িয়ে চলুন৷

৫. আমাদের সকলের বাড়িতেই জলের বোতল থাকে৷ আর সব বোতল থেকে জল খেলে সমস্যা৷ দিনে কতটা জল খাচ্ছি তা বোঝা যায় না৷ তার বদলে একটা নিৰ্দিষ্ট বোতল মেপে জল খেলে কতটা জল শরীরে গেল আর কতটা প্ৰয়োজন তা বোঝা যায়৷

৬. অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন এই সময়টায় কফি খাওয়া যাবে কি না৷ কারওর যদি দুধ-চিনি দিয়ে খুব ভারী কফি খাওয়ার অভ্যাস না থাকে, তাহলে নতুন করে করোনা থেকে সেরে ওঠার সময়টায় এই অভ্যাস করতে গেলে কিন্তু মুশকিলে পড়বেন৷ বদহজম হয়ে সমস্যা বাড়বে৷ তার চেয়ে ব্ল্যাককফি বা যেরকম কফি আগে খেতেন সেরকমটা চালিয়ে যাওয়াই ভালো৷ আর কেউ যদি ভারী কফি খেয়ে হজম করতে পারেন, আগে থেকে অভ্যাস থাকে, তাহলে খেতে কোনও সমস্যা নেই৷
করোনা থেকে সেরে ওঠার পর অনেক সময়েই রোগীর মুখে রুচি থাকে না৷ তাই যেটা খাচ্ছি সেটাকে ভালা লাগাতে হবে৷ খেয়ে ভালো লাগলে, রোগী তৃপ্তি পেলে তবেই সেই খাওয়া থেকে শরীরে পুষ্টি লাগবে৷

এখানে আরও একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে ফুড অ্যালাৰ্জি৷ আমরা সেরে ওঠার সময়টাতে পুষ্টিকর খাবার খেতে বলি৷ কিন্তু কারও যদি এই পুষ্টিকর খাবারের কোনও একটাতে অ্যালাৰ্জি থাকে আর জোর করে খায়, তাহলে লাভের বদলে উলটে ক্ষতি হবে যেমন ডিমে কারও অ্যালাৰ্জি থাকলে খেলে শ্বাসকষ্ট হবে৷ কাজেই আপনি যদি জানেন কোন কোন খাবারে আপনার অ্যালাৰ্জি আছে পুষ্টিবিদকে সেই অনুযায়ী জানান৷

যোগাযোগ: ৯৮৩০৯৫৬৮৮৯

Related Articles

Back to top button
Close