fbpx
কলকাতাশিক্ষা-কর্মজীবনহেডলাইন

কেন্দ্রকে তোপ দেগে, ইউক্রেন ফেরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী

যুগশঙ্খ, ওয়েবডেস্ক: প্রতিশ্রুতি মতো কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইউক্রেন ফেরত পড়ুয়ার রাজ্যেই পড়ার ব্যবস্থা করল রাজ্য সরকার। স্বভাবচিত ভঙ্গিতে কেন্দ্রকে বিঁধে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন ফেরত পড়ুয়াদের জন্য কিছু করছে না কেন্দ্র সরকার।

মমতা বলেন, ইউক্রেন ফেরত আসা পড়ুয়াদের জন্য ৪২২ ছিল এই রাজ্যের পড়ুয়া। আসার পরেই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে আলোচনা করেছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম, কেন্দ্রীয় সরকার অনুমতি দিক, তা হলে আমরা ওদের সবার পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দিতে পারব। কারণ, তাঁরা কেরিয়ারকে বিসর্জন দিয়ে ফিরে এসেছে। তার পর আমরা দুমাস অপেক্ষা করলাম, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার কিছু করবে না বলে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে, ওরা পোল্যান্ডে যাক, হাঙ্গেরিতে যাক, কিন্তু এক বার যাঁরা গিয়েছেন, তাঁরা কী ভাবে যাবেন। তাই আমরা কয়েকটি বুদ্ধি বার করেছি।

পড়ুয়াদের মধ্যে স্বাস্থ্য বিষয়ক পড়াশোনায় যুক্ত ছিলেন ৪১২ জন, এর মধ্যে ৪০৯ এমবিবিএস, ৩ জন ডেন্টাল, ইঞ্জিনিয়ারিং ছিল ৬ জন, পশু চিকিৎসায় ছিল ১ জন, শ্রমিক ছিল ৩ জন। ইঞ্জিনিয়ারিং ৬ জনকে প্রাইভেট কলেজ এ ব্যাবস্থা করেছি। ২ জন জয়েন করেছে। ডেন্টালের ১ জনকে ইন্টার্নশিপ করতে হবে কলকাতার সরকারি ডেন্টাল কলেজে। বাকি দুজন দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া সরকারি কলেজে ক্লাস করতে পারবে। পশ্চিমবঙ্গের সরকারি পশু চিকিৎসা পড়াশোনার কেন্দ্রে পড়াশোনা করতে পারবে। শ্রমিকদেরও ব্যবস্থা করা হবে।

ষষ্ঠ বছরের পড়ুয়ার সংখ্যা মোট ২৩, তাঁদের আমরা সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ইন্টার্নশিপ করার অনুমতি দিচ্ছি। ফিফথ্ ও ফোর্থ ইয়ারের এর পড়ুয়া মোট ৪৩ ও ৯২, মোট ১৩৫ জন, তাঁদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে পড়ার। তৃতীয় ও দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া, মোট ৯৩ ও ৭৯, মোট ১৭২ জন তাঁদেরও প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস করার জন্য সরকারি মেডিক্যাল কলেজে প্রবেশের অনুমতি পাবে। এর পর প্রথম বর্ষের ছাত্ররা, প্রথম ও দ্বিতীয় সেমেস্টারের পড়ুয়া যাঁরা, মোট সংখ্যা ৭৮, এদের মধ্যে যাঁরা নিট ক্লিয়ার করেছেন, তাঁদের বেসরকারি কলেজের কাউন্সেলিংয়ে বসার জন্য অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এরা নতুন করে ভর্তির সুযোগ পাবেন।

উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আবহে সেখানে পড়তে যাওয়া পড়ুয়ারা চরম বিপাকে পড়েন। টাকা, খাদ্য-পানীয় জলের অভাবে বাড়ি-ঘর ছেড়ে বাঙ্কারে কাটাতে হয় তাদের। ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকে যুদ্ধ পরিস্থিতি। এই অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় কর্নাটক থেকে পড়তে যাওয়া এক ছাত্রের। ভিডিও করে কেন্দ্র সরকারের কাছে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আর্তি জানায় পড়ুয়ারা। রাজ্যের তরফেও হেল্প লাইন নম্বর খোলা হয়। এর কেন্দ্রের তরফে পাঠানো বিশেষ বিমানে করে বাড়ি ফেরে পড়ুয়ারা।

Related Articles

Back to top button
Close