fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ছিটমহল বিনিময়ের পর ভারতে আসা ২৬টি পরিবার প্রথম দফায় পেল স্থায়ী আবাসন

জেলা প্রতিনিধি, দিনহাটা: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়ের পর ভারতে চলে আসেন বেশ কিছু পরিবার। এমনই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় ছিটমহল দাসিয়ারছড়া থেকে দিনহাটায় আসেন ৫৮টি পরিবার। সেই পরিবারগুলোকে দিনহাটার কৃষি মেলা এলাকায় সেটেলমেন্ট ক্যাম্পে পাঁচ বছর থাকার পর স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। রবিবার প্রথম দফায় ২৬টি পরিবারকে সেই আবাসনে নিয়ে যাওয়া হয়। দিনহাটা শহর সংলগ্ন ভিলেজ এক গ্রাম পঞ্চায়েতের হিমঘর সংলগ্ন এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে স্থায়ী আবাসন। প্রথম দফায় দিন ২৬ টি পরিবারকে নিয়ে আসা হলেও দ্বিতীয় দফায় রবিবার বাকি আরও ৩২টি পরিবারকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে বলে ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

দিনহাটা হিমঘর সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠা আবাসনে নিয়ে যাওয়ার জন্য এদিন সকাল থেকেই শুরু হয়েছে তাদের নিয়ে আসার কাজ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষি মেলা এলাকায় সেটেলমেন্ট ক্যাম্প এলাকা থেকে তাদের জিনিসপত্র আনার গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়। স্থায়ী বাড়িতে ঘর গোছাতে এদিন সকাল থেকেই ওদের ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায়। আট থেকে আশি সকলেই যেন নেমে পড়েছে ঘর গোছাতে।

আরও পড়ুন: পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বেতন পাবেন সঙ্গী, প্রেমের খোঁজে ভাইরাল ডাক্তারের পোর্টফোলিও

কেউ নিচ্ছে ঘরের ভেতরের বিভিন্ন রকম জিনিসপত্র আবার কেউবা দলবদ্ধভাবে নিয়ে যাচ্ছে আলমারি থেকে শুরু করে অন্যান্য ভারী জিনিস।

প্রবীণ বাসিন্দা হিরেন চন্দ্র বর্মণ বলেন, সত্যি আনন্দের দিন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ছিটমহল বিনিময় হয়েছে। তারা এসেছিলেন দিনহাটায়। পাঁচ বছর দিনহাটার অস্থায়ী ক্যাম্পে থাকার পর এদিন নতুন বাড়িতে আশায় সত্যি ভাল লাগছে।
কৃষ্ণ অধিকারী বলেন, প্রথমে তাদের কোন পরিচয় ছিল না। ছিটমহল বিনিময়ের পর তারা দিনহাটায় চলে আসেন। দীর্ঘ বছর পর স্থায়ী আবাসন পাওয়ায় এ এক আলাদা অনুভূতি। এত কিছু আনন্দের মধ্যেও ঘরের জন্য স্থায়ী কাগজপত্র হাতে না পাওয়ায় একটা দুঃখ রয়েই গেছে। তবে ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাসনের প্রতিটি ফ্ল্যাটের প্রতিটি পরিবারকে খুব শীঘ্রই ঘরের কাগজপত্র তুলে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন:গোঘাটে বিজেপি কর্মীকে খুনের অভিযোগ, উত্তেজনা, পুলিশের লাঠিচার্জ, প্রহৃত কয়েকজন সাংবাদিক

এলাকার মৃণাল বর্মন,ফুলবাবু বর্মন, বিজলী অধিকারী, সোনেকা বর্মণ , শ্রীদাম অধিকারি, পূর্ণিমা বর্মন,সুমিত্রা বর্মনরা বলেন দীর্ঘ বছর পর স্থায়ী ঠিকানা মিলল আজ। দীর্ঘ বছর তাদের কোনও স্থায়ী ঠিকানা ছিল না। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় ছিটমহলে দীর্ঘদিন তারা ছিলেন। সেখানেই বড় হয়েছেন। অবশেষে দুই দেশের সরকারের প্রচেষ্টায় ২০১৫ সালের ৩১ শে জুলাই মধ্যরাতে ছিটমহল বিনিময় হয়। তারপর থেকে সেখানকার ৫৮টি পরিবার দিনহাটায় আসেন।

এই পরিবারগুলির জন্য গড়ে উঠেছে নতুন আবাসন।দিনহাটা এক ব্লকের বিডিও সৌভিক চন্দ বলেন, দুদিন ধরেই পরিবারগুলিকে তাদের স্থায়ী আবাসনে নিয়ে যাওয়ার কাজ এদিন শুরু হয়। প্রথম দফায় ২৬ এই পরিবার এবং সোমবার আরো ৩২ টি পরিবার আসবেন। সেটেলমেন্ট ক্যাম্প থেকে তাদের মালপত্র নিয়ে আসার জন্য সরকারিভাবেও গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close