fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণবিনোদনহেডলাইন

লড়াই শেষ, চলে গেলেন ‘গীতশ্রী’ সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়

যুগশঙ্খ, ওয়েবডেস্কঃ টানা ২০ দিনে লড়াই শেষ। চলে গেলেন গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। অবসান হল এক যুগের। আজ, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাত নাগাদ হৃদস্পন্দন থমকে যায় স্বর্ণযুগের কিংবন্দন্তী গায়িকা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের। কলকাতার বাইপাসের ধারে অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সম্প্রতি কোভিড মুক্ত হন তিনি। চিকিৎসায় সাড়া দিকে চিকিৎসকেরা কোনওদিন তাকে সংকটমুক্ত বলতে পারেননি। আজ সন্ধ্যার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। অস্ত্রোপচারের জায়গায় নতুন করে ব্যথা শুরু হয়। ৯০ বছরে বয়সেই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে অসংখ্য মধুর স্মৃতি রেখে, ভক্তদের কাঁদিয়ে অমৃতলোকে যাত্রা করলেন গীতশ্রী। শোকস্তব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অসংখ্য গুণমুগ্ধ ভক্ত।

অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শারীরিক কিছুটা উন্নতিও হয়েছিল।গত ২৩ জানুয়ারি বাড়িতে বাথরুমে পড়ে গিয়ে চোট পান সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। পরে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়, তাঁর ঊরুর হাড় ভেঙেছে। তাঁর কোমরে চোট আছে। অস্ত্রোপচার করতে হবে। অপারেশন হয়। কোভিড মুক্ত হন তিনি। মাঝখানে রাইলস টিউব দিয়ে খাওয়ানো হলে পরে নিজে খাবার তিনি।

অ্যাপোলো হাসপাতালে শিল্পীর পর্যবেক্ষণে ছিলেন পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ টিম। কার্ডিওথোরাসিক সার্জারি বিভাগীয় প্রধান ডাক্তার সুশান মুখোপাধ্যায়, কার্ডিওলজির প্রধান ডাক্তার প্রকাশচন্দ্র মণ্ডল, এবং ডাক্তার দেবরাজ যশ (পালমনোলজি), ডাক্তার সুরেশ রামাসুব্বন (ক্রিটিক্যাল কেয়ার) ও বিডি চট্টোপাধ্যায় (অর্থোপেডিক্স)-এর বিশেষজ্ঞ দল।

 

গত ২৬ জানুয়ারির রাত থেকেই বাড়িতে শারীরিক অবস্থা অবনতি হয় সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের। ২৭ জানুয়ারি রাজ্যে সরকারে উদ্যোগে শিল্পীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে, তাঁকে গ্রিন করিডর করে প্রথমে এসএসকেএম ও পরে বাইপাস সংলগ্ন অ্যাপোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেই সময় গায়ে জ্বর ছিল। তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন তিনি।পরে রিপোর্টে জানা যায়, তিনি কোভিড পজিটিভ। ফুসফুসে সংক্রমণ রয়েছে– রয়েছে হৃদযন্ত্রের সমস্যাও। এসএসকেএম ভর্তি হওয়ার পর তাঁকে তড়িঘড়ি দেখতে হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। হাসপাতালে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, করোনা আক্রান্ত হওয়ায় আরো ভালো চিকিৎসার জন্য তাঁকে অ্যাপোলোতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসএসকেএমে উডবার্ন ইউনিটে একটি বিশেষজ্ঞ টিমও সঙ্গে সঙ্গে তৈরি করা হয়েছিল। চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায়কেও আনা হয় সেখানে।

সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের জামাই জানান,  ২৬ জানুয়ারি রাত থেকেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়  শিল্পীর। রাত থেকেই জ্বর রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে ফুসফুসের সংক্রমণ। শ্বাসকষ্ট রয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই হাসপাতালে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

বর্ষীয়ান শিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ১৯৩১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে প্রশিক্ষিত হলেও তবুও তার বেশিরভাগ কাজ বাংলা আধুনিক গানে। ১৯৫০ সালে তারানা চলচ্চিত্রে একটি গান দিয়ে মুম্বইতে তার হিন্দি গান গাওয়া শুরু হয়। তিনি ১৭টি হিন্দি চলচ্চিত্রে নেপথ্য গায়িকা হিসেবে গান গেয়েছিলেন। ব্যক্তিগত কারণে ১৯৫২ সালে তিনি তার কলকাতা শহরের বাড়িতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

১৯৭১ সালে ‘জয় জয়ন্তী’ এবং ‘নিশিপদ্ম’ ছবিতে গান গেয়ে শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। গান দুটি হল – ‘আমাদের ছুটি ছুটি’ এবং ‘ওরে সকল সোনা মলিন হল’। এছাড়াও ২০১১ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ উপাধিতে সম্মানিত করে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে, যুদ্ধের হাত থেকে বাঁচতে কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে আগত লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তুদের জন্য তিনি ভারতীয় বাঙালি শিল্পীদের সঙ্গে গণ আন্দোলনে যোগ দেন এবং তাদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন তিনি। বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করেন।

তিনি বাংলাদেশী সংগীতশিল্পী সমর দাস যিনি বাংলাদেশে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন তার সাহায্যার্থে বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান রেকর্ড করেন।

কারাগারে বন্দী নতুন বাংলাদেশের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির উপলক্ষে তার গাওয়া ‘বঙ্গবন্ধু তুমি ফিরে এলে’ গানটি মুক্তি পায়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর, প্রথম একুশে ফেব্রুয়ারির উদ্যাপন উপলক্ষে ঢাকায় পল্টন ময়দানের একটি উন্মুক্ত কনসার্টে অনুষ্ঠান করা তিনি অন্যতম প্রথম বিদেশি শিল্পী।

২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

Related Articles

Back to top button
Close