fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা আবহে মাস্ক পরেই বিয়ে সারলেন পাত্র-পাত্রী

সোমা কর, দিনহাটা: একদিকে লকডাউন অন্যদিকে সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য কড়া নির্দেশিকা। এরই মধ্যে পাত্রীর মায়ের অসুস্থতার জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিয়ে সম্পন্ন হল। মেয়ের বিয়েটা দ্রুত সেরে ফেলার প্রবল ইচ্ছে মায়ের। এই দুয়ের টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত বিয়ের আয়োজন করা হল। কিন্তু একেবারে সামাজিক দূরত্বের কথা পুরোপুরি মাথায় রেখে, রীতিমতো মাক্স পরে পাত্র, পাত্রী এমনকি পুরোহিত মহাশয়ও নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখেই মন্ত্র উচ্চারণ করলেন। সামান্য আমন্ত্রিত তাঁরাও নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রেখেই রক্ষা করলেন নিমন্ত্রণ।

গতকাল ওই বিয়ের অনুষ্ঠান হয় নাজিরহাট ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার শালমারা গ্রামে প্রাত্রীর বাড়িতে। ওই বিয়েতে পাত্র ছিলেন বুড়িরহাট ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। পাত্র প্রীতম ঘোষ বলেন, “করোনা ভাইরাসের জন্য লকডাউন চলছে। এখন কোন সামাজিক অনুষ্ঠান করা যাবে না। তাই কনে দেখা পর্ব মিটে যাওয়ার পরেও অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু আচমকা আমার শাশুড়ি মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর তাঁর জেরেই শেষ পর্যন্ত বিয়ের অনুষ্ঠানটা করতে হল। কিন্তু সব নিয়ম মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, মুখে মাক্স পরে তবেই বিয়ের পিড়িতে বসেছি।”

পাত্রী শুক্লা দেবী জানান, মায়ের আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা না ঘটলে হয়তো লকডাউন উঠলেই বিয়ের অনুষ্ঠান হত। কিন্তু কি করব বলুন। সব দিক বজায় রাখা তো আর সম্ভব নয়।”তবে বিয়ের অনুষ্ঠান খুব ভালোভাবেই মিটে গিয়েছে। এমনভাবে সামাজিক দূরত্ব ও মুখে মাক্স বেঁধে বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছে, যে তা দেখে খুশি এলাকার বাসিন্দারাও। অনেকেই বলেন, এটা গ্রামাঞ্চল। এমনিতেই এখানে খুব কম মানুষের বসবাস। তার মধ্যে অল্প কয়েকজনকে নিয়ে অনুষ্ঠান করেছে।

মেয়ের মা আরতী অধিকারী জানান, শারীরিক অসুস্থতার জন্য আমরা সামাজিক দূরুত্ব মেনেই এই বিবাহের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি এও জানান পারিবারিক রীতিনীতি মেনেই এই বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। তবে খুবই কম আত্মীয়ের উপস্থিতিতেই সামাজিক দূরত্ব মেনেই এই শুভ কাজ সম্পন্ন করেছেন তারা।

Related Articles

Back to top button
Close