fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

‘সীমান্তের উত্তেজনার জন্য দায়ী চিনা সেনার আগ্রাসী এবং প্ররোচনামূলক আচরণ’ চিনের বিদেশমন্ত্রীকে বললেন জয়শংকর

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা নিয়ে ভারত ও চিনের বিদেশমন্ত্রক স্তরের বৈঠকেও স্পষ্ট কোনও সমাধানসূত্র পাওয়া গেল না। তবে, দুই দেশ এদিন ৫ দফার একটি পরিকল্পনায় ঐক্যমত হয়েছে। আগামী দিনে এই পাঁচটি বিষয় মেনে চলার অঙ্গীকারও করেছে। একদিকে যখন চিনের বিদেশমন্ত্রী শান্তি স্থাপনের কথা বলছেন অন্যদিকে সীমান্তে আস্ফালন জারি রেখেছে লালফৌজ।

সীমান্তে যুদ্ধের আবহেই গতকাল মস্কোতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ওয়াই (Wang Yi) জরুরি বৈঠকে বসেন। দিন তিনেক আগে এই সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন সামিটেই দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রক স্তরে বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠক ফলপ্রসু হয়নি। তাই বৃহস্পতিবারের বৈঠকে নজর ছিল গোটা বিশ্বের। নেপথ্যে থেকে রাশিয়াও চাইছিল দুই দেশের সমস্যার একটা সমাধানসূত্র বের হোক। কারণ রাশিয়া চায় না, ভারত ও চিনের এই সমস্যার জন্য কোনওভাবে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন ভেঙে যাক।

গতকোলর বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর চিনের বিদেশমন্ত্রীকে বলেছিলেন, লাদাখের পরিস্থিতির জন্য দুই দেশের সম্পর্কে অবনতি হচ্ছে। তাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান জরুরি। এতে দুই দেশেরই মঙ্গল হবে। কারণ সীমান্তের অশান্তির কারণে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। এদিকে আবার বেজিংয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে সীমান্তে উস্কানি বন্ধ না হলে লাদাখে শান্তি ফিরবে না। এর আগেও ভারতের বিরুদ্ধে লাদাখ সীমান্তে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ করেছিল চিন। ভারতীয় সেনার লাগাতার উস্কানির কারণেই নাকি লালফৌজ প্রতিরোধ গড়তে বাধ্য হয়েছে।

এদিনের বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর চিনা বিদেশমন্ত্রীকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সীমান্তের বর্তমান উত্তেজনার জন্য দায়ী চিনা সেনার (PLA) আগ্রাসী এবং প্ররোচনামূলক আচরণ। জয়শংকর বলেন, চিনা সেনার এই আচরণ দুই দেশের মধ্যেকার যাবতীয় চুক্তি এবং প্রটোকলের পরিপন্থী। সীমান্তে চিনের যে বিশাল সেনা মোতায়েন আছে, তা নিয়েও আপত্তি তোলেন বিদেশমন্ত্রী। সাফ জানিয়ে দেন,’সীমান্তে চিনের বিশাল সেনা আসলে ১৯৯৩ এবং ১৯৯৬ সালে হওয়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অসম্মান। চিনারা এই বিপুল সেনা মোতায়েনের উপযুক্ত কোনও কারণ দেখাতে পারেনি।’

আরও পড়ুন: বিরোধীদের চাপে রেখে ফের জাতীয় শিক্ষা নীতি নিয়ে বার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির

শেষপর্যন্ত দুই দেশ একটি পাঁচ দফার পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে। এই পাঁচ দফার পরিকল্পনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, কোনওভাবেই মতপার্থক্যকে বিবাদে পরিণত না করা। সমস্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি মেনে চলা। সীমান্তে টহলদারির সময় সমস্ত প্রোটকল মেনে চলা এবং আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, এবং সমস্যা বাড়তে পারে এমন কোনও পদক্ষেপ না করা। এই পাঁচ পয়েন্টে সম্মত হলেও এদিনের বৈঠকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে কোনও রফাসূত্র মেলেনি।

 

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close