fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

‘শাসকদলের কর্মী হওয়ায় নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতনে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না’

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও গ্রেফতার হয়নি নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত। পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড় থানার সামন্তী গ্রাম নিবাসী অভিযুক্ত হরেকৃষ্ণ মণ্ডলকে গ্রেফতারের দাবিতে এবার আসরে নামলেন বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পল ।

তিনি বৃহস্পতিবার প্রথম নির্যাতিতা নাবালিকার বাড়িতে যান । সেখানে নাবালিকার মা সহ পরিবারের অন্যদের কাছে ঘটনার কথা জেনে তিনি যান জেলা পুলিশ সুপারের অফিসে । পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় সেই সময়ে অফিসে না থাকায় ডিএসপি হেড সৌভিক পাত্রর সঙ্গে ঘটনা বিষয়ে কথা বলেন বিজেপি নেত্রী। পুলিশ সুপারের অফিস থেকে বেরিয়ে ক্ষুব্ধ অগ্নিমিত্রা পল বলেন,২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার না করলে ফের তিনি বর্ধমানে আসবেন । শুরু হবে বৃহত্তর আন্দোলন ।

শক্তিগড় নিবাসী বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সোমরাজ বন্দ্যোপাধায় বলেন , ‘সামন্তী গ্রামে বসবাস করেন বছর ৬ বয়সী নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবার । একই গ্রামে বাড়ি বছর ৫৫ বয়সী শাসক দলের কর্মী হরেকৃষ্ণ মণ্ডলের । শিশু কন্যার উপর যৌন নির্যাতন চালানোর বিষয়ে তার বাবা ৮ আগষ্ট শক্তিগড় থানায় হরেকৃষ্ণ মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগে তিনি পুলিশকে জানান , ‘ওই দিন বেলায় পেয়ারা দেবার টোপদিয়ে তাঁর মেয়েকে প্রতিবেশী হরেকৃষ্ণ মণ্ডল নিজের ঘরে নিয়ে যায় । এরপর সেখানে হরেকৃষ্ণ মণ্ডল শিশু কন্যার উপর যৌন নির্যাতন চালায় । এই ঘটনা নিয়ে শিশু কন্যার পরিবার থানায় অভিযোগ জানানোর পরেই হরেকৃষ্ণ নিজের বাড়ি ছেড়ে পালায় ।’

সোমরাজবাবু বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে তাঁরা বুধবার শক্তিগড় থানায় স্মারকলিপিও জমা দিয়েছিলেন । কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হরেকৃষ্ণ মণ্ডল শাসক দলের কর্মী হওয়ায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে আগ্রহ দেখাচ্ছে না । ’ যদিও বর্ধমান উত্তর বিধানসভার বিধায়ক তথা বর্ধমান ২ ব্লকের ব্লক তৃণমূল সভাপতি নিশীথ মালিক এদিনও স্পষ্ট জানিয়ে দেন ‘ সামন্তী গ্রামে হরেকৃষ্ণ মন্ডল নামে আমাদের দলের কোন কর্মী নেই। বিজেপি নেতা নেত্রীরা উদ্দেশ্য প্রণদিত ভাবে করোনা মহামারির সময়ে এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের নাম জড়িয়ে দিতে চাইছে শুধু মাত্র রাজনীতি করার জন্য।

অগ্নিমিত্রা পল এদিন সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন ,‘এখন দেখছি চাল, ডাল চুরির করার পাশাপাশি বাংলার মা বোনকে ধর্ষণ করা ও ইজ্জত নেওয়ারও ছাড়পত্র তৃণমূল কর্মীদের দিয়ে দিয়েছে শাসকদল।শুধু সামন্তি নয় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় একই ধরনের ঘটনা ধারাবাহিক ভাবে ঘটে চলেছে । কয়েকদিন আগে হুগলির তারকেশ্বরের একই রকম ঘটনা ঘটেছে। সেই ঘটনাতেও এক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতার ছেলে অভিযুক্ত। কোনও ঘটনাতেই পুলিশ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না ।’ যদিও পুলিশ জানিয়েছে হরেকৃষ্ণ মণ্ডলের বিরুদ্ধে পসকো আইনে মামলা রজু হয়েছে । পলাতক ওই অভিযুক্তর খোঁজ চলছে ।

Related Articles

Back to top button
Close