fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

জামাত জোটেই পশ্চিমবঙ্গে জন্ম আল কায়দার ‘কায়দাতুল জিহাদের’, চাঞ্চল্যকর অডিও বার্তা NIA-এর হাতে

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: একসঙ্গে দুই বঙ্গে ত্রাসের স্বপ্ন দেখেও মতাদর্শগত বিভেদে ভাগ হয়ে গিয়েছিল জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ। ফলে একসঙ্গে পথ চলা শুরু করে আড়াআড়ি ভাবে ভাগ হয়ে যায় সালাউদ্দিন সালেহিন পন্থী আদি জেএমবি এবং মহম্মদ কওসর ওরফে বোমা মিজান ঘনিষ্ঠ নব্য জেএমবি সংগঠন। এর সঙ্গে কওসর ঘনিষ্ঠ নব্য জেএমবি সংগঠনের বেশ কিছু কার্যকলাপের তথ্যপ্রমাণ মিললেও কিছুটা হলেও শক্তিহীন হয়ে পড়েছিল আদি জেএমবি সদস্যরা। সেই কারণে আল-কায়েদার সঙ্গে হাত মিলিয়ে এবার বড় নাশকতার ছক কষেছিল এই আদি জেএমবি সদস্যরাই।এনআইএ গোয়েন্দাদের হাতে একটি অডিও টেপে অন্তত সেই ঘটনারই তথ্য প্রমাণ মিলেছে।
এনআইএ গোয়েন্দারা একপ্রকার নিশ্চিত ছিলেন, আল কায়দার অন্তত পশ্চিমবঙ্গে কোনও রকম সাংগঠনিক ক্ষমতা ছিল না। কিন্তু মুর্শিদাবাদের ডোমকলে এবং কেরালার এর্নাকুলামে ৯ জন আল কায়দা জঙ্গি ধরা পড়ার পরে সম্পূর্ণ ধারণা বদলে যায় গোয়েন্দাদের। এদের মধ্যে অন্যতম মূল কারিগর আল মামুন কালামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা তাদের জেএমবি মদত সম্বন্ধে বিপুল তথ্য পান। এছাড়াও উদ্ধার হয় একটি অডিও টেপ, যেখানে জামাত ও আল কায়দা জোটে ‘কায়দাতুল জিহাদ’ স্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছেন গোয়েন্দারা।
বস্তুত, নব্য জেএমবি-দের হারিয়ে নিজেদের ক্ষমতা জাহির করার চেষ্টায় ছিল আদি জেএমবি সংগঠন বা সালাউদ্দিন সালেহীন ঘনিষ্ঠ সংগঠন। সেই কারণে ভারতে নিজের সংগঠন বিস্তার করতে চাওয়ায় আল-কায়েদার ত্রাতা হয়ে দাঁড়ায় সেই আদি জেএমবি সংগঠনে সদস্যরাই। গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, ২০১৪ সালে খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর ২০১৫ সালে জাওয়াহিরি ঘোষণা করেন আল কায়দার উপমহাদেশ শাখার নতুন সংগঠনের নাম ‘কায়দাতুল জিহাদ’।  পশ্চিমবঙ্গে এর পিছনে পুরোপুরি মূল সমর্থন ছিল সালাউদ্দিন সালেহীন গোষ্ঠী আদি জেএমবি সংগঠনের, হাতে আসা ওই অডিও টেপ শুনে এবং আরও কিছু তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এমনটাই মনে করছেন এনআইএ গোয়েন্দারা।
গোয়েন্দাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র, জিহাদ সংক্রান্ত বইপত্র ছাড়াও উদ্ধার হয়েছে এই অডিয়ো টেপ। সংগঠনে নিয়ে আসার জন্য টার্গেট থাকা মুসলিম যুবকদের দাওয়াত দেওয়ার পর এই অডিও টেপ শুনিয়ে তাদের মগজ ধোলাই করা হত বলে সূত্রের খবর। ওই অডিও টেপে পরিষ্কার বাংলা উচ্চারণে বলা হচ্ছে,  “আমি সমস্ত মুসলিম সম্প্রদায়কে সাধারণভাবে জামাত কায়দাতুল জিহাদের একটি নতুন শাখা জামাত কায়দাতুল জিহাদ উপমহাদেশ প্রতিষ্ঠার মোবারকবাদ জানাচ্ছি এবং পাকিস্তান, ইন্ডিয়া সহ পুরো উপমহাদেশের মুসলমানদের বিশেষভাবে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। প্রাণপ্রিয় আমির শাইখ আইমান আল-জাওয়াহিরি হাফিজুল্লাহের দেওয়া নির্দেশনাকে জামাতের সমস্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার প্রত্যয় মাওলানা আসেম উমর হাফিজুল্লাহের নেতৃত্বে একত্রিত হওয়ার মোবারক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর উদ্দেশ্য আমেরিকা এবং তার সহযোগীদের দাসত্বে আবদ্ধ সমগ্র পৃথিবীর সমস্ত কুফরি শাসনতন্ত্রের বিরুদ্ধে জিহাদ করা। এই শাসনতন্ত্রকে শিকড় সহ চিরতরে উৎখাত করার চেষ্টা করা। আর এই কুফরি শাসনব্যবস্থাকে উচ্ছেদ করে কালিমায়ে তাওহীদের সমুন্নত করা। কেন না এটাই সেই অভিশপ্ত শাসন ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে খিলাফতে উসমানিয়াকে ভেঙে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে।’
ফলে আদি জেএমবি সংগঠনকে ধরে রাজ্যে আর কোথায় কোথায় আল-কায়দা নিজের ভারতীয় শাখা সংগঠন বিস্তার করেছে আপাতত তারই খোঁজ চালাচ্ছেন এনআইএ গোয়েন্দারা। আদি জেএমবি সংগঠনের নেতৃত্বকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেকটাই রাজ্যে আল কায়দার শিকড় খোঁজা সম্ভব হবে বলে দাবি গোয়েন্দাদের।

Related Articles

Back to top button
Close