fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

রাজ্যে ৪ জেলায় মডিউল বানিয়ে সেনার ওপরে হামলার ছক ছিল আল কায়দা জঙ্গিদের

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: গ্রেফতারের পর জেরার প্রথম দিনেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেলেন এনআইএ গোয়েন্দারা। আল কায়দার ভারতীয় শাখা পরিকল্পনার খোঁজ করতে গিয়ে এনআইএ গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, রাজ্যের চার জেলায় মডিউল বানিয়ে সরাসরি ভারতীয় সেনার ওপর হামলার ছক ছিল তাঁদের। আর তার জন্য গত ২ বছর ধরে চলছিল পরিকল্পনা। যার মূল দায়িত্বে ছিল এই রাজ্যের আল কায়দার ভারতীয় শাখার মূল দায়িত্ব প্রাপ্ত আল মামুদ কালাম।

 

জানা গিয়েছে, গত দু’বছরে দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমে আল কায়দার মডিউল তৈরির কাজ করেছিল এনআইএ-র হাতে ধৃত জঙ্গিরা। চলছিল সহজলভ্য বস্তু দিয়ে আইইডি ও বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণ। এমনকি তৈরি করে ফেলা হয়েছিল সহজলভ্য শক্ত ধাতু দিয়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটও।পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আল কায়দার এই জঙ্গিরা ব্যবহার করত একটি বিশেষ অ্যাপ। এই অ্যাপেই জঙ্গি নেতাদের পাকিস্তান থেকে বলা হয় কোন কোন জায়গায় নাশকতার ছক কষতে হবে। ধৃতদের মোবাইল থেকে সেই অ্যাপের সন্ধান মিলেছে।

 

গোয়েন্দাদের দাবি, পাকিস্তানের পেশোয়ারে বসে আল কায়দার জঙ্গি নেতারা মদত দিয়ে চলেছে ভারত ও বাংলাদেশের ‘আল কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্ট’ বা ‘আকিস।’ আকিস বাংলাদেশ শক্ত ঘাঁটি
তৈরি করেছে। এদিকে, ভারতীয় শাখার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ছাড়া কেরলের এর্নাকুলাম ও বেঙ্গালুরুতেও রয়েছে আকিস জঙ্গিদের ঘাঁটি। পাকিস্তান থেকে ঘুরপথে টাকা আসত এই রাজ্য ও দক্ষিণ ভারতের জঙ্গিদের কাছে। বাংলাদেশ থেকে এই রাজ্যের জঙ্গি নেতাদের মাধ্যমে দক্ষিণ ভারতের জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হত। এছাড়াও সরাসরি পাকিস্তানের আল কায়দা নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এই রাজ্যের জঙ্গি নেতাদের।

 

কিন্তু কিভাবে এই নেটওয়ার্ক তৈরি করল আল মামুদ কালাম? জানা গিয়েছে, প্রথমে আল-কায়েদা মতাদর্শ অনুপ্রাণিত হয় আল মামুদ কালামই। তাকেই সদস্য সংগ্রহ এবং সংগঠন মজবুত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিছু বছর আগে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি থানা এলাকার নওদাপাড়ার বাসিন্দা আল মামুদ কালাম কেরলে রাজমিস্ত্রি কাজ করতে যায়। সেখানেই তার পরিচয় হয় মুর্শিদ হাসান, ইয়াকুব বিশ্বাস, মোশারফ হোসেনের সঙ্গে। তারাও মুর্শিদাবাদের রানীনগর, ডোমকল ও জলঙ্গির বাসিন্দা। এর্নাকুলামে থেকে মিস্ত্রির কাজের আড়ালে আল-কায়েদার মগজ ধোলাই এবং প্রশিক্ষণ চলতে থাকে। কেরলের গোপন ডেরায় আইইডি ও বিস্ফোরণ বানানোর প্রশিক্ষণ নেয় কালাম।

 

জঙ্গি নিয়োগের কাজ শুরু করতেই কালামের সঙ্গে পরিচয় হয় ডোমকলের বাসিন্দা ও ডব্লিউবিএসইডিসিএলের অস্থায়ী কর্মী লিউ ইয়ান আহমেদের। একটি কলেজের পরীক্ষাগারের সঙ্গে যুক্ত থাকার সূত্রে বৈদ্যুতিক সার্কিট তৈরির কাজ জানত লিউ ইয়ান। তাকে দিয়েই শুরু হয় আইইডি বানানোর কাজ। এর মধ্যেই মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বেশ কয়েকজন যুবক ও তরুণের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ হয় আল কায়দার। বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্রদেরই বেছে নেওয়া হয়। মুর্শিদাবাদে ধৃতদের মধ্যে নাজমুস সাকিব ডোমকলের কলেজে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়ছে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের আল কায়দা নেতাদের নির্দেশেই কামাল ও লি ইউয়ান দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা ও মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকটি জায়গায় রীতিমতো ক্যাম্প করে থেকে জঙ্গি নিয়োগ শুরু করে। পছন্দমত কয়েকজনকে দেওয়া হয় বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণ।

 

মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি, ডোমকলে ধৃত ৬ জন জঙ্গির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে যে ল্যাপটপ, মোবাইল, পেন ড্রাইভ পাওয়া গিয়েছে, তা থেকে উদ্ধার হয়েছে বহু আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেতার ছবি ও তাদের বক্তৃতার ভিডিও, বোমা ও বিস্ফোরক তৈরির বহু স্কেচ। লি ইউয়ান আহমেদের বাড়ি থেকে প্রচুর বৈদ্যুতিক সার্কিট, আইডি তৈরির সরঞ্জাম ও দেশীয় পদ্ধতিতে ধাতু দিয়ে তৈরি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পাওয়া গিয়েছে। আর এবার জানা গেল তাদের পরিকল্পনার কথাও। তবে এই রাজ্যের কোন কোন জঙ্গি নেতা বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের জঙ্গি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, আপাতত তারই খোঁজ চালাচ্ছেন এনআইএ গোয়েন্দারা।

Related Articles

Back to top button
Close