fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রেশন সামগ্রীর জন্য তীর্থযাত্রা আলিপুরদুয়ারে!

হিতৈষী দেবনাথ, আলিপুরদুয়ার: করোনার আবহের মাঝেও যখন “রেশন দুর্নীতি” নিয়ে রাজ‍্য রাজনীতি সরগরম। সেই সময়কালে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করছেন আমজনতা। সমাজের উচ্চবিত্ত, মধ‍্যবিত্তরা যখন খবরের কাগজ, টিভি চ‍্যানেল, এমনকি এই মূহুর্তে কালবৈশাখীর গতিতে চলা সোশ্যাল মিডিয়ায় “রেশন দুর্নীতি” নিয়ে, শাসক এবং বিরোধী সমর্থকদের রাজনৈতিক চাপানউতোর দেখছেন, ঠিক সেই সময়ই নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্যরা এই রেশন সামগ্রিকেই “তীর্থ” হিসেবে ব্যবহার করছেন।

দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্ম পিপাসু মানুষেরা, পায়ে হেঁটে তীর্থযাত্রা করেন।
ঠিক সেভাবেই আলিপুরদুয়ার ২ নম্বর ব্লকের গৌরী ওড়াও প্রতি সপ্তাহে কিডনি বিকল হওয়া অসুস্থ স্বামীকে ঘরে রেখে ৪০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়ে রেশম সামগ্রীর জন্য তীর্থযাত্রা করছেন। আজ্ঞে হ্যাঁ এটি তীর্থযাত্রাই। এ যাত্রা একজন সহধর্মিণীর, নিজের স্বামীকে খাবার দেওয়ার যাত্রা।

গৌরী ওড়াও সন্তানসহ স্বামীকে নিয়ে কুমারগ্রাম ব্লকের খোয়ারডাঙ্গা এলাকায় বসবাস করতেন। কিন্তু স্বামীর কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ায় সন্তানকে নিয়ে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন বাড়ি থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পানবাড়ি এলাকায় নিজের বাবার বাড়িতে। লকডাউন চলাকালীন যান চলাচল বন্ধ থাকার দরুন, প্রত্যেক সপ্তাহে এই দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করে রেশন সামগ্রী নিয়ে বাড়ি ফিরছেন গৌরী ওরাও। গোটা দেশ যখন করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, সেইসময় গৌরী দেবী মুখে মাস্ক পরে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সৈনিক হয়েও, স্বামীকে সুস্থ করে তোলার লড়াই করছেন।

একজন মহিলা হয়ে এই লড়াইয়ে তিনি পাশে পেয়েছেন তার মাকে। প্রতিনিয়ত রেশন তুলতে এই দীর্ঘ পথে তাঁর সাথে মা থাকেন। গৌরী দেবী বলেন, লকডাউনের জেরে শ্রমিকের কাজ বন্ধ হয়েছে আমার। তাই এই মুহূর্তে রেশন সামগ্রী তোলার জন্য এই দীর্ঘ পথ প্রতি সপ্তাহে পাড়ি দেই আমি।

Related Articles

Back to top button
Close