fbpx
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গশিক্ষা-কর্মজীবনহেডলাইন

পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসায় ভূগোলের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা সকলেই হিন্দু

মোকতার হোসেন মন্ডল: পশ্চিমবঙ্গে ১২টি ইংরেজি মাধ্যম মাদ্রাসায় ভূগোলের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সবাই হিন্দু বলে জানা গেছে। রাজ্যে মাদ্রাসায় এ বছর প্রায় ১২ শতাংশের বেশি ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা দিয়েছিল। মেধাতালিকাতেও বহু হিন্দু জায়গা করে নিয়েছে। বেশ কয়েক বছর থেকে এই ছবি দেখা যাচ্ছে। এইসব মাদ্রাসায় শিক্ষকদেরও একটা বড় অংশ হিন্দু।

 

বর্তমান তৃণমূল সরকার ইংরেজি মাধ্যম মাদ্রাসা শুরু করে। মূলত উন্নত শিক্ষা দিতেই এই উদ্যোগ। সাধারণত মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ করে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন। কিন্তু ইংরেজি মাধ্যম মাদ্রাসাগুলিতে নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয় পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা পিএসসি কে। জানা গেছে, ২০১৭ সালে বারোটি মডেল হাই মাদ্রাসায় বাংলা, ইংরাজি, অংক, আরবি, ভূগোল বিষয় শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে পিএসসি। প্রতিটি বিষয়ই ১২ টি করে শূন্য পদ ছিল। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে, যোগ্যতা মানের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছিল, চাকরিপ্রার্থীদের ইসলামিক জ্ঞান থাকা বাধ্যতামূলক। ২৪ জুলাই ভূগোলের যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়েছে, সেই তালিকায় একজনও মুসলিম প্রার্থীর নাম নেই বলে জানা গেছে। ৪৬ জনকে ইন্টারভিউতে ডাকা হয়েছিল, যারমধ্যে ১৬ জন মুসলিম চাকরিপ্রার্থী ছিল।  ভূগোলের চূড়ান্ত তালিকায় ১০০ শতাংশ হিন্দু চাকরিপ্রার্থী জায়গা পেলেও ইংরেজি ও অংকে কিছু মুসলিম চাকরি প্রার্থীর নাম আছে।

 

তবে মাদ্রাসায় ব্যাপক পরিমাণে হিন্দু শিক্ষক নিয়োগে অনেকে ‘সম্প্রীতি’ দেখছেন। তাদের মতে, মাদ্রাসা একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেখানে যোগ্য শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের পড়াবেন, এতে হিন্দু-মুসলিম না খোঁজা ভালো। বরং মাদ্রাসায় হিন্দু শিক্ষক এতে সম্প্রীতির বার্তা যাবে। কিন্তু মুসলিম সমাজের একাংশ বিষয়টিকে ভালোভাবে নিচ্ছে না। মুসলিম নেতারা বলছেন, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন থাকতে ইংরেজি মাধ্যম মডেল মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ পিএসসি করবে কেন? মাদ্রাসা সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান, সেখানে ইসলামের অনেক কিছু থাকে।তাছাড়া আরবি বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের তালিকা এখনও পিএসসির ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ।

রাজ্যের প্রাক্তন সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা দপ্তরের মন্ত্রী আব্দুস সত্তার বলেন, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার খবর পেয়েছি। এটা থেকে পরিষ্কার, যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সংখ্যালঘুর মর্যাদা দেয়া হয়েছিল, সেই উদ্দেশ্য পালনে কোথাও যেন ব্যর্থ হচ্ছে। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ আমার কাছে আসছে। কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য গণমাধ্যমকে বলেছেন, মাদ্রাসা শিক্ষার সম্প্রসারণ ঘটাতে হলে,অবশ্যই ঐ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুসলিম ছেলে-মেয়েদের শিক্ষকতার চাকরি দিতে হবে। এটা না করা মানে, মুসলিম ছেলে মেয়েদের প্রতি অবমাননা করা হচ্ছে বলে মনে করি। সাংসদ বিকাশ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পাবলিক সার্ভিস কমিশনে যারা বসে আছেন, তারা সকলেই তৃণমূলের রাজনৈতিক লোক।

 

বিকাশবাবু আরো জানান,পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে একাধিক মামলা হয়েছে। দুর্ভাগ্য যে সে মামলাগুলো নিষ্পত্তি হয় না। যার কারণে দুর্নীতির বাড়বাড়ন্ত। সিপিএম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন,ইংরেজি মডেল হাই মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা সংখ্যালঘু চাকরিপ্রার্থীর নাম নেই, এটা বড় নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, যে তালিকা প্রকাশ হয়েছে সেটা কি স্বচ্ছ? পাবলিক সার্ভিস কমিশনের যে সুনাম ছিল, আজ দুর্নীতিপরায়ণ লোকেদের জন্য সেটা শেষ হয়ে গিয়েছে।
এদিকে ফুরফুরার পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী,আব্বাস সিদ্দিকী, সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সহ একাধিক সংখ্যালঘু মুসলিম নেতা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button
Close