fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কারখানার চাল সারানোর জন্য তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ, অবশেষে হস্তক্ষেপ প্রশাসনের

মনোজ চক্রবর্তী, হাওড়া: আমফানে উড়ে যাওয়া কারখানার চাল সারানোর জন্য পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগে অবশেষে হস্তক্ষেপ করলো প্রশাসন। উল্লেখ্য গত জুন মাসের আমফান ঝড়ের সময় উড়ে যায় লিলুয়া থানার জগদীশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবীপাড়ার বাসিন্দা নস্কর দম্পতির জীবিকার একমাত্র অবলম্বন কারখানার শেড। এরপর কিছুদিন আগে বেশ কিছু টাকা-পয়সা একত্রিত করে সেই শেডটি সারাতে শুরু করেন হাওড়া জগদীশপুর দেবী পাড়া এলাকার বাসিন্দা গোবর্ধন নস্কর এবং তার স্ত্রী জ্যোৎস্না নস্কর।

অভিযোগ, তখনই স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান তথা তৃণমূল নেতা গোবিন্দ হাজরা দলবল নিয়ে এসে তাদের কাজ থামাতে বলেন। সরাসরি কুড়ি হাজার টাকা তোলা দাবী করেন। নইলে তাদের কারখানা সারাতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেন। শুধু তাই নয়, সেই দাবি মানতে রাজি না হওয়ায় গোবর্ধন নস্কর নামের ওই ব্যক্তিকে গোবিন্দ হাজরা এবং তার লোকজন মারধর করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এরপর তারা স্থানীয় লিলুয়া থানায় এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু তাতে কোন কাজ না হওয়ায় কার্যত বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার জেলাশাসকের দফতরের সামনে অবস্থানে বসেছিলেন স্বামী-স্ত্রী। এরপর বিষয়টি নজরে এলে বুধবার ওই দম্পতিকে ডেকে পাঠান হাওড়া সদরের এসডিও।

যদিও এই বিষয়ে সমস্ত অভিযোগ মঙ্গলবার অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জগদীশপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান গোবিন্দ হাজরা। তিনি বলেন, এটা পারিবারিক বিবাদের জেরে হয়েছে। এর সঙ্গে তার কোনও যোগাযোগ নেই। যদিও এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন দম্পতি। এদিকে বনমন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জীর ছায়ায় থাকার ফলে অভিযুক্ত প্রধানের বিরুদ্ধে পুলিশ গড়িমসি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপির জেলা সভাপতি সুরজিৎ সাহা। ওই দম্পতির একটি জমি হাতানোর অভিযোগও রয়েছে প্রধানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের হাওড়া জেলা (সদর ) সভাপতি অরূপ রায় বলেন, “কোনও অন্যায়কে প্রশয় দিই নি। আগেও তিনজন দলীয় কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। যদি এদের বিরুদ্ধেও দোষ প্রমাণিত হয়, তাহলে উচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেবো।”

Related Articles

Back to top button
Close